ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমে অবস্থিত হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.আ.)-এর মাজারে আয়োজিত এক ধর্মীয় সমাবেশে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন নাসের রাফিয়ি বলেছেন, ইরানের জনগণ শহীদ নেতার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কখনও বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু তা অবশ্যম্ভাবী ও অস্বীকারাতীত।’

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আয়োজিত এ ধর্মীয় সমাবেশে তিনি বলেন, তেহরান, কোম ও মাশহাদে বিশ্ব শিয়া মুসলিমদের প্রখ্যাত মারজা ও তাঁর পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি তাঁর উচ্চ মর্যাদারই প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, ৩৭ বছরের নেতৃত্বকাল এবং তাঁর শাহাদাত—উভয়ই ইরানের জন্য বহু কল্যাণ বয়ে এনেছে।

তিনি বলেন, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে জনগণের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ‘শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধ’। তাঁর ভাষায়, জনগণ আন্তরিকভাবে এ দাবির বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছে।

হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহ তাআলা চারবার নিজের জন্য ‘আল-মুনতাকিম’ (প্রতিশোধ গ্রহণকারী) বিশেষণ ব্যবহার করেছেন এবং ‘ইন্তিকাম’ (প্রতিশোধ) শব্দটি কুরআনে প্রায় ১৪ বার এসেছে। এ ছাড়া প্রতিশোধ-সংশ্লিষ্ট ক্রিয়াপদও বহু আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর মতে, প্রতিশোধ আল্লাহর অবিচল বিধানগুলোর অন্যতম।

তিনি বলেন, কখনও অত্যাচারীরা একে অপরের মাধ্যমে শাস্তি পায়, কখনও প্রাকৃতিক উপায়ে এবং কখনও মুমিনদের হাতে আল্লাহর প্রতিশোধ কার্যকর হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাদ্দাম হোসেনের পতন এবং আব্বাসীয়দের হাতে উমাইয়া শাসনের অবসানের কথা উল্লেখ করেন।

সূরা সাদের ১২ ও ১৩ নম্বর আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি বলেন, অতীতের বহু জাতি—যেমন নূহ (আ.)-এর কওম, আদ, লূত (আ.)-এর কওম এবং ফিরআউন—আল্লাহর গজবের শিকার হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পানি, বাতাস, মাটি ও আগুন—যা মানুষের জীবনের অপরিহার্য উপাদান—সেগুলোই তাদের জন্য শাস্তির মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।

নাহজুল বালাগার ১০৫ নম্বর খুতবার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, হযরত আলী (আ.) ঘোষণা করেছিলেন, অন্যায়ভাবে নিহত প্রত্যেক মজলুমের রক্তের দাবিদার রয়েছেন, আর সেই দাবিদার স্বয়ং আল্লাহ। তিনি আরও বলেন, হযরত আলী (আ.) উমাইয়াদের ক্ষমতার উত্থান ও পতনের বিষয়েও পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীকালে বাস্তবায়িত হয়।

তিনি বলেন, উমাইয়ারা প্রায় ৯০ বছর শাসন করার পর আব্বাসীয়দের হাতে তাদের শাসনের অবসান ঘটে এবং তারা অপমানজনক পরিণতির মুখোমুখি হয়।

হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু তা অনিবার্য ও অস্বীকারাতীত।’

নাহজুল বালাগার ১১৬ নম্বর খুতবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, হযরত আলী (আ.) বসরা ও কুফার জনগণকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তাঁরা যদি তাঁকে একা ছেড়ে দেন, তবে আল্লাহ তাদের ওপর এমন এক অত্যাচারী শাসককে ক্ষমতায় আনবেন, যে তাদের সম্পদ লুট করবে এবং তাদের ওপর চরম নির্যাতন চালাবে। হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ির মতে, এই বক্তব্য পরবর্তীকালে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের শাসনের মাধ্যমে বাস্তব রূপ লাভ করে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, আল্লাহর প্রতিশোধ দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জগতেই কার্যকর হয়। ইতিহাসে লিপিবদ্ধ ঘটনাগুলো দুনিয়ার প্রতিফলনের কিছু উদাহরণ মাত্র; আর চূড়ান্ত প্রতিফল সংঘটিত হবে কিয়ামতের দিন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha