মঙ্গলবার ২৪ মার্চ ২০২৬ - ১১:১৮
পেজেশকিয়ান ও শেহবাজ শরিফের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরান সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের বরাতে জানা গেছে, টেলিফোনে এ আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক অগ্রগতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘অবৈধ যুদ্ধের’ ফলে সৃষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও প্রধানমন্ত্রী শরিফ।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন, অবৈধ হামলা এবং অপরাধের বিবরণ দিয়ে বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি। আগ্রাসী শত্রু কোনো কারণ, যুক্তি কিংবা আইনগত ভিত্তি ছাড়াই ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়—যে সময় পারমাণবিক আলোচনা চলছিল। এই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা, জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার, অসংখ্য নিরপরাধ নাগরিক ও নির্দোষ শিক্ষার্থীরা শহীদ হন এবং দেশের জনগণের সম্পদ ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তাই ইরানের ভূখণ্ড রক্ষা করা দেশটির জন্য একটি স্বাভাবিক ও সহজাত অধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ড. পেজেশকিয়ান দুই প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, ইরান স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় এবং আঞ্চলিক বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও জোরদারের বিষয়ে ইরানের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রেসিডেন্ট আরও স্পষ্ট করে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি ইরানের বার্তা পরিষ্কার। তিনি ইসলামি দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসনগোষ্ঠীর ইরানবিরোধী হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড বা সম্পদ ব্যবহার করতে না দেয়। তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি যুদ্ধ ও আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা অন্তত ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ কার্যক্রম সহায়তা করা থেকে বিরত থাকুক; কারণ এ ধরনের পদক্ষেপ অঞ্চলে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াবে।

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক পদক্ষেপের ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় যে প্রভাব পড়েছে, তার উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, প্রণালীতে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনের সরাসরি ফল। একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরান জলপথে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। আগ্রাসী দেশগুলোর বা আগ্রাসনের সঙ্গে জড়িতদের অন্তর্ভুক্ত নয়—এমন জাহাজগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করবে ইরান।

ফোনালাপে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরানকে ঈদুল ফিতর ও নওরোজের শুভেচ্ছা জানান এবং ইরানের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন, যাতে হাজার হাজার নিরপরাধ ইরানি নাগরিক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত ও আহত হয়েছেন। তিনি পাকিস্তান সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি সমবেদনা জানান এবং হরমুজ প্রণালীতে পাকিস্তানি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শেহবাজ শরিফ আঞ্চলিক দেশগুলো, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে উত্তেজনা হ্রাস ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। ইরানের আত্মরক্ষার স্বাভাবিক ও সহজাত অধিকারকে সমর্থন করে তিনি বলেন, পাকিস্তান সব সময় ইরানের সরকার ও জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha