সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৪:৪৫
সর্বোচ্চ নেতা: ইরান সেই যুগে ফিরে যাবে না, যে যুগে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন শত্রু দেখে

ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা বলেন: এক কথায়-ইরান সেই যুগে আর ফিরে যাবে না, যে যুগে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন শত্রু দেখে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হুসাইনি খামেনেয়ী আরোপিত প্রথম যুদ্ধের সূচনালগ্নের দিনগুলো এবং ইরানি জাতির আট বছরের ঐতিহাসিক ও অবিচল প্রতিরোধের বার্ষিকী উপলক্ষে এক বার্তায় বলেন, আধিপত্যবাদীরা বিপ্লবের প্রথম দশকে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে ইরানকে পশ্চাৎপদতা, ‘লাঞ্ছনা ও অপমান’, পরনির্ভরতা এবং বিশ্বে দুর্নামের সেই যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ব্যাপক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইসলামী ব্যবস্থা আগের চেয়ে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে, আরও উচ্চকণ্ঠে ও আরও উঁচুতে উড্ডয়ন করে ফিনিক্সের মতো পুনরুত্থিত হয়েছে। পরবর্তীকালে শত্রু-সৃষ্ট বিভিন্ন ঘটনায়ও এই বৈশিষ্ট্য অব্যাহত থেকেছে। আর এখন শত্রুর চাপ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুটি আরোপিত যুদ্ধের কারণে সেই ফিনিক্স এতটাই বিশাল হয়েছে যে তার উড্ডয়নের ছায়া শত্রুদের ভূখণ্ডেও পড়েছে।

ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা প্রতিরোধ ফ্রন্টের বীর আরব কমান্ডার ও মহান প্রতীক, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী স্মরণ করে এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শায়খ নাঈম কাসেম ও হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের আশুরাময় প্রতিরোধ ও সংগ্রামের প্রশংসা করে বলেন, লেবাননের বর্তমান দিনগুলো প্রতিরোধের সব মুজাহিদের জন্য গৌরবময় ও স্মরণীয় দিন। পক্ষান্তরে, যারা ইসরায়েলি শত্রুর মোকাবিলায় আধিপত্যবাদী ও নিজেদের বিদ্বেষীদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ওপর আশার দৃষ্টি স্থাপন করেছে, তাদের জন্য এসব দিন অপমান ও শেষ পর্যন্ত লজ্জার দিন হয়ে থাকবে।

ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার বার্তার পূর্ণ পাঠ:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 “আর অবশ্যই আমরা মূসাকে আমার নিদর্শনাবলি দিয়ে পাঠিয়েছিলাম-(বলেছিলাম,) তোমার জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনো এবং তাদেরকে আল্লাহর দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দাও।” ¹

মেহের মাসের শুরুর দিনগুলো আমাদের জন্য স্মরণ করিয়ে দেয় আল্লাহর দিনসমূহ এবং ইরানি জাতির প্রথম আরোপিত যুদ্ধে আট বছরব্যাপী বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের সেই মহান ও চিরস্মরণীয় ঘটনাকে। সেই দিনগুলোতে ইরানের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে বিপ্লবের উষ্ণ সূর্যের আলো জাতীয় ঐক্য এবং বিপ্লবী ইসলামের আদর্শ ও পথের প্রতি আনুগত্যের এক মনোরম অনুভূতি ছড়িয়ে দিয়েছিল। এর প্রভাবে প্রাচীন ও আধুনিক আধিপত্যবাদ এবং ঔপনিবেশিকতার বরফ গলতে শুরু করেছিল।

সেই সময় ইরানের কিছু মানুষ এর দুই দশকেরও বেশি আগে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর বিরূপ কর্মকাণ্ড, তেলশিল্প জাতীয়করণ এবং মার্কিন-সমর্থিত অভ্যুত্থানের ঘটনাগুলোর কথা মনে রেখেছিলেন। অন্যরা সেসব ঘটনা শুনেছিলেন। আবার অনেকেই খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, দেশের ওপর বিদেশিদের আধিপত্য কী ধরনের পরিণতি ডেকে এনেছিল।

কিন্তু এর আগের দিনগুলো ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর রাষ্ট্রদূতেরা ইরানের শাহকে কী করতে হবে এবং কী করতে হবে না-তা নির্দেশ দিতেন, আর তিনি স্বেচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় সেগুলো বাস্তবায়ন করতেন। অবশেষে ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর নেতৃত্বে ইরানি জাতির মহান বিপ্লব সেই ব্যবস্থা ভেঙে দেয়।

এই বিপ্লবের ফলে সেই অন্ধকার দিনগুলো ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আলোকোজ্জ্বল দিনগুলোতে রূপান্তরিত হয়। এটি সেই আধিপত্যবাদীদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল, যারা এই ভূখণ্ডের সম্পদের ওপর লোলুপ দৃষ্টি রেখেছিল এবং বহু বছর ধরে সেগুলো নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য এ দেশের জনগণের প্রতি নানা অন্যায় করেছিল।

তাই এরপর থেকে তারা বিপ্লবী জাতির প্রবল স্রোতকে আবার আগের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের সমস্ত শক্তি ও প্রচেষ্টা নিয়োজিত করে। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পবিত্র অস্তিত্বের প্রথম দশকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল প্রথম আরোপিত যুদ্ধ।

জনগণবিরোধী বাথ পার্টির মাধ্যমে, কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হবে এবং সামান্য প্রচেষ্টায় বিজয় অর্জিত হবে-এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে যে যুদ্ধের আগুন জ্বালানো হয়েছিল, সেই আগুনের মধ্য থেকেই ইসলামী ব্যবস্থা আগের চেয়ে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে ফিনিক্সের মতো পুনরুত্থিত হয়-আগের তুলনায় আরও উচ্চকণ্ঠে এবং আরও উঁচুতে উড্ডয়ন করে। পরবর্তীকালে শত্রু-সৃষ্ট ঘটনাবলিতেও এই ব্যবস্থার এই বৈশিষ্ট্য অব্যাহত থাকে।

যে দিনগুলোতে এই জাতির শত্রুরা তাদের নিজেদের অনুগতদের এ জাতির ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল এবং ঔপনিবেশিকতার একটি নতুন রূপ প্রয়োগ করেছিল, বিপ্লবের বরকতে এবং আরোপিত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসলাম ও জিহাদের পতাকা উড্ডীন করার মাধ্যমে সেগুলো গৌরবময় দিনে পরিণত হয়।

আজ সেই যুদ্ধের সমাপ্তির ৩৮ বছর পরও, এর প্রতিটি ঘটনার বিবরণ এবং বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের বিশ্বস্ত বর্ণনা পর্যালোচনা করলে এমন সব আদর্শ ব্যক্তিত্ব আমাদের সামনে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো আবির্ভূত হন, যাদের প্রত্যেকেই ইবাদত, সাহস, প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন।

যে সময় আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার অনুগত শক্তিগুলো আগ্রাসন শুরু করেছিল এবং আমাদের দেশকে বহু হুমকির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য তৎকালীন স্বৈরশাসন থেকে প্রায় শূন্য হাত উত্তরাধিকারসূত্রে পেতে হয়েছিল, আজ সেই পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আল্লাহর সাহায্য ও সত্য প্রতিষ্ঠার কারণে আগ্রাসী আধিপত্যবাদীরাই-তাদের অনুগত শক্তিগুলো নয়-ইসলামের যোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে আশ্রয় খুঁজছে এবং যুদ্ধ বন্ধের জন্য আকুতি জানাচ্ছে।

তারা আমাদের দেশকে যে দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিতে চায়, সেসব দিন ছিল পশ্চাৎপদতা, লাঞ্ছনা ও অপমান, পরনির্ভরতা এবং ইসলামী বিশ্বে ইরানের দুর্নামে পরিপূর্ণ। আর আমরা যে দিনগুলোতে বাস করছি, সেগুলো উন্নতি, মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং ইসলামী বিশ্বে-বরং সমগ্র বিশ্বে-সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মানে পরিপূর্ণ।

আজ কেউ কেউ আমাদের বিশ্বের চতুর্থ পরাশক্তি বলে মনে করে। অবশ্য তারা পার্থিব হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে এ কথা বলে। কিন্তু ঐশী হিসাব অনুযায়ী, যে দেশ নিজেকে পবিত্র আহলে বাইত (আ.)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত মনে করে, যার অধিকাংশ মানুষ সেই মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি অনুরক্ত এবং সত্য প্রতিষ্ঠার পথে ভীত নয়-তাকে বিশ্বশক্তির প্রথম সারিতে গণ্য করা হয়।

একসময় ইরানের দক্ষিণের দুই সমুদ্র ছিল শত্রু বাহিনীর বিচরণক্ষেত্র। কিন্তু আজ হরমুজ প্রণালীর বীর যোদ্ধা ও রক্ষকদের কাছ থেকে যন্ত্রণাদায়ক আঘাত পাওয়ার কারণে তারা আরব সাগরেরও সামনে এগিয়ে আসতে পারছে না। যখনই তারা এই ঝুঁকি নিয়েছে, নিজেদেরই ক্ষতি করেছে। আর খুব শিগগিরই আরব সাগরও তাদের থেকে নিজেকে মুক্ত করবে।

এমনও দিন ছিল, যখন আধিপত্যবাদীরা মনস্তাত্ত্বিক অভিযান ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে রাজধানীর রাস্তাগুলো জনশূন্য করে ফেলেছিল এবং এ জাতির স্বাধীনতাকামী আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল। এরপর তারা ২৫ বছর ধরে এ দেশের সম্পদ লুট করেছে।

কিন্তু আজ সাত মাস ধরে আমাদের দেশবাসী সমগ্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ময়দান ও সড়কগুলোকে তাদের দায়িত্বশীল ও উদ্দীপ্ত উপস্থিতির মাধ্যমে সুশোভিত করে রেখেছে, যাতে ইসলামের যোদ্ধাদের মনোবল দৃঢ় থাকে এবং শত্রু আতঙ্কিত হয়।

একইভাবে, ৩০ মিলিয়নেরও বেশি ইরানি আত্মোৎসর্গের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন। এরপর যখন তাদের উপস্থিতি পুনরায় সংগঠিত করার জন্য নিবন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়, তখন মাত্র প্রথম ১০০ মিনিটের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পাঁচ লক্ষেরও বেশি সংখ্যক মানুষ তাদের সক্ষমতা পূর্ণ করে ফেলেন।

বর্তমানে সমগ্র ইসলামী ইরানে-যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ইরানিরা উপস্থিত-বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি ও বিশেষ করে সশস্ত্র প্রস্তুতির ঘোষণা রয়েছে, যাতে এমন এক যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করা যায় যেখানে তাদের জন্য নাম ও সম্মান এবং শত্রুর জন্য কলঙ্ক নির্ধারিত হবে।

একসময় এই ভূখণ্ডের মানুষের সাহসিকতা বলতে পুরুষদেরই বোঝানো হতো। কিন্তু এখন আমরা এমন এক সময়ে রয়েছি, যখন সাহসী উপস্থিতির কিছু ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদেরও অতিক্রম করছেন।

একসময় শত্রুরা চেষ্টা করেছিল ব্যবস্থাটির সামাজিক ভিত্তিকে ক্রমাগত দুর্বল করে দিতে। কিন্তু আজ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-যাদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে-নিজেদের ন্যায্য অবস্থান রক্ষা এবং বিশেষ করে কল্যাণ ও বরকতে পরিপূর্ণ হরমুজ প্রণালী রক্ষার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

অতীত ও বর্তমান দিনের এই তুলনা আরও বিস্তৃত ও ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু এক কথায়, প্রিয় ইরানি জনগণের খাদেম হিসেবে আমি ঘোষণা করছি-অতীতের সেই দিনগুলো, যেসব দিনে আমাদের শত্রু ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, তা অতীত হয়ে গেছে এবং আর কখনো ফিরে আসবে না।

অবশ্য আমাকে বেদনা ও দুঃখের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে যে, আজকের এই দিনগুলোতে মহান ইমাম খোমেনী এবং মহান মর্যাদার অধিকারী শহীদ খামেনেয়ীর-আল্লাহ তাঁদের মর্যাদা উচ্চ করুন-অনুপস্থিতি অত্যন্ত অনুভূত হচ্ছে। দেশের আজকের মর্যাদা তাঁদের নেতৃত্বের কাছে ঋণী।

তবে তাঁদের কর্ম এবং উজ্জ্বল ও পথনির্দেশনামূলক বাণীর যে মূল্যবান ভাণ্ডার তাঁরা তাঁদের অনুসারীদের জন্য রেখে গেছেন, তার বরকতে ভবিষ্যতের দিনগুলো বর্তমান দিনের চেয়েও বহুগুণ মহিমান্বিত হবে।

কারণ প্রথম আরোপিত যুদ্ধের অগ্নিকুণ্ড থেকে যে ফিনিক্সের জন্ম হয়েছিল, শত্রুর চাপ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুটি আরোপিত যুদ্ধের কারণে তা এখন এতটাই বিশাল হয়ে উঠেছে যে তার উড্ডয়নের ছায়া শত্রুদের ভূখণ্ডের ওপরও পড়েছে।

এই প্রসঙ্গে প্রতিরোধ ফ্রন্টের আরব বীর কমান্ডার ও মহান প্রতীক, মরহুম শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ-আল্লাহ তাঁর পবিত্র আত্মার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন-এর দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে স্মরণ করা অত্যন্ত যথাযথ।

তিনি ছিলেন নিজের জনগণ ও নিজের আদর্শের একজন আন্তরিক কল্যাণকামী। তাঁর সত্যনিষ্ঠ ও হৃদয়গ্রাহী ভাষণ এবং সাহসী কর্মকাণ্ড তাঁর জনগণ, এমনকি বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়কে দৃঢ় করত।

তিনি ছোট্ট দেশ লেবাননের নামকে মহান উচ্চতায় উন্নীত করেছিলেন-যে দেশটি বহু বছর ধরে কিছু শক্তির প্রভাবাধীন ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিজয় ও সাহায্য ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। নিঃসন্দেহে শামের সমগ্র ইতিহাসে, নবী ও তাঁদের ওসিয়্যাদের পর, বর্তমান সময় পর্যন্ত সেই প্রাচীন ভূখণ্ডে তাঁর মতো মহান কোনো ব্যক্তিত্ব মাথা তুলে দাঁড়াননি।

আর এখন তাঁর গৌরবময় পতাকা শায়খ নাঈম কাসেম-আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন-এর হাতে রয়েছে। তিনি হিজবুল্লাহর সুদৃঢ় ও আশুরাময় সারির সম্মুখভাগে বীরত্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে তাঁর পথ অব্যাহত রেখেছেন।

লেবাননের বর্তমান দিনগুলো ইতিহাসের বিচারে, বরং এখন থেকেই, তাঁর এবং প্রতিরোধের সব মুজাহিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় দিন। পক্ষান্তরে, যারা ইসরায়েলি শত্রুর মোকাবিলায় আধিপত্যবাদী ও নিজেদের বিদ্বেষীদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ওপর আশার দৃষ্টি স্থাপন করেছে, তাদের জন্য এসব দিন অপমান ও শেষ পর্যন্ত লজ্জার কারণ হয়ে থাকবে।

অন্যদিকে, শহীদ সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহ, সাইয়্যেদ হাশেম সাফিউদ্দিন এবং বর্তমান প্রতিরোধের মুজাহিদরা-যারা সময়ের ধারাবাহিকতায় উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো আলো ছড়াবেন এবং বিভ্রান্তির মধ্যে পথহারা পথিকদের পথ দেখাবেন-তাঁদের বিপরীতে এসব মানুষ ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলো প্রথম উল্টানোর সময়ই খুব দ্রুত সমাহিত ও বিস্মৃত হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে যখনই তাদের কথা স্মরণ করা হবে, তা হবে মন্দ, অবিবেচনা, এমনকি সম্ভবত বিশ্বাসঘাতকতার স্মারক হিসেবে।

পরিশেষে আমি আশা করি, আল্লাহর অব্যাহত অনুগ্রহ এবং আমাদের প্রভু ইমাম মাহদি (আ.)-আল্লাহ তাঁর আবির্ভাবকে ত্বরান্বিত করুন এবং আমাদের প্রাণ তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোক-এর বিশেষ দোয়ার বরকতে ইরানি জাতি ও প্রতিরোধের সকল সহযোগী যেন বিজয়, সাফল্য ও মর্যাদা ছাড়া আর কিছুই প্রত্যক্ষ না করে এবং তাদের শত্রুরা যেন পরাজয় ও লাঞ্ছনা ছাড়া আর কিছুই না দেখে-আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায়।

সাইয়্যেদ মুজতবা হুসাইনি খামেনেয়ী
৬ মেহের ১৪০৫

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha