হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো আলোচনা হলে ইরানের প্রধান শর্ত হবে-দেশটির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন হবে না, এমন নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে নতুন দফা আলোচনা শুরু হয়েছিল, সে সময় থেকেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে বারবার জানানো হয়েছিল যে আলোচনার ওপর নির্ভর করার মতো কোনো আশা রাখা উচিত নয়।
গারিবাবাদি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্রের অভিযোগ মূলত একটি রাজনৈতিক অজুহাত, যার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তার মতে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরোধীদের মূল সমস্যা দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্বাধীন চরিত্র এবং স্বাতন্ত্র্য।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং দেশটি বর্তমানে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগ করছে।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চীন, রাশিয়া, ফ্রান্সসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এসব দেশের পাশাপাশি আরও কিছু ইসলামি ও অ-ইসলামি দেশও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধ বন্ধ বা যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। যেহেতু ইরান যুদ্ধ বা আগ্রাসনের সূচনা করেনি, তাই যদি যুদ্ধ বন্ধের কোনো প্রস্তাব আসে, ইরান এমন পক্ষ নয় যে নিজের আত্মরক্ষা বন্ধ করে দেবে।
গারিবাবাদি আরও বলেন, জাতিসংঘ সনদে বৈধ আত্মরক্ষার সমাপ্তির শর্ত নির্ধারণ করা আছে। এর একটি হলো-যে আগ্রাসন ঘটেছে তা পুনরায় ঘটবে না, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া।
তার ভাষায়, “যে দেশ আগ্রাসনের শিকার হয়েছে, সে দেশ ততক্ষণ পর্যন্ত তার প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে, যতক্ষণ না নিশ্চিত হয় যে সেই আগ্রাসন আর পুনরাবৃত্তি হবে না।”
তিনি বলেন, যদি যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে যে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আর ঘটবে না। অন্যথায় কয়েক মাস পর আবার হামলা হলে সেই যুদ্ধবিরতির কোনো অর্থ থাকবে না।
আপনার কমেন্ট