হাওজা নিউজ এজেন্সি: গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের পর আমেরিকান জনগণের মুখোমুখি হওয়া প্রধান উদ্বেগগুলোর সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রায় তার লক্ষ্য পূরণ করে ফেলেছে। তিনি আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা চালানোর এবং ‘খুব দ্রুত’ কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন, তবে সংঘাত শেষ করার জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য অন্যান্য দেশের সহায়তাও আহ্বান জানান।
বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার রাতের ভাষণটি বৈশ্বিক তেলবাজারকে এই বলে আশ্বস্ত করতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখেনি যে হরমুজ প্রণালীর নৌপথে বিঘ্ন শিগগিরই কমবে। প্রেসিডেন্টের বক্তৃতা শুরুর আগে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রায় ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেল। ভাষণের পর তা বেড়ে ১০৫ ডলারে দাঁড়ায়।
প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা দ্রুত তাঁর ভাষণের সমালোচনা করেন। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট ও সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন:
“ইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো আমাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নীতি-বিপর্যয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি লক্ষ্য স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছেন, মিত্রদের বিচ্ছিন্ন করেছেন এবং আমেরিকান পরিবারগুলোর নিত্যদিনের সমস্যাগুলো উপেক্ষা করেছেন। তিনি সম্পূর্ণ অযোগ্য কমান্ডার-ইন-চিফ এবং গোটা বিশ্ব তা জানে।”
রয়টার্স/ইপসোসের গত সপ্তাহের এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্পের লক্ষ্য অর্জিত না হলেও যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা উচিত। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই জরিপে ৬০% উত্তরদাতা ইরানে সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন, আর ৩৫% সমর্থন দিয়েছেন।
আপনার কমেন্ট