হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯ মেহর (১ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার এমন একটি দিন ছিল, যেদিন ইসফাহান আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখল। আজাদি স্কয়ার থেকে গোলেস্তানে শহীদদের সমাধিক্ষেত্র পর্যন্ত সড়ক ছিল ‘জান-ফিদা’ মানুষের পদচারণায় পরিপূর্ণ। তাদের পদধ্বনি যেন পিচঢালা সড়কে এক নতুন অঙ্গীকারের ছন্দ সৃষ্টি করছিল: আমরা ইসফাহানের মানুষ, ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারী।
এই স্লোগান মানুষের অন্তরের গভীর থেকে উঠে আসছিল এবং শরতের শীতল বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। এটি ছিল এমন এক জনসমষ্টির হৃদয়ের কথা, যারা সর্বান্তকরণে জানাতে এসেছিল-এই মাটি পবিত্র রক্তের আমানত। আর যারা গতকাল আট বছরের পবিত্র প্রতিরক্ষার কঠিন সময়ে সারিবদ্ধ হয়েছিল, আজও তারা একই বংশধারা ও একই আত্মমর্যাদা নিয়ে ময়দানে দাঁড়িয়ে আছে।
জনসমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বৈচিত্র্য ছিল চোখে পড়ার মতো। চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের সাদা কর্মপোশাকে, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ তাদের কঠোর পরিশ্রমে শক্ত হয়ে যাওয়া হাত নিয়ে, ব্যবসায়ীরা, সাদা দাড়ির বৃদ্ধরা লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, উদ্দীপ্ত তরুণরা লাল প্রতিশোধের ফিতা কপালে বেঁধে ছিল এবং সাহসী যাযাবররা পরেছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাক, কোমরে বাঁধা ছিল শাল। রক্তের প্রতিশোধের লাল পতাকা এবং ইরানের ত্রিবর্ণ পতাকা পাশাপাশি উড়ছিল। মনে হচ্ছিল, সব উচ্চারণ, ভাষা ও শ্রেণি একটি কেন্দ্রবিন্দুতে এসে মিলিত হয়েছে-অত্যাচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ, ন্যায়বিচারের দাবি এবং সেই দিনের অপেক্ষা, যেদিন হকের পতাকা ত্রাণকর্তার হাতে উড্ডীন হবে।

শালীনতা ও মহাকাব্যিক চেতনার দৃঢ় স্তম্ভ
এই পদযাত্রায় নারীরা কোনো নীরব দর্শক কিংবা প্রান্তিক সহযাত্রী ছিলেন না; বরং তারা ছিলেন এই বিশাল আন্দোলনের প্রধান স্তম্ভ।
চারদিকে তাকালে দেখা যাচ্ছিল, নারীরা তিন কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ মর্যাদার সঙ্গে অতিক্রম করছেন। এক মা এক হাতে তাঁর কালো চাদরের প্রান্ত সামলে রেখেছেন, আর অন্য হাতে রাস্তার উঁচু-নিচু পথে তাঁর সন্তানের শিশুগাড়ি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর জীবন, পরিবার ও মাতৃত্বকে ময়দানে নিয়ে এসেছিলেন; যেন দেখিয়ে দিচ্ছিলেন-মাটির প্রতিরক্ষা শুরু হয় দোলনা থেকেই।
নারীরা পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। অথচ তাঁদের নারীর শালীনতা ও দৃঢ়তায় সামান্যও ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল না। তারা শৃঙ্খলা ও পদযাত্রার মূল কাঠামো বজায় রেখেছিলেন। তাঁদের মধ্যে শহীদদের মায়েদেরও দেখা গেছে। তাঁরা সাধারণ কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো সন্তানের ছবি এমনভাবে বুকে চেপে ধরে রেখেছিলেন, যেন এখনো সন্তানকে কোলে ধরে আছেন।
