মঙ্গলবার ২৪ মার্চ ২০২৬ - ১২:০৪
মুনাফিকদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ‘বিশেষ জিহাদ’-এর নির্দেশ দিয়েছেন

ইরানের শীর্ষ আলেমে দ্বীন ও মারজায়ে তাকলীদ হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি জোর দিয়ে বলেছেন, আল্লাহ মুনাফিকদের সামাজিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘বিশেষ জিহাদ’-এর নির্দেশ দিয়েছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি ‘কুরআনের বিষয়ভিত্তিক তাফসির’ (খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ২৪১) গ্রন্থের ‘কুরআনের দৃষ্টিতে সমাজ’ শীর্ষক আলোচনায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, কুরআনের বহু আয়াতে আল্লাহ মুনাফিকদের সামাজিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং মুমিনদের তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন। যেমন আল্লাহ বলেন:

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ

“আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলে, আমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান এনেছি; অথচ তারা প্রকৃত মুমিন নয়।” (সূরা বাকারা: ৮)

এই শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব (মারজায়ে তাকলিদ)  মুনাফিকদের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে আরও বলেন:

মুনাফিকরা আল্লাহ ও মুমিনদের সাথে ধোঁকাবাজি করে। আল্লাহ বলেন:

يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ

“তারা আল্লাহ ও মুমিনদের সাথে ধোঁকাবাজি করে; অথচ তারা নিজেদের ছাড়া কাউকে ধোঁকা দেয় না, কিন্তু তারা তা বুঝে না।” (সূরা বাকারা: ৯)

মুনাফিকরা মুসলমানদের নয়, বরং কাফিরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে। আল্লাহ বলেন:

 الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ

“যারা মুমিনদের ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে।” (সূরা নিসা: ১৩৯)

তিনি বলেন, এ কারণেই আল্লাহ মুনাফিক ও কাফিরদেরকে জাহান্নামে একত্র করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন,

إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا

“নিশ্চয় আল্লাহ মুনাফিক ও কাফিরদের সকলকে জাহান্নামে একত্র করবেন।” (সূরা নিসা: ১৪০)

হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি জানান, জাহান্নামে এই একত্র হওয়া সাময়িক এবং একই মর্যাদার নয়; বরং মুনাফিকদের অবস্থান কাফিরদের চেয়েও নিম্নতর। আল্লাহ বলেন,

إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ

“নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।” (সূরা নিসা: ১৪৫)

তিনি আরও বলেন, মদীনায় নবীজির (সা.) যুদ্ধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা মুনাফিকদের দ্বারাই ঘটেছিল। আল্লাহ বলেন,

وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ

“যখন তাদের কাছে নিরাপত্তা বা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে, তখন তারা তা প্রচার করে বেড়ায়।” (সূরা নিসা: ৮৩)

হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এ কারণে আল্লাহ তাঁর নবীকে মুনাফিকদের বিরুদ্ধে ‘বিশেষ জিহাদ’-এর নির্দেশ দিয়েছেন:

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ

“হে নবী! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং তাদের প্রতি কঠোর হও।” (সূরা তাওবা: ৭৩)

টীকা: ‘বিশেষ জিহাদ’ বলতে এখানে শুধু অস্ত্রগত সংগ্রাম নয়; বরং মুনাফিকদের কৌশল উন্মোচন, তাদের সাথে সামাজিক ও রাজনৈতিক আচরণে কঠোরতা এবং তাদের প্রভাব প্রতিহত করার পূর্ণাঙ্গ প্রচেষ্টাকে বোঝানো হয়েছে। মুনাফিকরা অন্তরে কুফরী লালন করলেও প্রকাশ্যে ঈমানের দাবি করে, যা কুরআনের ভাষায় সবচেয়ে বিপজ্জনক সামাজিক প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha