বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৮:১৯
ফরাসি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্রতর: স্কুলের পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ফরাসী বিদ্যালয় সমূহের করুণ অবস্থা নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ঘনীভূত ও তীব্র হলে পুলিশের সাথে দেশটির ছাত্রছাত্রীদের সংঘর্ষে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে ফ্রান্সে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের দু:খ ও ভোগান্তি সমূহের ব্যাপারে প্রতিবাদ  বিক্ষোভ করে আসছে যেগুলো হচ্ছে: ১. স্কুলের সময়সূচি (timetables), ২. ক্লাসের সাইয বা শ্রেণীর আকার (ক্লাস রূমে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি অর্থাৎ অতিরিক্ত শিক্ষার্থী), ৩. শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি (শিক্ষক সংকট) ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা এবং ৪.সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ জনিত মাত্রাতিরিক্ত উত্তপ্ত ও গরম শ্রেণীকক্ষ!!!!

High school students have staged protests outside their schools since last week over grievances including timetables, class sizes and a shortage of teachers as well as overheated classrooms in the wake of the recent heatwaves.

ফ্রান্সে শিক্ষা বাজেট কমিয়ে দেওয়া এবং শিক্ষা ও বিদ্যালয় খাতে ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে দেশটির বিদ্যালয় সমূহের শিক্ষার্থীদের উপরি উল্লেখিত সমস্যা ও ভোগান্তির উদ্ভব হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মতে ফরাসী শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।শিক্ষকেরা অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছেন।

এক বিক্ষোভ কারী বলেছে যে তাদের স্কুলের প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৩৪ জনে পৌঁছেছে যা কোনো ভাবেই বাস্তব সম্মত নয়।

কিন্তু বিশ্বের ষষ্ঠ শিল্পোন্নত দেশ ও অর্থনৈতিক-সামরিক পরাশক্তির এ কেমন ধ্বজভঙ্গ অবস্থা?!!!!!

ফরাসি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্রতর: স্কুলের পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

দুনিয়ার আনাচেকানাচে ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষকে হত্যা এবং তাদের ধনসম্পদ ও প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ লুণ্ঠন করে এনে ঐশ্বর্য,সম্পদ ও অর্থের পাহাড় বানিয়েও ফ্রান্সের স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের অবস্থা অত্যন্ত করুণ যার জন্য এখন দেশটিতে এ ছাত্র বিক্ষোভ ও ফরাসী পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে বহু আহত এবং চার শোরও বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেফতার যাদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক (নাবালেগ)ছাত্র ছাত্রী।

আর ফ্রান্সের স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা তথা ফ্রান্সের সার্বিক পরিস্থিতি ও অবস্থা আরো অধিক নাজুক ও অবনতিশীল হয়েছে ইরানের ওপর মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও ইতরাইলের (ইসরাইল) চাপানো যুদ্ধের (২৮-২-২০২৬) পর থেকে।

কারণ দেশটি এ (ইরানের ওপর মাযুরা ও ইতরাইলের চাপিয়ে দেওয়া) যুদ্ধের কারণে জ্বালানি শক্তির মূল্য বৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছে এবং এতে করে বিদ্যুত খরচও বেড়ে গেছে যা সার্বিক ভাবে ফ্রান্স সহ সকল ইউরোপীয় ও পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতিকে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্থ করে দিচ্ছে এবং ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশগুলোর শিক্ষাখাতের ওপর বিরূপ ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অথচ ফ্রান্স ইরানের মতো ৪৭ বছর ধরে আরোপিত অত্যন্ত কঠোর তাহরীম (নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ) কবলিত নয় এবং দেশটি ইরানের ওপর মাযুরা ও ইতরাইলের চাপানো যুদ্ধের মতো কোনো যুদ্ধের শিকার হয় নি।

উল্লেখ্য যে ফ্রান্সের স্কুল শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভ কোন বহির্শক্তির ইন্ধন ও উস্কানিতেও হয়নি। কিন্তু ইরানে যে সব গণ্ডগোল, ছাত্র বিক্ষোভ এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়েছে সেগুলোর সবকটি হয়েছিল বিদেশি বিশেষ করে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), ইতরাইল (ইসরাইল) ও পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ মদদ ও উস্কানিতে।

আর ইরানে এ ধরনের বিদেশি উস্কানি ও মদদে কোনো ছাত্র বিক্ষোভ বা যে কোনো ধরনের বিক্ষোভ ও গোলযোগ হলেই সকল পশ্চিমা দেশ ও তাদের প্রচার মাধ্যম সমূহ এক সুরে ও এক যোগে ইরানের বিরুদ্ধে তুমুল প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয় এবং মিথ্যা কথা বলতে থাকে, " ইরানের ছাত্র সমাজ ও সাধারণ জনগণ ইসলামী বিপ্লবী শাসনব্যবস্থা ও সরকারের প্রতি তীব্র রুষ্ট, ক্ষুব্ধ,অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত।ইরানে অতি নিষ্ঠুর পন্থায় প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ও বিক্ষোভ দমন করা হয়।

ইরানে কোনো বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। "ইত্যাদি ইত্যাদি অথচ এই সব পশ্চিমা দেশ যেমন: ফ্রান্সের প্রচার ও সংবাদ মাধ্যম গুলো বর্তমানে চলমান ফরাসী স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভের ব্যাপারে ঠিক এ ধরনের কথা বলছে না: "ফ্রান্সের জনগণ সে দেশের সরকারের প্রতি তীব্র রুষ্ট,ক্ষুব্ধ,অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত।ফ্রান্সে বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই।

ফরাসী পুলিশ অত্যন্ত নিষ্ঠুর কায়দায় ছাত্র বা গণবিক্ষোভ দমন এবং বিক্ষোভ কারীদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে। "এসব কথা ফ্রান্স ও পশ্চিমা দেশগুলোর মূল ধারার সংবাদ ও প্রচার মাধ্যম সমূহ সরাসরি বলে না বা প্রতিবাদী বিক্ষোভ কারীদের বরাত দিয়ে অপ্রত্যক্ষ ভাবে বলে থাকে এবং নিজেদের পক্ষ থেকে সরেজমিনে রিপোর্ট ও প্রতিবেদন হিসাবে বলে না। তাই নিজেদের দোষ-ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও এরা (এ সব পশ্চিমা দেশগুলোর সরকার ও তাদের প্রচার মাধ্যম সমূহ) অন্যদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়।

পশ্চিমারা আসলেই জঘন্য দোষী ও অপরাধী। ওদের পুলিশও তৃতীয় বিশ্বের পুলিশদের মতোই বা তার চেয়েও বেশি নিষ্পেষক, নিপীড়ক ও অত্যাচারী। যেমন: শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিক্যাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি এএফপিকে জানিয়েছেন: "ফরাসী সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।" পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগেরও অভিযোগ করেন তিনি।

অথচ এএফপির সংবাদ দাতা ও সাংবাদিক ফরাসী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ উপস্থিত থাকলেও সরেজমিনে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বিক্ষোভ কারীদের বিরুদ্ধে ফরাসী সরকার ও পুলিশের দমন-পীড়ন ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের রিপোর্ট ও সংবাদ পরিবেশন করা থেকে বিরত থেকেছে।

আসলে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর পুলিশ পশ্চিমা পুলিশের কাছ থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে এবং ওস্তাদের মতো তো শাগরেদ হবেই। ফরাসী তথা পশ্চিমা পুলিশ বিরোধী ও প্রতিপক্ষকে খুবই সুকৌশলে ও নিপূণ ভাবে ও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ঘায়েল, নিশ্চিহ্ন ও দমন করে এবং তা সাধারণত ও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জনগণের চোখে পড়ে না যা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর পুলিশরা এত নিপূণ ভাবে ও দক্ষতার সাথে করতে পারে না বলেই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর পুলিশী দমন, নির্যাতন ও উৎপীড়ন সবার চোখে পড়ে।

ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha