শুক্রবার ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ - ১৯:১০
ইমাম হুসাইন ( আ ) সাফীনাতুন্ নাজাত ও মিসবাহুল হুদা / দ্বিতীয় পর্ব

ইমাম হুসাইন ( আ ) সাফীনাতুন্ নাজাত ও মিসবাহুল হুদা ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,

৪. উম্ম - ই ফযল থেকে:

তিনি বলেছেন : মহানবী (সা) আমাকে বললেন  - আর তখন হুসাইন তাঁর কোলে ছিলেন : ( হযরত) জিব্রীল্ ( আ ) আমাকে জানিয়েছেন যে আমার উম্মত হুসাইনকে হত্যা করবে ।

عن أمّ فضل قالت : قال لي رسول الله - ص - و الحسینُ في حِجره : إنّ جبریلَ علیه الصلاة و السلام أخبرني أنّ أمّتي تقتل الحسینَ .

৪৮৮৭ : এ হাদীসটি আত - তালখীস গ্রন্থ থেকে বাদ পড়েছে । দ্র : প্রাগুক্ত , পৃ : 

৫. উম্ম - ই ফযল বিনতিল হারিস বলেছেন যে, তিনি একদা হযরত রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে প্রবেশ করে বললেন : হে রাসূলুল্লাহ ! আমি গত রাতে খারাপ স্বপ্ন দেখেছি । তিনি ( সা ) বললেন : " তা কী ছিল ? "

উম্ম - ই ফযল বললেন : " সেটা  ছিল ভয়ঙ্কর । " তিনি (সা) বললেন : " সেটা কী ছিল ? " তিনি ( উম্ম - ই ফযল ) বললেন : " আমি 

স্বপ্নে দেখলাম যে আপনার দেহের এক টুকরো অংশ কেটে আমার কোলে রাখা হয়েছে। " অত : পর তিনি ( সা ) বললেন : " তুমি ভালো স্বপ্নই দেখেছ । ইনশাআল্লাহ ফাতিমা একটি পুত্র সন্তান প্রসব করবে ; অত : পর সে তোমার কোলে থাকবে । " এরপর ফাতিমা হুসাইনকে জন্ম দিলেন। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছিলেন ঠিক তেমনি সে ( হুসাইন) আমার কোলে ছিল । এরপর একদিন আমি রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে প্রবেশ করে তাঁর কোলে তাঁকে ( হুসাইন ) রাখলাম। এরপর আমার দৃষ্টি পড়ল । হঠাৎ রাসূলুল্লাহর (সা) দু চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল । তিনি ( উম্ম - ই ফযল ) বলেন : আমি বললাম : হে নবীয়াল্লাহ ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক ! আপনার কী হয়েছে  ( আপনি কেন কাঁদছেন) ? তিনি (সা) বললেন :  " আমার কাছে হযরত জিব্রীল ( আ ) এসে আমাকে জানিয়েছেন যে আমার উম্মত হুসাইনকে হত্যা করবে। " অত:পর আমি বললাম : " একে ( হুসাইন) ? " তিনি (সা) বললেন : " হ্যাঁ ,  তিনি আমার কাছে তার সমাধিস্থলের কিছু লাল মাটি এনেছেন । " 

( হাকিম নিশাপুরী বলেন : ) এটা শাইখাইনের শর্তে সহীহ হাদীস এবং তাঁরা তা ইখরাজ করেন নি । 

যাহাবী আত - তালখীস গ্রন্থে বলেছেন : বরং ( এ হাদীস) মুনকাতি ' ( ছিন্ন ও কর্তিত ) ও য'ঈফ ( দুর্বল ) । কারণ শাদ্দাদ উম্ম - ই ফযলকে দেখে নি এবং মুহাম্মদ ইবনে মুস'আব য'ঈফ ( দুর্বল ) । আর এটা হচ্ছে ইবনুল মুলাক্কানের কথা ( মন্তব্য ) । দ্র: প্রাগুক্ত , পৃ : ৩৮৬ - ৩৮৭ , হাদীস নং : ৪৮৮১

উপরিউক্ত এ দুটি হাদীস ছাড়াও উম্মতের হাতে হযরত ইমাম হুসাইনের (আ) শাহাদাত বরণ সংক্রান্ত আরো বেশ কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে । বিস্তারিত বিবরণের জন্য আমার প্রণীত প্রবন্ধ : আশুরার দিবসে ইমাম হুসাইনের (আ) শাহাদাত , গাদ্দার বিশ্বাস ঘাতকদের থেকে প্রকৃত মুসলিম উম্মাহকে শনাক্ত করার মাপকাঠি, পৃ : ৩ - ৭ দ্রষ্টব্য । তাই উম্মত কর্তৃক ইমাম হুসাইনকে ( আ ) হত্যা ও শহীদ করার ভবিষ্যদ্বাণী সংক্রান্ত হাদীস সমূহ প্রতিষ্ঠিত ও বিশুদ্ধ হাদীস। আমরা কেবল ঐ প্রবন্ধ থেকে দুটো হাদীস এখানে উল্লেখ করছি :

