শুক্রবার ২ জানুয়ারী ২০২৬ - ২১:২২
দক্ষিণ ভারতের কেরালায় পবিত্র ১৩ রজব উদযাপন: হজরত আলী (আ.)-এর জন্মবার্ষিকীতে মহা সমাবেশ

কেরালা, দক্ষিণ ভারত – পবিত্র রজব মাসের ১৩তম দিন, হজরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলে রাসূল ফাউন্ডেশন শিয়া ইসলামিক সেন্টার এক জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে মাহফিলের আয়োজন করেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, কেরালা, দক্ষিণ ভারত – পবিত্র রজব মাসের ১৩তম দিন, হজরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলে রাসূল ফাউন্ডেশন শিয়া ইসলামিক সেন্টার এক জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে মাহফিলের আয়োজন করেছে। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় শত শত ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে মহান ব্যক্তিত্বের জীবন ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ছবি দেখুন

মাহফিলটি কেরালার শিয়া ইসলামিক সেন্টারের প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই শুরু হয়। মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে, যার পরে নাত ও মানকাবাত পরিবেশনের মাধ্যমে হজরত আলী (আ.)-এর প্রশস্তি গাওয়া হয়।

মুখ্য আলোচনা ও বক্তৃতা:
প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ও আঞ্চলিক ধর্মীয় আলেমগণ। তাদের বক্তৃতায় তারা হজরত আলী (আ.)-এর অদম্য সাহস, গভীর জ্ঞান, ন্যায়বিচার, দানশীলতা ও ইসলাম ধর্মে তার অপরিসীম অবদানের উপর আলোকপাত করেন। বিশেষভাবে তার খিলাফতকালীন সামাজিক ন্যায়বিচার ও জনসেবার মডেল বর্তমান সময়ের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ:
স্থানীয় সম্প্রদায়ের ব্যাপক অংশগ্রহণ এই অনুষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। পরিবারগুলি তাদের সন্তানদের নিয়ে এসে এই পবিত্র দিনের বারকাত লাভের আশা করেছিলেন। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ব্যবস্থার মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়।

আধ্যাত্মিক পরিবেশ:
পুরো মাহফিল জুড়ে গুনাহ থেকে তওবা, ইবাদত-বন্দেগিতে আত্মনিয়োগ এবং আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের আহ্বান ছিল প্রধান সুর। দরুদ ও সালাম পাঠ এবং মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে শেষ হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা।

আলে রাসূল ফাউন্ডেশনের ভূমিকা:
আয়োজক সংস্থা আলে রাসূল ফাউন্ডেশন স্থানীয় শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত একটি সক্রিয় প্রতিষ্ঠান। তাদের এই আয়োজন কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও পরিচয় সচেতনতা বৃদ্ধির একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।

কেরালার এই মাহফিলটি ভারতে ইসলামের সহনশীল, জ্ঞানভিত্তিক ও আধ্যাত্মিক চর্চার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি দেখিয়েছে যে, ধর্মীয় উৎসব কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা সমাজে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। হজরত আলী (আ.)-এর জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নেয়ার মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়াই ছিল এই সমাবেশের মুখ্য উদ্দেশ্য, যা সফলভাবে অর্জিত হয়েছে বলে অংশগ্রহণকারীদের মন্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha