হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান আল্লাহর দরবারে মুনাজাত ও তাঁর নৈকট্য অর্জনের এক বিরল সুযোগ। এই বরকতময় মাস উপলক্ষে “ইবাদতের প্রভাত” শীর্ষক বিশেষ ধারাবাহিকে সহিফা সাজ্জাদিয়ার দোয়ার অংশ তুলে ধরা হচ্ছে। সহিফা সাজ্জাদিয়ার গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাইয়্যেদ আব্দুররায্জাক পীরদেহকানের বয়ানে এই আলোচনা ইফতারের সময় আপনাদের সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে:
তিনি বলেন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। পবিত্র রমজান মাসে ইমাম সাজ্জাদ (আ.) আমাদের সামনে যে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলোর কথা তুলে ধরেছেন, তার একটি হলো—গুনাহের প্রভাব দূর করা। শুধু গুনাহ ক্ষমা হওয়াই নয়; বরং গুনাহের যে নেতিবাচক প্রভাব মানুষের জীবন ও আত্মায় পড়ে, তা থেকেও মুক্ত হওয়া।
অর্থাৎ, আল্লাহ যেন আমাদের গুনাহ ক্ষমা করেন, তাঁর তাওফিকে আমরা গুনাহ ত্যাগ করতে পারি এবং গুনাহের প্রভাবও দূর হয়ে যায়—রমজান সেই সুযোগ এনে দেয়।
কিন্তু অন্যদিকে শয়তানও বসে নেই। সে চায় না মানুষ এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারুক। তাই ইমাম সাজ্জাদ (আ.) দোয়ার এক স্থানে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন—
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ، وَإِنْ مِلْنَا فِيهِ فَعَدِّلْنَا
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের ওপর দরুদ প্রেরণ করুন। যদি আমরা এই মাসে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ি, তবে আমাদেরকে পুনরায় সোজা পথে ফিরিয়ে দিন।
এরপর তিনি বলেন—
وَإِنْ زُغْنَا فِيهِ فَقَوِّمْنَا
অর্থাৎ, যদি আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাই, তবে আমাদেরকে সঠিক ও স্থির পথে প্রতিষ্ঠিত করুন।
এই দোয়ার ভাবের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে—
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে হেদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে আর বিপথগামী করবেন না। (সূরা আলে ইমরান: ৮)
এরপর ইমাম সাজ্জাদ (আ.) আল্লাহর কাছে আরও প্রার্থনা করেন—
وَإِنِ اشْتَمَلَ عَلَيْنَا عَدُوُّكَ الشَّيْطَانُ فَاسْتَنْقِذْنَا مِنْهُ
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! যদি আপনার শত্রু শয়তান আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে আমাদেরকে তার কবল থেকে উদ্ধার করুন।
এই অংশের মাধ্যমে ইমাম সাজ্জাদ (আ.) মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, রমজান যেমন অসংখ্য আধ্যাত্মিক সুযোগের মাস, তেমনি এই সুযোগগুলো নষ্ট করে দেওয়ার জন্য শয়তানও ওঁত পেতে থাকে।
শয়তান চায় না মানুষ তার নামাজকে শুদ্ধ করুক, তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আত্মাকে পবিত্র করুক কিংবা আল্লাহর দিকে ফিরে আসুক। সে চায় না মানুষ সামাজিক সম্পর্কগুলো ঠিক করুক, প্রতিবেশীর অধিকার আদায় করুক কিংবা নিজের সম্পদের মধ্যে থাকা অন্যের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করুক।
এভাবে শয়তান মানুষের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যাতে মানুষ রমজানের এই মূল্যবান সুযোগগুলো থেকে বঞ্চিত হয় এবং মানুষের মাঝে জমে থাকা কষ্ট, বিরোধ ও দূরত্ব দূর না হয়।
ইমাম সাজ্জাদ (আ.) বলেন, রমজান এমন একটি সময়, যখন একজন মুমিন রোজাদার ভেঙে যাওয়া সম্পর্কগুলো আবার জোড়া লাগাতে পারে। কিন্তু শয়তান স্বাভাবিকভাবেই চেষ্টা করে যাতে মানুষ এই কাজগুলো করতে না পারে। সে এই পথের এক বড় বাধা।
তাই ইমাম সাজ্জাদ (আ.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন—যদি শয়তানের প্ররোচনায় আমরা এই সোজা পথ থেকে সরে যাই, তবে তিনি যেন আমাদেরকে আবার সেই পথে ফিরিয়ে আনেন। আর যদি শয়তান আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে তিনি যেন আমাদেরকে তার হাত থেকে রক্ষা করেন, যাতে আমরা রমজানের এই সুযোগগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারি।
শেষে আমরা আল্লাহর কাছে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি—মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের ওপর দরুদ পাঠের বরকতে।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ
হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন।
আপনার কমেন্ট