দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল শেকারচি বলেন, মার্কিন উসকানি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরানের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজই এই জলপথে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে জেনারেল শেকারচি বলেন, ১৯৮০-এর দশকের ওই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সংঘটিত সেই যুদ্ধ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাসিজ বাহিনীর মাধ্যমে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততাকে তিনি অন্যতম সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
জেনারেল শেকারচির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের সামরিক বাহিনী প্রচলিত যুদ্ধকৌশল থেকে অসম যুদ্ধকৌশলের দিকে অগ্রসর হয়। এই কৌশলের আওতায় তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও সরল কিন্তু কার্যকর সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল ও ভারী অস্ত্রব্যবস্থাকে মোকাবিলা করা হয়।
তিনি বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আহত সেনাদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ করাও ইরানের জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশটি আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে অতীতের যুদ্ধগুলোর শুরুর সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী বলেও দাবি করেন জেনারেল শেকারচি। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন হলে ইরানের হাতে নতুন সামরিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘চমক’ রয়েছে।
জেনারেল শেকারচি আরও বলেন, ইরান প্রতিবেশী কোনো মুসলিম দেশের সার্বভৌমত্বে হামলা করেনি। তাঁর দাবি, এসব দেশে ইরানের পাল্টা হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।
প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। ‘শত্রুর’ মোকাবিলায় ইরান সামান্যতম পিছু হটবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে জেনারেল শেকারচি বলেন, ইরানের নির্ধারিত নৌপথের বাইরে দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটি নিরাপদ থাকবে না। প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে তার আগের অবস্থানে ফিরে আসতে দেবে না। পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা ছাড়া তাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, মার্কিন বাহিনী যত দ্রুত এই অঞ্চল ত্যাগ করবে, তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তত কম হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গে জেনারেল শেকারচি বলেন, ইরানের ‘শহীদ নেতা’ ও ইরানি জনগণের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও অব্যাহত থাকবে। তাঁদের কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আপনার কমেন্ট