হাওজা নিউজ এজেন্সি: মহানবী (সা.)-এর একটি বর্ণনার আলোকে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মুহাম্মাদ হাদি ফালাহ—হাওজা ইলমিয়ার নৈতিকতা বিভাগের শিক্ষক—অন্যকে উপহাস করার পরিণতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন।
মহানবী (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন একজন উপহাসকারীর সামনে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে, ‘এসো।’
দুনিয়ায় যে ব্যক্তি অন্যদের উপহাস করত, সে তখন গভীর দুঃখ ও বিষণ্নতায় আচ্ছন্ন অবস্থায় সেই দরজার দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু যখন সে জান্নাতের দরজার কাছে পৌঁছাবে, তখন তার সামনে দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এরপর তার সামনে অন্য একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং তাকে আবার বলা হবে, ‘এসো।’ সে আবার সেই দরজার দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু সেখানেও পৌঁছানোর আগেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এভাবে বারবার তার সামনে জান্নাতের দরজা খোলা হবে এবং তাকে প্রবেশের আহ্বান জানানো হবে; কিন্তু সে এগিয়ে গেলেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এই ঘটনাগুলো মূলত দুনিয়ায় তার করা উপহাসেরই বাস্তব প্রতিফলন। সে দুনিয়ায় আল্লাহর আয়াত, ধর্মীয় পবিত্র বিষয়, মুমিন ও অন্যান্য মানুষকে নিয়ে যে উপহাস করত, কিয়ামতের দিন সেই আচরণই বাস্তব রূপে তার সামনে প্রকাশ পাবে।
অর্থাৎ, দুনিয়ায় সে যেভাবে অন্যদের অপমান ও উপহাস করত, আখিরাতে তাকে তারই অনুরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
শেষ পর্যন্ত আবারও তাকে বলা হবে, ‘এসো।’ কিন্তু তখন সে বুঝতে পারবে যে, তার সঙ্গে উপহাস করা হচ্ছে। ফলে সে আর সামনে এগোবে না। আর এই অবস্থাই তার কষ্ট ও শাস্তিকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
এই বর্ণনা মানুষকে অন্যকে উপহাস, বিদ্রূপ ও অপমান করা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেয়। বিশেষ করে আল্লাহর আয়াত, ধর্মীয় পবিত্র বিষয় এবং মুমিনদের অবমাননা বা উপহাসের ভয়াবহ পরিণতির কথা এতে তুলে ধরা হয়েছে।
তাই মানুষের উচিত কথাবার্তা ও আচরণে সংযমী হওয়া এবং কাউকে হেয় বা অপমান না করা। কারণ দুনিয়ায় অন্যকে উপহাস করার যে আচরণ মানুষ করে, আখিরাতে তারই প্রতিফলনের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
আপনার কমেন্ট