আজ যে শহীদ-মায়েরা ‘জান-ফিদা’দের সারিতে হাঁটছিলেন, তারাই সেই নারীরা-যারা বহু বছর আগে তাঁদের সুদর্শন তরুণ সন্তানকে যুদ্ধক্ষেত্রে বিদায় দিয়েছিলেন এবং ফিরে পেয়েছিলেন কেবল কয়েকটি পরিচয়ফলক ও কিছু হাড়। আজ তারা সোজা পিঠ ও উঁচু মাথায়, অভিযোগ বা ক্লান্তির কোনো কথা না বলে জনতার সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের চোখে কোনো অনুশোচনার ছাপ ছিল না; বরং ছিল এমন এক গভীর দৃঢ়তা, যা প্রত্যেক পথচারীকে যেন বলে দিচ্ছিল-এই পতাকা এত সহজে উঁচু হয়নি।
এই মহড়ায় ইসফাহানের নারীরা হয়ে উঠেছিলেন প্রতিরোধের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তাঁরাই সেই নারীরা, যাঁরা না থাকলে এই ভূমির কোনো পুরুষই এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও দৃঢ়তার শক্তি পেত না। তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন-এই দেশের নারী নিষ্ক্রিয়তার কোণে বসে থাকে না, ক্লান্তির কাছে আত্মসমর্পণও করে না; বরং সংকট ও বিপর্যয়ের একেবারে কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে বিশ্বাস, দৃঢ়তা ও জীবনের স্পন্দনকে নিজের হাতে ধারণ করে এবং একটি শহরের সামনে পথ খুলে দেয়।
এই মহড়ার সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর মধ্য থেকে আমি সেই নারীদের কথা বলতে চাই, যারা এই কঠিন সময়ের ঘন ধুলোয় ইতিহাসের জীবন্ত ও জাগ্রত বর্ণনাকারী হয়ে উঠেছেন; সেই নারীরা, যারা নিজেরাই এই মাটির ধৈর্যের আশ্রয় এবং এই বিশাল জাগরণের প্রাণশক্তি।

নারী; এই দেশের আত্মমর্যাদা ও স্থিতিশীলতার পরিচয়পত্র
এই দেশের আত্মমর্যাদাশীল ও সাহসী নারী নিজেই যেন ‘স্বদেশ’-এর সুবাস বহন করেন। তিনি সেই মাটির মতো, যে মাটি প্রতিটি ঝড়ের মধ্যেও তার সন্তানদের জন্য নিজের বুক উন্মুক্ত রাখে; ক্লান্তির জন্য নিঃস্বার্থ আশ্রয় এবং গভীর উদ্বেগের সময়ে শান্তির ঠিকানা হয়ে থাকে।
এই নারীরাই তাঁদের স্নেহময় অথচ দৃঢ় কোলে এমন শিশুদের লালন করেছেন, যারা পথচলার শুরুতেই ছোট্ট শিশুসুলভ হাতে কিন্তু পুরুষোচিত দৃঢ়তায় পতাকাটি দুই হাতে উঁচু করে ধরে রেখেছে। এমন কোনো শিশু হয়তো পতাকার দণ্ডের সমান লম্বা নয়, কিন্তু মায়ের দৃষ্টি থেকে সে শিখেছে-বিপদের মুহূর্তে জীবন উৎসর্গ করতে হয়, মাথা নত করে আত্মসমর্পণ করা যায় না। এই শিশুরাই আগামী দিনের সীমান্তের স্পন্দন; এই মায়েদের দৃষ্টিতেই তারা সাহস ও আত্মমর্যাদার পাঠ শিখছে।
আমাদের মুসলিম ‘জান-ফিদা’ নারীরা এমনই নিঃশব্দ মর্যাদাশীল নারী, যারা কোনো সংকটের মুহূর্তেই হক ও বাতিলের সংগ্রামের ময়দান ছেড়ে যাননি। এই ঘটনাবহুল দিনগুলোর ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁরা পিছু হটেননি এবং ময়দানের অপরিচিত দর্শকে পরিণত হননি।
কিন্তু সত্যিই কি এসব নারীর ওপর অন্য কোনো দায়িত্ব ছিল না?
তাঁদের কি সংসারের খাবারের ব্যবস্থা, ঘর গোছানো, জীবনকে সুশৃঙ্খল করা এবং প্রতিদিনের নানা কাজের চিন্তা ছিল না?
তাঁদের মধ্যে কি এমন চিকিৎসক ছিলেন না, যারা হাসপাতালের কঠিন দায়িত্ব পালন করে রাত জেগে কাটিয়েছেন?
এমন নার্স কি ছিলেন না, যারা রোগীদের শয্যার পাশ থেকে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রের দীর্ঘ করিডোরের অবিরাম ক্লান্তি থেকে এখানে এসেছিলেন?
এমন শিক্ষক ও অধ্যাপক কি ছিলেন না, যাদের কাঁধে পাঠদানের কাগজপত্র, শ্রেণিকক্ষ এবং এই দেশের মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের ভার ছিল?
অথবা সেই মা ও গৃহিণীরা কি ছিলেন না, যাদের জীবনের হাজারো কাজে ঘর তাঁদের স্নেহময় হাত ও নীরব ব্যবস্থাপনার অপেক্ষায় ছিল?
