হাওজা নিউজ এজেন্সি: শনিবার তেহরানের ইমাম আলী (আ.) অফিসার্স একাডেমিতে আয়োজিত প্রথম জাতীয় ‘সারবাজ’ (সৈনিক) উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। তবে ইরান এ যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে এবং সেই বিজয়কে সর্বোত্তম উপায়ে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আগ্রাসী শত্রু ইতোমধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে। তবে তাকে শক্তিশালী ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পক্ষ থেকে আরও কঠোর আঘাত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ শহীদ সাইয়্যেদ আব্দুর রহিম মুসাভির স্মরণে আয়োজিত এ উৎসবের বিষয়ে সেনাপ্রধান বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর হামলায় নিহত শহীদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুসাভির স্মৃতি ও অবদানকে সম্মান জানানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশের বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
জেনারেল আমির হাতামি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “যুদ্ধ শেষ হয়নি। শত্রুর বিরুদ্ধে ইরানি বাহিনীর আরও কঠোর আঘাতের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই অঞ্চল অনিরাপদ হয়ে পড়লে এর প্রভাব সবার ওপরই পড়বে। আমরা এখানে বসবাস করব, অথচ অন্যরা দূরবর্তী অঞ্চল থেকে এসে এ অঞ্চলের সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করবে—এটা হতে পারে না।”
প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আমির হাতামি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা নিরাপত্তা বয়ে আনে না। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এ অঞ্চলের দেশগুলোকেই।”
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীকে অঞ্চল থেকে সরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত প্রকৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, সেই দিন খুব বেশি দূরে নয়।
এর আগে ‘সেক্রেড ডিফেন্স উইক’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেছিলেন, দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা করবে না।
আপনার কমেন্ট