হাওজা নিউজ এজেন্সি: শহীদদের সর্দার ও নেতা হযরত আবা আবদিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে, “ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শৈশব স্পর্শে ফেরেশতা ফুতরুসের সুস্থতা লাভ”-এর এই প্রসিদ্ধ রেওয়ায়েতটির পুনঃপাঠ ও পর্যালোচনা বিজ্ঞ পাঠকদের উদ্দেশ্যে পেশ করা হলো:
عَنْ إِبْرَاهِیمَ بْنِ شُعَیْبٍ الْمِیثَمِیِّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ (ع) یَقُولُ: إِنَّ الْحُسَیْنَ بْنَ عَلِیٍّ (ع) لَمَّا وُلِدَ، أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَ جَلَّ جَبْرَئِیلَ (ع) أَنْ یَهْبِطَ فِی أَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِکَةِ فَیُهَنِّئَ رَسُولَ اللَّهِ (ص) مِنَ اللَّهِ وَ مِنْ جَبْرَئِیلَ (ع). قَالَ: وَ کَانَ مَهْبِطُ جَبْرَئِیلَ (ع) عَلَی جَزِیرَةٍ فِی الْبَحْرِ، فِیهَا مَلَکٌ یُقَالُ لَهُ فُطْرُسُ، کَانَ مِنَ الْحَمَلَةِ، فَبُعِثَ فِی شَیْءٍ فَأَبْطَأَ فِیهِ، فَکُسِرَ جَنَاحُهُ، وَ أُلْقِیَ فِی تِلْکَ الْجَزِیرَةِ، یَعْبُدُ اللَّهَ فِیهَا سِتَّمِائَةِ عَامٍ، حَتَّی وُلِدَ الْحُسَیْنُ (ع). فَقَالَ الْمَلَکُ لِجَبْرَئِیلَ (ع): أَیْنَ تُرِیدُ؟ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَی أَنْعَمَ عَلَی مُحَمَّدٍ (ص) بِنِعْمَةٍ، فَبُعِثْتُ أُهَنِّئُهُ مِنَ اللَّهِ وَ مِنِّی. فَقَالَ: یَا جَبْرَئِیلُ، احْمِلْنِی مَعَکَ، لَعَلَّ مُحَمَّداً (ص) یَدْعُو اللَّهَ لِی. قَالَ: فَحَمَلَهُ. فَلَمَّا دَخَلَ جَبْرَئِیلُ (ع) عَلَی النَّبِیِّ (ص) وَهَنَّأَهُ مِنَ اللَّهِ وَهَنَّأَهُ مِنْهُ، وَأَخْبَرَهُ بِحَالِ فُطْرُسَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ص): یَا جَبْرَئِیلُ، أَدْخِلْهُ. فَلَمَّا أَدْخَلَهُ، أَخْبَرَ فُطْرُسُ النَّبِیَّ (ص) بِحَالِهِ. فَدَعَا لَهُ النَّبِیُّ (ص) وَقَالَ لَهُ: تَمَسَّحْ بِهَذَا الْمَوْلُودِ، وَعُدْ إِلَی مَکَانِکَ. قَالَ: فَتَمَسَّحَ فُطْرُسُ بِالْحُسَیْنِ (ع) وَارْتَفَعَ، وَقَالَ: یَا رَسُولَ اللَّهِ، أَمَا إِنَّ أُمَّتَکَ سَتَقْتُلُهُ. وَلَهُ عَلَیَّ مُکَافَاةٌ: أَنْ لَا یَزُورَهُ زَائِرٌ إِلَّا بَلَّغْتُهُ عَنْهُ، وَلَا یُسَلِّمَ عَلَیْهِ مُسَلِّمٌ إِلَّا بَلَّغْتُهُ سَلَامَهُ، وَلَا یُصَلِّیَ عَلَیْهِ مُصَلٍّ إِلَّا بَلَّغْتُهُ عَلَیْهِ صَلَاتَهُ. قَالَ: ثُمَّ ارْتَفَعَ.
ইবরাহিম ইবনে শু'আইব আল-মাইসামী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু আবদিল্লাহ (ইমাম জাফর আস-সাদিক) (আ.)-কে বলতে শুনেছি: যখন হুসাইন ইবনে আলী (আ.) জন্মগ্রহণ করেন, তখন আল্লাহ পরাক্রমশালী জিবরাইল (আ.)-কে আদেশ দিলেন এক হাজার ফেরেশতা নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করতে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ও নিজের পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে অভিনন্দন জানাতে।
ইমাম (আ.) বললেন, জিবরাইল (আ.)-এর অবতরণস্থল ছিল সমুদ্রমধ্যস্থ একটি দ্বীপে। সে দ্বীপে ফুতরুস নামে এক ফেরেশতা বসবাস করত, সে আরশবাহী (হামালাতুল আরশ) ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাকে একটি কাজে প্রেরণ করা হয়েছিল, কিন্তু সে তাতে বিলম্ব করায় তার ডানা ভেঙে দেওয়া হয় এবং তাকে ঐ দ্বীপে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে সে ছয়শত বছর আল্লাহর ইবাদত করছিল, অবশেষে হুসাইন (আ.)-এর জন্ম হলো।
ঐ ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কোথায় যাচ্ছেন?” জিবরাইল (আ.) বললেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সা.)-কে এক মহান নিয়ামত দান করেছেন, তাই আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে ও নিজের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে প্রেরিত হয়েছি।”
ফুতরুস বললেন, “হে জিবরাইল! আমাকে আপনার সাথে নিয়ে চলুন। আশা করা যায়, মুহাম্মদ (সা.) আমার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করবেন।”
বর্ণনাকারী বলেন, জিবরাইল (আ.) তাকে সাথে নিলেন। যখন জিবরাইল (আ.) নবী (সা.)-এর সমীপে গিয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে ও নিজের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানালেন এবং ফুতরুসের অবস্থা বর্ণনা করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “হে জিবরাইল! তাকে ভিতরে আনুন।”
যখন জিবরাইল (আ.) তাকে ভিতরে আনলেন, ফুতরুস নবী (সা.)-কে নিজের অবস্থা জানাল। নবী (সা.) তার জন্য দোয়া করলেন এবং তাকে বললেন, “তোমার (ভাঙা ডানা) এই নবজাতকের দেহমোবারকে স্পর্শ করো এবং নিজের স্থানে ফিরে যাও।”
বর্ণনাকারী বলেন, ফুতরুস হুসাইন (আ.)-এর দেহমোবারকে স্পর্শ করলেন এবং সুস্থ হয়ে আকাশমুখী হলেন।
সে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! সতর্ক থাকুন, নিশ্চয়ই আপনার উম্মত এই সন্তানকে হত্যা করবে। আর তার আমার উপর যে অনুগ্রহ হয়েছে, তার প্রতিদানস্বরূপ আমি অঙ্গীকার করছি: যেকোন যিয়ারতকারীই তাঁকে যিয়ারত করবে, আমি তার যিয়ারত তাঁর কাছে পৌঁছে দেব; যেকোনো সালামকারীই তাঁকে সালাম দেবে, আমি তার সালাম তাঁর কাছে পৌঁছে দেব এবং কোন ব্যক্তিই তাঁর উপর দরুদ ও সালাম প্রেরণ করবে না, তবে আমি তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেব।”
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সে উর্ধ্বাকাশে উড়ে গেল।
সূত্র: কামিলুয যিয়ারাত, লিখক: জায়েদ ইবনে ওয়াহহাব আল-জুহানী (রহ.), পৃষ্ঠা: ৬৬
আপনার কমেন্ট