অবশ্যই ছিলেন! তাঁদের প্রত্যেকের কাঁধে জীবনের ভারী বোঝা ছিল। প্রত্যেকে অসংখ্য কাজ, দায়িত্ব, ক্লান্তি ও দৈনন্দিন কর্তব্যের মধ্য থেকে উঠে এসেছিলেন। কিন্তু যখন বৃহৎ অঙ্গীকারের প্রশ্ন সামনে এলো, যখন এই মাটি ও দেশের সম্মান ও মর্যাদার বিষয়টি সামনে এলো, তখন কোনো অজুহাতই তাঁদের পা থামাতে পারেনি। তাঁরা এ কারণে আসেননি যে তাঁদের কোনো কাজ ছিল না; বরং এসেছেন, কারণ তাঁরা ‘ময়দানের মাঝখানে উপস্থিত হওয়াকে’ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কাজ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
রাতের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি, পড়াশোনা ও জীবনের নানা উদ্বেগ ঘরের এক কোণে রেখে তাঁরা চাদর গায়ে জড়িয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। তাঁরা প্রমাণ করেছেন-ইরানি মুসলিম নারী কখনো একটি মাত্র ভূমিকায় সীমাবদ্ধ থাকেন না। তিনি একই সঙ্গে ঘরের উষ্ণ প্রদীপ, অসুস্থের চিকিৎসক, চিন্তার শিক্ষক এবং একই সঙ্গে আত্মমর্যাদা ও প্রতিরোধের সম্মুখসারির নীরব সেনানায়ক হতে পারেন।

প্রতিরোধের উত্তরাধিকার; গতকালের রণাঙ্গন থেকে আজকের আত্মোৎসর্গ
এই দেশের ইতিহাস কখনোই ‘রণাঙ্গনের পেছনে’ নারীদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখেনি। কেউ যদি এমনটি মনে করে থাকেন, তবে তিনি পবিত্র প্রতিরক্ষার অসম্পূর্ণ ও খণ্ডিত ইতিহাস পড়েছেন। বাস্তবতা হলো, সেই সময়ের নারীরা ছিলেন ধৈর্যের নীরব স্থপতি। তাঁরা শুধু পরিবারের সমর্থকই ছিলেন না; বরং সামাজিক মনোবল ও প্রতিরোধের স্পন্দিত প্রাণ এবং যুদ্ধ ও নির্মাণের প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃঢ়তার স্তম্ভ ছিলেন।
সেই সাহসী নারীরা তাঁদের কোলে এমন যোদ্ধাদের লালন করেছেন, যারা মর্যাদার পতাকা সীমান্তের বহু দূর পর্যন্ত নিয়ে গেছে। আর তাঁরা নিজেরাও সেই সমস্ত বছর সচেতন উপস্থিতি, সংকট ব্যবস্থাপনা ও মানুষের মনোবল দৃঢ় করার মাধ্যমে হকের পক্ষে সংগ্রামকে জীবন্ত রেখেছেন।
আজ যখন ইসফাহানের নারীরা ‘জান-ফিদায়ান’ মহড়ায় রাস্তায় নেমেছেন, তখন প্রকৃতপক্ষে তাঁরা সেই পবিত্র পথেরই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করছেন। এটি সেই একই উদ্দীপনা, তবে নতুন ও আরও শক্তিশালী প্রকাশের মধ্য দিয়ে।
আজ আমরা যে নারীদের দেখেছি, তাঁরা সেই ঐতিহাসিক ধৈর্যের উত্তরাধিকারী। পার্থক্য শুধু এই যে, আজ তাঁদের দৃঢ়তা ইতিহাসের কেন্দ্রীয় মনোযোগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইতিহাসের প্রত্যক্ষ বর্ণনাকারী; প্রথম সারিতে দাঁড়ানো নারীরা
বহু বছর আগে, ঠিক এই শরতের দিনগুলোর উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে, বাথ শাসকদের সৈন্যরা বিশ্বের আধিপত্যবাদীদের সমর্থন নিয়ে এই মাটি গ্রাস করার অলীক স্বপ্নে আমাদের সীমান্তে আগুন ঝরিয়েছিল। এমন এক আগুন জ্বলে উঠেছিল, যা মাতৃভূমির বুকে হাজারো তরুণের রক্তাক্ত দেহের শোকচিহ্ন রেখে গেলেও এমন এক বিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার চেতনা সৃষ্টি করেছিল, যার নাম চিরকাল ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা’ হয়ে থাকবে।
এটি পবিত্র ছিল এ কারণে যে, আধুনিক যুগে আরেকটি কারবালার অধ্যায় রচিত হয়েছিল। আর সবচেয়ে বড় কথা, এই ঘটনাপ্রবাহ ইরানি মুসলিম নারীর অজানা শক্তি ও সামর্থ্যকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে প্রকাশ করে দিয়েছিল।
এই দেশের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়-যখনই দেশের আকাশে সংকটের ধুলো জমেছে, তখন সবার আগে নারীদের দৃঢ় অবয়বই প্রতিরোধের তাঁবুর স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই ইরানি নারী প্রথম সারিতে দাঁড়িয়েছেন; পুরুষদের আড়ালে বা ছায়ায় নয়, বরং তাঁদের পাশে এবং কখনো তাঁদের সামনেও। তিনি নিজের বুককে গুলির সামনে ঢাল বানিয়েছেন এবং একই সঙ্গে ভাই ও স্বামীদের সংগ্রামের সবচেয়ে ধৈর্যশীল সহায়কে পরিণত হয়েছেন।
সেই নারীরা স্বৈরশাসনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কোলাহলের মধ্যেও পবিত্রতা ও মর্যাদার রজ্জু শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং নিজেদের রক্ত দিয়ে ইরানের স্বাধীনতার দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। ১৭ হাজার শহীদা, আহত ও সাবেক বন্দি নারী-যাঁদের নাম ও স্মৃতিকে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা গৌরবের শিখরে স্থান দিয়েছেন। আজ ইসফাহানের আজাদি স্কয়ার, তেহরান এবং ইরানের অন্যান্য শহরের পথে যে নারীদের এই উত্তাল স্রোত পা বাড়িয়ে এগিয়ে চলছে, তা যেন সেই পবিত্র রক্তধারারই অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা।
এই মা ও মেয়েরা প্রমাণ করেছেন-পবিত্র প্রতিরক্ষার শহীদদের রক্ত এবং আজকের আত্মমর্যাদার মধ্যে সম্পর্ক কখনো বিচ্ছিন্ন হওয়ার নয়। যতদিন এই সাহসী, পবিত্র ও দৃঢ় নারীরা ময়দানে দাঁড়িয়ে থাকবেন, ততদিন এই মাটি আত্মসমর্পণ ও নিষ্ক্রিয়তার রং দেখবে না।
নারী; দেশের দৃঢ়তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি
ইরান-এই প্রাণবন্ত ও গর্বিত দেশটি যেন এই ময়দানে উপস্থিত নারীদের অবয়বেই নিজেকে প্রকাশ করেছে। আমাদের কাছে সে এমন এক মায়ের মতো, যিনি তাঁর সন্তানদের আত্মমর্যাদা ও শালীনতার কোলে লালন করেছেন। আর এখন যখন শত্রুভাবাপন্নদের লোভাতুর দৃষ্টি তার সীমানার দিকে নিবদ্ধ, তখন এই নারীরাই সবার আগে প্রাণপণে ময়দানে এসে এই প্রিয় মাতৃভূমির প্রতিরক্ষায় দাঁড়িয়েছেন।
এই সাহসী নারীদের সঙ্গে এই দেশের মধ্যে এক অদ্ভুত ও সুন্দর সাদৃশ্য রয়েছে। উভয়েই ‘ক্ষমতাবান’, আবার একই সঙ্গে ‘আশ্রয়স্থল’। যেমন ইরানের মাটি তার পাহাড় ও সমভূমির দৃঢ়তার পাশাপাশি সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়, তেমনি ইরানি নারীও আক্রমণের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিরোধের পাশাপাশি ঘরের পবিত্রতা ও প্রশান্তির প্রতীক।
এই নারীদের শালীনতা যেন এই দেশের সীমান্তের মতো-সমানভাবে পবিত্র, সমানভাবে অনুপ্রবেশ-অযোগ্য এবং সমানভাবে মহিমান্বিত। এই সৌন্দর্য আত্মপ্রদর্শনের সৌন্দর্য নয়; বরং এই দেশের গভীর শিকড়-প্রোথিত ঐতিহ্যের সৌন্দর্য। সেই মর্যাদা, যা আমাদের ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে ঢেউ তুলেছে।
এখন, দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসার পরও এই নারীদের পদক্ষেপ দৃঢ় এবং তাঁদের কণ্ঠে এখনো বিশ্বাসের পূর্ণতা। তাঁরা এই সত্যে আবারও সিলমোহর দিচ্ছেন: আমরা ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারী।
যতদিন এই সাহসী নারীরা, আত্মমর্যাদার প্রহরীরা, পবিত্রতার রক্ষকরা এবং উদ্দীপ্ত মায়েরা সমাজের মূল স্রোতে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন, ততদিন এই প্রিয় মাতৃভূমি ইরান নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও গৌরবময় থাকবে।
আপনার কমেন্ট