বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ ২০২৬ - ১২:৩৪
কাশ্মীরের মানুষের ইরানে সাহায্যের জন্য ব্যাপক অনুদান

ঈদুল-ফিতরের পর শনিবার থেকে জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তরুণরা ঘরে ঘরে গিয়ে সাহায্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ। সম্প্রতি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে ব্যাপক অনুদান সংগ্রহ শুরু হয়েছে—মানুষ নিজেদের গহনা, নগদ টাকা, রূপোর বাসনপত্র, এমনকি শিশুদের জমানো টাকা পর্যন্ত দিয়ে দিচ্ছেন ইরানের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে। 

ইরানি দূতাবাস এই সহায়তাকে ‘অসামান্য মানবিকতা’ বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, “এই উদারতা কখনো ভোলার নয়।”

ঈদুল-ফিতরের পর শনিবার থেকে জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তরুণরা ঘরে ঘরে গিয়ে সাহায্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। শ্রীনগরের রৈনাওয়ারি এলাকার মানুষ বলেন, “ইসরায়েলের জায়নবাদী শাসন ও তার সমর্থকদের দ্বারা ইরানের ওপর চাপানো এই অবৈধ যুদ্ধে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। সভ্য বিশ্বের পক্ষ থেকে সবচেয়ে ছোট কাজটি হলো ইরানের দুঃখী মানুষের কাছে সাহায্য পাঠানো।”

মহিলারাও এই উদ্যোগে সামনে এসেছেন। তাঁরা নিজেদের গহনা, শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া অলংকার খুলে দিচ্ছেন অনুদানের ঝুঁলিতে।

শিশুরাও পিছিয়ে নেই। ঈদের ‘ঈদি’ ও তিন বছরের জমানো টিনের ব্যাংক ভেঙে অনেক শিশু নিজেদের সংগ্রহ করা টাকা তুলে দিয়েছে। 

ইরানি দূতাবাসের তরফ থেকে কাশ্মীরের মানুষের এই মানবিক সহায়তার জন্য বারবার ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, সামরিক হামলায় বিভিন্ন প্রদেশে বহু বেসামরিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবাসিক ইউনিট বাণিজ্যিক ইউনিট। এছাড়া হাসপাতাল, স্কুল, অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীরাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

কাশ্মীর উপত্যকার বড় অংশ ও কার্গিল অঞ্চলে অনুদান সংগ্রহের এই ড্রাইভ বিশেষভাবে জোরালো হয়েছে। শিয়া অধ্যুষিত বড়গাম, বারামুল্লা জেলায় সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সামগ্রী ইরানি দূতাবাসের মাধ্যমে ত্রাণ সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের এই উদ্যোগকে অনেকে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের মানবিক সহমর্মিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন। শিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইরানের গভীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। সংকটকালে সংহতি জানাতে তারা সব সময় এগিয়ে এসেছেন।

ইদানীং উপত্যকার বিভিন্ন অংশে ঈদের জামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও দেখা গেছে। ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিয়েছেন।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha