ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অতীতে ইরানবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে দিতে সৌদি মুফতি ও ধর্মীয় প্রচারকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইয়েমেনের গণমাধ্যমকর্মী মুহসিন আলী আল-জামাল। তাঁর মতে, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের মাধ্যমে সৌদি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের একটি অংশ ইরানের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধকে ধর্মীয় শত্রুতায় রূপ দিয়েছিলেন, যার প্রভাব ইয়েমেনসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন সংঘাতেও পড়েছে।
হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইয়েমেনের সংবাদমাধ্যম আফাক নিউজে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মুহসিন আলী আল-জামাল সৌদি মুফতি ও ধর্মীয় প্রচারকদের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অতীতে তাঁদের কেউ কেউ ইরানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বক্তব্য ও ফতোয়া প্রচার করেছেন এবং দেশটিকে ‘মাজুস’ আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক বিরোধকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়েছেন।
আল-জামাল প্রশ্ন তোলেন, সৌদি আরব যদি এখন ইরানের সঙ্গে আলোচনা ও সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগোতে পারে, তাহলে অতীতে কেন ইরানবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল? তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে ধর্মীয় বিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করার ফলে দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ আরও গভীর হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিদ্বেষ ছড়িয়েছে।
ইয়েমেনের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক বক্তব্য ও প্রচারণার প্রভাব শুধু ইরান-সৌদি সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতেও এর প্রতিফলন ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক স্লোগান ব্যবহার করে দক্ষিণ ইয়েমেনের তরুণদের নিজেদের দেশের অন্য জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এর ফলে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অসংখ্য পরিবারকে স্বজন হারানোর বেদনা বহন করতে হয়েছে।
আল-জামালের মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অবস্থান বদলাতে পারে। কিন্তু সাম্প্রদায়িক প্রচারণার কারণে সমাজে যে বিভেদ, বিদ্বেষ ও ক্ষত তৈরি হয়, তা সহজে দূর হয় না। রাজনৈতিক বিরোধকে ধর্মীয় শত্রুতায় রূপ দেওয়ার পরিণতি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই ভোগ করতে হয়।
তিনি মনে করেন, অতীতে প্রচারিত ইরানবিরোধী বক্তব্য ও সাম্প্রদায়িক বয়ানগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিরোধ নিরসনে কূটনৈতিক সংলাপের পথ খোলা থাকলে ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে শত্রুতা ছড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত।
আপনার কমেন্ট