হাওজা নিউজ এজেন্সি: কুরআন ও সহীহ হাদীসে এ মাসের বিশেষ ফযীলত বর্ণিত হয়েছে।
কুরআন ও হাদীসের আলোকে শাবান মাসের ফযিলত
যদিও কুরআনে সরাসরি শাবান মাসের কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে এই মাসে সংঘটিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো লায়লাতুল বরাত, যা অনেক মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণ বিশেষ রাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আল কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ
“নিশ্চয়ই আমি এক বরকতময় রাতে কুরআন অবতীর্ণ করেছি।” (সূরা আদ-দুখান: ৩)
অনেক মুফাসসির, যেমন ইবনে কাছির (রহ.)— এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন যে, এটি রমজানের কদর রাতের প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে, তবে কিছু মুফাসসির ও ফকীহগণ একে শাবানের ১৫তম রাত বা লাইলাতুল বরাতের সাথে সংযুক্ত করেছেন৷ (তাফসীরে ইবনে কাছির, ৪/১৩৭)
১. শাবান মাসে নবী (সা.)-এর অধিক রোজা রাখা
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ (صلى الله عليه وآله) أَكْثَرَ مَا يَصُومُ شَعْبَانَ، فَإِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ أَفْطَرَ.
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে অধিক রোজা রাখতেন। আর যখন রমজান শুরু হতো, তখন তিনি (ফরজ রোজার জন্য) ইফতার করতেন।” (উসুলে কাফি, খণ্ড ৪, হাদীস-৯০, باب صيام التطوع)
২. শাবান মাসে আমল আল্লাহর কাছে উপস্থাপিত হয়
হযরত উসামা ইবন যায়েদ (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম— হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে এমন এক মাসে রোজা রাখতে দেখি, যা অন্য কোনো মাসে দেখি না? তখন তিনি (সা.) বললেন, “এটি এমন এক মাস, যা রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী এবং এতে মানুষের আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। আমি চাই যে, আমার আমল তখন উপস্থাপিত হোক, যখন আমি রোজাদার অবস্থায় থাকব।” (সুনান আন-নাসাঈ: ২৩৫৭, সহীহ ইবন খুযাইমা: ৩/২৯২)
৩. শাবান মাসের মধ্যরাতের ফযীলত (লায়লাতুল বরাত)
হযরত আলী (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যখন শাবান মাসের ১৫তম রাত আসে, তখন আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৯০, সুনানে তিরমিজি: ৭৩৯ - হাসান সহীহ)
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে:
إِنَّ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ أَفْضَلُ اللَّيَالِي بَعْدَ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، فِيهَا يُعْطِي اللَّهُ عِبَادَهُ مِنْ فَضْلِهِ وَيَغْفِرُ لَهُمْ، فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ وَالطَّاعَةِ."
“নিশ্চয়ই শাবানের ১৫তম রাত হলো সর্বোত্তম রাতগুলোর মধ্যে একটি। এই রাতে আল্লাহর রহমত নাযিল হয় এবং গুনাহগারদের ক্ষমা করা হয়। তাই এই রাতে অধিক ইবাদত করো।” (আল-ইকবাল, শেখ মুফিদ, পৃ. ৭০৬)
শাবান মাসের বিশেষ আমল
১. নফল রোজা রাখা– বিশেষ করে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে।
২. অধিক নফল নামাজ পড়া– কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ আদায় করা।
৩. ইস্তেগফার ও দোয়া করা– এ মাসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উত্তম।
৪. কুরআন তিলাওয়াত করা– কুরআনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা উচিত।
শেষ কথা
শাবান মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস, যা আমাদের রমজানের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করে। নবী করীম (সা.) এ মাসে বেশি বেশি রোজা রাখতেন এবং আমল করতেন। বিশেষ করে শাবানের ১৫তম রাতের ফযওলত সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তাই আমাদের উচিত এ মাসে অধিক ইবাদত, দোয়া, এবং রোজার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা।
তথ্যসূত্র:
১. সূরা আদ-দুখান: ৩
২. সহীহ বুখারি: ১৯৬৯
৩. সহীহ মুসলিম: ১১৫৬
৪. সুনানে আন-নাসাঈ: ২৩৫৭
৫. সুনানে ইবন মাজাহ: ১৩৯০
৬. সুনানে তিরমিজি: ৭৩৯
৭. আল-ইকবাল, শেখ মুফিদ, পৃ. ৭০৬
৮. উসূলে কাফী
লেখা: নাজমুল হক, কোম, ইরান
আপনার কমেন্ট