  প্রথম হাদীস: নবীপত্নি উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মে সালমাহ ( রা ) বলেন : আমার ঘরে রাসূলুল্লাহর (সা) সামনে হাসান ও হুসাইন - আলাইহিমাস সালাম - খেলছিলেন। তখন জিবরাঈল (আ) অবতরণ করে হুসাইনের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন : " হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মত আপনার পরে আপনার এই সন্তানকে ( দৌহিত্র ) হত্যা করবে । " অত:পর রাসূলুল্লাহ (সা) হুসাইন কে বুকে টেনে নিয়ে কাঁদলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন : আমি তোমার ( উম্মে সালমাহ) কাছে এই মাটিটা রাখলাম।" অত:পর রাসূলুল্লাহ (সা) ঐ মাটিটার ঘ্রাণ নিলেন এবং বললেন : " কার্ব্ ( কষ্ট ) ও বালার ( কারবালা অর্থাৎ কষ্ট ও বিপদাপদ) ঘ্রাণ । " এবং বললেন : হে উম্মে সালমাহ ! যখন এই মাটি রক্তে পরিণত হবে তখন জানবে যে 

আমার সন্তান ( দৌহিত্র) নিহত হয়েছে। " হযরত উম্মে সালমাহ ঐ মাটিটা একটা কাঁচের পাত্রে রেখে দিলেন এবং প্রতিদিন ঐ মাটির দিকে তাকিয়ে বলতেন : " ( হে মাটি ! ) এক মহা বিপদের দিবসে ( ইমাম হুসাইন - আ - যেদিন শাহাদাত বরণ করবেন সেদিন অর্থাৎ ৬১ হিজরীর ১০ মুহররম ) তুমি রক্তে পরিণত হবে । " আর এতদসংক্রান্ত এ অনুচ্ছদে হযরত আয়েশা ( রা : ) , হযরত যাইনব বিনতে জাহশ ( রা : ) , হযরত উম্মে ফযল ( রা : ) বিনতুল হারিস ( রা : ) , হযরত আবু উমামাহ ( রা : ) , হযরত আনাস ইবনে হারিস ( রা : ) এবং আরো অন্যান্যের থেকেও ( অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে ও ) বিদ্যমান আছে । দ্র: ইবনে হাজার আল - আস্কানী প্রণীত তাহযীবুত তাহযীব , খ : ২ , পৃ : ৩৪৭ ) 

عن عمر بن ثابت عن الأعمش عن شقیق عن أمّ سلمة قالت : کان الحسن و الحسین یلعبان بین یدي رسول الله صلّی الله علیه وآله و سلم في بیتي فنزل جبریل فقال : یا محمد ، إنّ أمّتک تقتل ابنک هذا من بعدک و أومیٰ بیده إلَی الحسین  فبکیٰ رسول الله ( ص ) و ضمّه إلیٰ صدره ثمّ قال رسول الله صلّی الله علیه وآله وسلم:  وضعتُ عندکِ هذه التربَة فشمّها رسول الله (ص) و قال : ریح کرب و بلاء و قال : یا أم سلمة إذا تحوّلت هذه التربة دماً فاعلمي أنّ ابني قد قُتِلَ فجعلتها أمّ سلمة في قارورة ثُمّ جعلت تنظر إلیها کلَّ یوم  و تقولُ : إنّ یوماً تحولین دماً لیومٍ عظیم . 

و في الباب عن عایشة و زینب بنت جحش و أمّ الفضل بنت الحارث و أبي أمامة و أنس بن الحارث و غیرهم . 

এ হাদীসটি মুতাওয়াতির , শক্তিশালী, নির্ভরযোগ্য সহীহ হাদীস। কারণ , এ হাদীসটি উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামাহ ( রা : ) সহ ৬ এর অধিক সংখ্যক সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। আর কোনো হাদীস মাত্র ৪ জন সাহাবা কর্তৃক বর্ণিত হলেই আহলুস সুন্নাহর কেউ কেউ তা মুতাওয়াতির বলে গণ্য করেন ।

২য় হাদীস : আশ'আস ইবনে সাহীম নিজ পিতা সাহীম থেকে সাহীম হযরত আনাস ইবনুল হারিস আল - কাহিলী ( রা : ) থেকে বর্ণনা করেছেন : তিনি ( আনাস ইবনুল হারিস - রা : - ) বলেন : তিনি মহানবীকে (সা) বলতে শুনেছেন : নিশ্চয়ই আমার এই পুত্র সন্তান ( দৌহিত্র অর্থাৎ হুসাইন ) ইরাকের এক স্থানে নিহত ( শহীদ) হবে ; অত:পর যে তাঁকে ( হুসাইন) পাবে ( যে সে - অর্থাৎ হুসাইন - যালিমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে বের হয়েছে এবং এ জন্য সে সাহায্য চাচ্ছে ) তার উচিত তাঁকে ( হুসাইন ) সাহায্য করা । "

অত:পর তিনি ( হযরত আনাস ইবনুল হারিস - রা - ) হুসাইনের - রাদিয়াল্লাহু আনহু - সাথে (কারবালায় ) নিহত (শহীদ) হন ।  

أنس بن الحارث . عداده في أهل الکوفة ، رویٰ حدیثه أشعث بن سحیم ، عن أبیه عنه ( أنس بن الحارث - رضي الله عنه - ) أنّه سمع النبي - ص - یقول : إنّ ابني هذا یُقتلُ بأرض من أرض العراق ، فمن أدرکه فلینصُرهُ ، فقُتِلَ مع الحسین  رضي الله عنه .   

দ্র : ইবনুল আসীর আল - জাযারী ( ৫৫০ - ৬৩০ হি. ) প্রণীত উসদুল গাবাহ্ ফী মা'রিফাতিস সাহাবা , খ : ১ , পৃ : ১৭১ ) প্রকাশক : দারুল ফিকর , বৈরুত , লেবানন , প্রকাশ কাল : ১৯৯২ খ্রী ( ১৪১৪ হি. )

ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha