রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ২১:১৮
এনপিটি ছাড়ার প্রস্তুতি? ইরানের পার্লামেন্টে প্রস্তাব জমা

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে ইরানের প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইব্রাহিম আজিজি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে একটি শক্তিশালী ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, প্রতিরোধ ফ্রন্টের ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সমীকরণ, ইরানের পরমাণু ইস্যু এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এসব বিষয়ের প্রতিটিই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) দুর্বল ভূমিকার সমালোচনা করে আজিজি বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, আইএইএ দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক ক্লাবে পরিণত হয়েছে এবং এর কারিগরি ও বিশেষায়িত দায়িত্ব থেকে সরে গেছে। বর্তমানে সংস্থাটি যে কারিগরি ও পেশাদার ভূমিকার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা আর পালন করছে না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।”

আজিজি জোর দিয়ে বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর হাতে আইএইএকে কোনোভাবেই হাতিয়ারে পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়। আইএইএর সনদ অনুযায়ী সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ধারক দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বছরের পর বছর ধরে সংস্থাটি এসব দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

এনপিটি থেকে ইরানের প্রত্যাহারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা’ শিরোনামে কয়েকটি আইনগত প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। বহু সংসদ সদস্য এসব প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। প্রস্তাবগুলো পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশন এবং আইনবিষয়ক উপ-দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সরকারের সব স্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অভ্যন্তরে একটি ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।”

ইরানি এই আইনপ্রণেতার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করছে। চলতি মাসের শুরুতে ২০২৬ সালের জি২০ সম্মেলনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

বেসেন্ট দাবি করেন, ইরানে এখন “তিন-চার ঘণ্টা দীর্ঘ পেট্রোলের লাইন” তৈরি হচ্ছে। মার্কিন নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা তুলে ধরতে তিনি বলেন, “বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি সম্পদের অধিকারী একটি দেশকে পেট্রোল আমদানি করতে হচ্ছে—এমন কোনো দেশকে কি আপনারা কল্পনা করতে পারেন?”

মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের অবরোধ রয়েছে এবং আমরা চাপ অব্যাহত রাখব।”

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থাপিত চিত্রের সঙ্গে বাস্তবতার ভিন্নতা রয়েছে।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর ইরানের একদল সংসদ সদস্য এক বিবৃতিতে এনপিটিতে ইরানের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তাদের দাবি, চুক্তিটি ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কিংবা চুক্তির মাধ্যমে প্রত্যাশিত সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এনপিটি ‘পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে অঙ্গীকার’ এবং ‘সদস্য দেশগুলোর অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা’—এই পারস্পরিক ভারসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলো, বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রমাণ করেছে যে এই চুক্তিকে ঘিরে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক কাঠামো কার্যকারিতা হারিয়েছে, কাঠামোগতভাবে বৈষম্যমূলক হয়ে পড়েছে এবং ইরানের ন্যূনতম আইনগত অধিকারও নিশ্চিত করতে অক্ষম।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha