হাওজা নিউজ এজেন্সি: বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে এক টেলিফোন আলাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, যে ঘাঁটিগুলো ইরানের ওপর হামলার উৎস বা সেসব হামলার সমর্থনঘাঁটি হিসেবে কাজ করে, সেগুলো বৈধ আত্মরক্ষার অধিকারের আওতায় লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এই টেলিফোন আলাপের সময় পেজেশকিয়ান ও শাহবাজ শরিফ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মত বিনিময় করেন।
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করে বলেন, পরমাণু আলোচনার মাঝখানে গত এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়। তিনি আরও বলেন, ইরানের অবকাঠামোগত স্থাপনা—যার মধ্যে স্কুল, হাসপাতাল ও সর্বজনীন স্থান রয়েছে—সেগুলোতে হামলা চালাতে আগ্রাসীরা প্রতিবেশী দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার ও লঙ্ঘন করেছে, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।
তিনি একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, শুধু একটি ঘটনায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমাবর্ষণ করে, যাতে ১৭০ জনেরও বেশি নিরপরাধ স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়।
ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের ওপর জোর দিয়ে পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে লক্ষ্য স্থির করার বা যুদ্ধ শুরু করার কোনো অভিপ্রায় নেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বৈধ আত্মরক্ষার অধিকারের আওতায় ইরান কেবল সেসব ঘাঁটিকেই লক্ষ্য করছে যা দেশটির বিরুদ্ধে হামলার উৎস বা হামলাকারীদের সমর্থন দিচ্ছে।
পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই আরোপিত যুদ্ধ ও ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন সংঘটনের মূল কারণগুলো খতিয়ে দেখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা গুরুতরভাবে বিঘ্নিত করবে।
তিনি তাঁর মন্তব্যের অন্য অংশে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে ইরানি জাতির সাথে সংহতি প্রকাশে পাকিস্তানের সরকার, জনগণ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাঁর অংশে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দায় তাঁর দেশের নীতিগত অবস্থানের পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ইরানের জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আলাপকালে দুই নেতা তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।
আপনার কমেন্ট