শনিবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ - ১০:০৮
হযরত আলী আকবর (আ.)-এর জীবন থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

এই প্রবন্ধে হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পুত্র হযরত আলী আকবর (আ.)-এর জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। বিশেষত তাঁর বয়স, বিবাহ এবং সম্মানিতা মাতার পরিচয় সংক্রান্ত যেসব প্রশ্ন ইতিহাসে উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক বর্ণনার আলোকে সংক্ষেপ না করে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: হযরত আলী আকবর (আ.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর বরকতময় জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো—

হযরত আলী আকবর (আ.)-এর মাতা কে ছিলেন?
ঐতিহাসিক সূত্রসমূহের ভিত্তিতে জানা যায়, হযরত আলী আকবর (আ.)-এর মাতা ছিলেন এক সম্মানিতা নারী— লাইলি (লায়লা)। কোনো কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থে তাঁর নাম ‘আমেনা’ হিসেবেও উল্লেখ পাওয়া যায়। আবার কিছু সমসাময়িক বর্ণনায় তাঁকে ‘উম্মে লাইলি’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। এ কারণেই বিভিন্ন রওজা ও শোকানুষ্ঠানে তাঁর নাম ‘উম্মে লাইলি’ হিসেবে উচ্চারিত হতে দেখা যায়।

তবে অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য ঐতিহাসিক গ্রন্থে তাঁর নাম ‘লাইলি’ হিসেবেই লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং এই নামটিই ইতিহাসে সর্বাধিক পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত।

কারবালার ঘটনাবলিতে এই মহীয়সী নারীর উপস্থিতি নিয়েও ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কিছু বর্ণনা ও শোকগাথায় তাঁর কারবালায় উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও, শহীদ মুর্তজা মুতাহহারি, মুহাদ্দিস নূরি, মুহাদ্দিস কুম্মি প্রমুখ বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, হযরত লাইলি (রা.) কারবালায় উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের অভিমত অনুযায়ী, আশুরার ঘটনার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

হযরত আলী আকবর (আ.) কি ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর তুলনায় বয়সে বড় ছিলেন?
শিয়া ও সুন্নি উভয় ধারার অধিকাংশ ইতিহাসবিদ ও বংশতত্ত্ববিদের অভিমত অনুযায়ী, হযরত আলী আকবর (আ.) ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর তুলনায় বয়সে বড় ছিলেন।

ঐতিহাসিকভাবে হযরত আলী আকবর (আ.)-এর জন্ম হিজরি ৩৩ থেকে ৩৫ সালের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে, অন্যদিকে ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর জন্ম হিজরি ৩৮ সালে সংঘটিত হয়েছে বলে অধিকাংশ সূত্রে বর্ণিত।

এ ছাড়া ইয়াজিদের দরবারে ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর সেই সুস্পষ্ট বক্তব্য— যেখানে তিনি বলেন যে তাঁর একজন বড় ভাই ছিলেন, যার নাম ছিল আলী— এটি বয়সগত অগ্রাধিকারের একটি স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।

অতএব, অধিকাংশ প্রামাণ্য ঐতিহাসিক সূত্রের ঐকমত্য অনুযায়ী, কারবালার সময় হযরত আলী আকবর (আ.)-এর বয়স ছিল আনুমানিক ২৫ থেকে ২৭ বছর এবং ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর বয়স ছিল আনুমানিক ১৯ থেকে ২৩ বছর। এই কারণেই ইতিহাসে ইমাম সাজ্জাদ (আ.) ‘আলী আওসাত’ নামে পরিচিত।

হযরত আলী আকবর (আ.) কি বিবাহিত ছিলেন?
হযরত আলী আকবর (আ.)-এর বিবাহ প্রসঙ্গে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্নমত লক্ষ্য করা যায়। একদল ইতিহাসবিদের মতে, তাঁর কোনো সন্তান ছিল না এবং তাঁর বিবাহ সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য কোনো স্পষ্ট ঐতিহাসিক বর্ণনা পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে, কিছু ইতিহাসবিদ ও গবেষক ইমাম জাফর সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত একটি জিয়ারতের উদ্ধৃতি দিয়ে মনে করেন যে, হযরত আলী আকবর (আ.) বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর সন্তানও ছিল। বিশেষত উক্ত জিয়ারতে ব্যবহৃত ‘ইত্রাতিকুম’ (তোমাদের বংশধর) এবং ‘আবনায়িকুম’ (তোমাদের সন্তানগণ)—এই বহুবচন শব্দগুলোর ব্যবহার তাঁর পরিবার ও সন্তান থাকার সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha