রিপোর্ট: মুস্তাক আহমদ
হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, রমযান এলে আকাশ যেন একটু নরম হয়ে যায়, বাতাসে এক ধরনের পবিত্রতা ভেসে বেড়ায়। ক্ষুধা লাগে, তৃষ্ণা পায়, কিন্তু মুমিন তার হাত বাড়ায় না। কেন?
কারণ সে জানে—এটি তার রবের আদেশ।
রোজা মানে শুধু না-খাওয়া নয়;
রোজা মানে হালাল জিনিসকে কিছু সময়ের জন্য নিজের কাছে হারাম করে দেওয়া, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ... لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে… যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করো।”
— (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৩)
এখানে রোজার লক্ষ্য স্পষ্ট—তাকওয়া।
তাকওয়া মানে শুধু ভয় নয়;
তাকওয়া মানে সচেতনতা, অগ্রাধিকার, আত্মসংযম।
(১) হালাল থেকেও বিরত থাকা—কেন?
খাদ্য হালাল। পানি হালাল। বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কও হালাল। তবুও সুবহে সাদিক থেকে রাত পর্যন্ত—সবকিছু থেকে বিরত থাকা।
এ যেন আল্লাহ বান্দাকে বলছেন—
“দেখো, যা আমি বৈধ করেছি, তাও যদি আমার কথায় তুমি ছেড়ে দিতে পারো, তাহলে যা আমি হারাম করেছি, তা ছেড়ে দেওয়া তোমার জন্য কঠিন হবে কেন?”
রোজা আমাদের শেখায়—
নিজেদের ইচ্ছা নয়, আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত।
দুনিয়া হালাল, কিন্তু দুনিয়ার প্রতি আসক্তি কমায়, কেননা দুনিয়ার আসক্তিই মানূষকে জালেম, পশুর সমতূল্য বানায়৷
এই পৃথিবীর খাদ্য, বায়ু, জল—সবই মানবজাতির জন্য বৈধ নিয়ামত।
কুরআনে এসেছে—
هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا
“তিনি পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।”
— (সূরা আল-বাকারা ২:২৯)
কিন্তু সমস্যা ভোগে নয়; সমস্যা আসক্তিতে।
সমস্যা গ্রহণে নয়; সমস্যা ভুলে যাওয়ায়।
রোজা আমাদের শেখায়—
খাও, কিন্তু ভুলে যেও না দাতা কে।
বাঁচো, কিন্তু ভুলে যেও না লক্ষ্য কোথায়।
ভোগ করো, কিন্তু দাস হয়ে যেও না।
(২) রোজা: আত্মার স্বাধীনতার ঘোষণাঃ
যে মানুষ ক্ষুধার তাড়নায়ও পানি পান করে না,
সে আসলে তার নফসকে বলছে—
“তুমি আমার প্রভু নও।”
রোজা আত্মার স্বাধীনতার বিপ্লব।
এটি নফসের বিরুদ্ধে নীরব জিহাদ।
এটি প্রমাণ করে—
আমি আমার শরীরের দাস নই; বরং আমি রবের বান্দা। কারন এতে মানুষ মানুষকে দাস বানাতে পারবে না৷
(৩) অগ্রাধিকার বদলে দেওয়াঃ
রোজা আমাদের অগ্রাধিকার ঠিক করে দেয়। কাজের আগে সালাত, ক্ষুধার আগে তাকওয়া, চাহিদার আগে আদেশ। রমযান যেন এক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়৷ এক প্রশিক্ষণশালা— এক মাসের অনুশীলন, যাতে বাকি এগারো মাস আমরা শিখি— জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর আদেশ-নিষেধকে অগ্রাধিকার দিতে।
রোজা আমাদের শেখায়— দুনিয়া খারাপ নয়, কিন্তু দুনিয়ায় ডুবে যাওয়া বিপজ্জনক। রোজা আর একটি গুরূত্বপূর্ণ শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— এই পৃথিবী চিরস্থায়ী ঠিকানা নয়;
এটি একটি সফর, একটি পরীক্ষা।
হে আল্লাহ!
আমাদের এমন রোজা দান করুন,
যা ক্ষুধা নয়, তাকওয়া বাড়ায়;
যা শরীর নয়, আত্মাকে জাগায়;
যা এক মাস নয়, সারাজীবনের জন্য
আপনার আদেশকে আমাদের জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বানিয়ে দেয়।
আপনার কমেন্ট