শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬ - ১১:২৮
আমরা পবিত্র রমজান মাস থেকে কতটুকু উপকৃত হয়েছি?

রোজা হচ্ছে তাকওয়ার সোপানমাত্র, চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। নাহজুল বালাগার ১৪৫ নম্বর হিকমতের ব্যাখ্যা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আমরা যদি রমজানের পরও আগের মতোই থাকি, তাহলে বুঝতে হবে আমরা শুধু ক্ষুধাই সহ্য করেছি মাত্র। আসুন আমরা এই মাসে ইবাদতের বাহ্যিক আচারে থেমে না থেকে অন্তরের রূপান্তর সন্ধান করি।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: আল্লাহর মেহমানদারির মাস উপলক্ষে, আমরা প্রতিদিন আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.)-এর অমীয় বাণী থেকে একটি হিকমত এবং হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন জাওয়াদ মুহাদ্দিসীর ব্যাখ্যা নিয়ে ইফতারের মাহফিলে আপনাদের মেহমান হবো।

নাহজুল বালাগার ১৪৫ নম্বর হিকমত, যা রমজান মাসের সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাতে বলা হয়েছে:

قَالَ (علیه السلام): کَمْ مِنْ صَائِمٍ لَیْسَ لَهُ مِنْ صِیَامِهِ إِلَّا الْجُوعُ وَ الظَّمَأُ، وَ کَمْ مِنْ قَائِمٍ لَیْسَ لَهُ مِنْ قِیَامِهِ إِلَّا السَّهَرُ وَ الْعَنَاءُ؛ حَبَّذَا نَوْمُ الْأَکْیَاسِ وَ إِفْطَارُهُمْ.


ইমাম আলী (আ.) বলেছেন, “কত রোজাদার আছে যাদের রোজা থেকে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছাড়া আর কিছুই লাভ হয় না, এবং কত রাত জাগরণকারী আছে যাদের রাত জাগা থেকে কেবল জাগরণ ও কষ্ট ছাড়া আর কিছুই হয় না। কতই না চমৎকার জ্ঞানী ব্যক্তিদের ঘুম এবং তাদের ইফতার!”

প্রত্যেক ইবাদতের—নামাজ, রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, হজ—একটি বাহ্যিক রূপ আছে এবং একটি অভ্যন্তরীণ সত্য। অনেক মানুষ ইবাদতের বাহ্যিক খোলসে আটকে থেকে এর গভীরতা ও মর্মস্পর্শী সত্যে পৌঁছাতে পারে না। আমরা যখনই কোনো ইবাদত করি, তখন তার ফল সম্পর্কেও চিন্তা করা আবশ্যক।

রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মশুদ্ধি, চরিত্র গঠন এবং তাকওয়া অর্জন; যেমনটি পবিত্র কোরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে তাকওয়া অর্জনের জন্যই রোজা ফরজ করা হয়েছে।

لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

অর্থাৎ: “...যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।”

কেউ যদি রোজা রাখে কিন্তু তার আচরণ, চরিত্র ও মনোভাবে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন না আসে, তাহলে সে এই কষ্ট, ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে কী ফল পেল?

সুতরাং, আমাদের রমজানের রোজা থেকে যেন শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণাই লাভ না হয়; এখন দিন ছোট, কিন্তু গ্রীষ্মের দীর্ঘ দিনে ও প্রচণ্ড গরমে যখন কেউ ষোল-সতেরো ঘণ্টা ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করে কিন্তু রমজান শেষে আগের মানুষটিই থেকে যায়, নিশ্চয়ই সে ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পায়নি।

অনেকে আছেন যারা তাহাজ্জুদ পড়েন, রাত জাগেন, বিশেষ করে রমজানে যখন এসব ইবাদতের সুযোগ বেশি, কিন্তু তাদের রাত জাগা ও তাহাজ্জুদের ফল হচ্ছে শুধু “জাগরণ ও ক্লান্তি”। “সাহার” অর্থ হলো জাগা, না ঘুমানো, মধুর ঘুম থেকে জেগে ওঠা, উঠা, অজু করা, মিহরাবে দাঁড়ানো, নিভৃতে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো, দীর্ঘ নামাজ পড়া; কিন্তু এর ফল কী হলো?

যদি তাহাজ্জুদ মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য না দেয়, তাহলে মানুষের জন্য কেবল জাগরণ ও কষ্টই থেকে যায়।

আমরা আশা করি আমাদের ইবাদত, নামাজ ও রোজা থেকে প্রকৃত ফল লাভ করব। আর যখন রমজান শেষ হবে, তখন যেন আমরা অনুভব করি যে রমজানের আগের চেয়ে পরিবর্তিত হয়েছি এবং এই আমলগুলি আমাদের মধ্যে গঠনমূলক প্রভাব ফেলেছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha