হাওজা নিউজ এজেন্সি: জেনারেল খাদেমি জানান, শত্রুরা প্রথম পর্যায়ে ডলার সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ সৃষ্টির চেষ্টা করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে তারা এই বিক্ষোভকে ধর্মঘটে রূপান্তরের পরিকল্পনা করে, যা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টির একটি অদৃশ্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কথা ছিল।
তৃতীয় পর্যায়ে শত্রুরা তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে নিরাপত্তা কেন্দ্র ও ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যা গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের আগ্রাসনের কৌশলের অনুকরণে করা হয়। চতুর্থ পর্যায়ে তারা মিথ্যা মৃত্যুর ঘটনা তৈরি করে জনমনে আবেগ সৃষ্টি ও বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের ন্যায্যতা দানের চেষ্টা করে।
পঞ্চম পর্যায়ের পরিকল্পনায় শত্রুরা ইরানের সরকারকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অক্ষম হিসেবে চিত্রিত করার অপপ্রচার চালায়। ষষ্ঠ পর্যায়ে তারা সাইবার হামলা ও নাশকতার মাধ্যমে দেশের পরিষেবা অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ব্যাহত করতে সক্রিয় হয়।
সবশেষে সপ্তম পর্যায়ে শত্রুরা বিক্ষোভের কেন্দ্রগুলোকে সন্ত্রাসী উপাদানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করে এবং ইরানের অভ্যন্তরে ও সীমান্ত বরাবর সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মোতায়েন করে। এই পর্যায়ে তারা মার্কিন বিশেষ অভিযান ও সামরিক হামলার পথ তৈরির জন্যও বিদেশি সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়।
জেনারেল খাদেমি আরও জানান, এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে শত্রুরা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। তারা সন্ত্রাসী উপাদান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, সহিংস অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও স্থানীয় গুন্ডাদের সংগঠিত ও পরিচালনার ব্যাপক প্রচেষ্টা চালায়।
তবে শত্রুদের এই মাস্টারপ্ল্যান নানা কারণে ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান। ডলার সংকটকে কাজে লাগাতে শত্রুদের তাড়াহুড়োর কারণে তাদের কিছু নেটওয়ার্ক কর্মক্ষমভাবে প্রস্তুত হতে পারেনি। অন্যদিকে ইরানি জাতির ঐতিহাসিকভাবে প্রধান বিরোধী ব্যক্তিত্বদের প্রতি ঘৃণা, মার্কিন কর্মকর্তা ও ইসরায়েলের প্রতি গভীর অবিশ্বাস এবং প্রকাশ্য হস্তক্ষেপমূলক অবস্থানের প্রতি ক্ষোভও পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখে।
এছাড়া ঐতিহ্যবাহী সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দাঙ্গায় যোগদানের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ এবং পাহলাভি-পন্থী উপাদানের নেতৃত্ব মেনে নিতে তাদের অস্বীকৃতিও পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে কাজ করে। সরকার, সংসদ ও দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে জাতীয় ঐক্যও শত্রুদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জেনারেল খাদেমি প্রশংসা করে বলেন, ইরানি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও সহিংস দাঙ্গাকারীদের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হয়েছে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমূলক জবাব দিয়েছে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও নিরবচ্ছিন্ন হুমকির মুখে ইরানের সামরিক বাহিনী ও কূটনীতিকদের সাহসী প্রতিরোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আপনার কমেন্ট