হাওজা নিউজ এজেন্সি: আজ ভোরে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক জারি করা এক বিবৃতিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের এই ঐতিহাসিক বিজয় ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতির পাঠ্য নিম্নরূপ:
“ইরানের প্রিয় জাতিকে সুসংবাদ! যুদ্ধের প্রায় সব উদ্দেশ্যই পূরণ হয়েছে!
ইরানের মহান জনগণ জেনে রাখুন, তাদের সন্তানদের আত্মত্যাগ ও ঐতিহাসিক উপস্থিতির কারণেই শত্রু এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুনয় করছে।
তবে দেশের কর্তাব্যক্তিরা এসব অনুরোধ নেতিবাচকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল—যুদ্ধ চলবে যতক্ষণ না সব উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে। আর সেই উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে শত্রুর অনুতাপ ও হতাশা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি হুমকি দূরীকরণ।
এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকে আজ পর্যন্ত—চল্লিশতম দিনে।
ইরান বারবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত সময়সীমা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে, শত্রুর কোনো ধরনের সময়সীমাকে তারা গুরুত্ব দেয় না।
এখন আমি ইরানের মহান জাতিকে সুসংবাদ দিচ্ছি যে যুদ্ধের প্রায় সব লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছে। আপনার সাহসী সন্তানরা শত্রুকে ঐতিহাসিক অসহায়ত্ব ও স্থায়ী পরাজয়ের মুখে ফেলেছে।
গোটা জাতির ঐক্যবদ্ধ সমর্থনে নেওয়া ইরানের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হলো—যতদিন দরকার ততদিন এই লড়াই চালিয়ে যাওয়া। যাতে এর বিশাল অর্জনগুলো সুসংহত হয় এবং অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়—ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির শক্তি ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির ভিত্তিতে।
এই প্রেক্ষাপটে এবং ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ী (আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন)-এর নির্দেশনা ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন অনুসারে—এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান ও প্রতিরোধের ঊর্ধ্বগতি, শত্রুর হুমকি সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে তার অক্ষমতা, এবং ইরানি জনগণের ন্যায্য দাবিগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে—সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে ইসলামাবাদে চূড়ান্ত দফা নির্ধারণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
যাতে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের বিজয়ের বিস্তারিত বিবরণ রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেও সুসংহত করা যায়।
একই ধারায়, শত্রুর সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান একটি ১০ দফা পরিকল্পনা খসড়া করেছে এবং পাকিস্তানের মাধ্যমে মার্কিন পক্ষের কাছে উপস্থাপন করেছে।
সেখানে ইরান মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছে, যেমন:
• ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রিত পারাপার (যা ইরানকে একটি অনন্য অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান দেয়);
• প্রতিরোধ অক্ষের সব সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার প্রয়োজনীয়তা (যার অর্থ শিশুহত্যাকারী ইসরাইলি শাসনের আগ্রাসনের ঐতিহাসিক পরাজয়);
• অঞ্চলের সব ঘাঁটি ও অবস্থান থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনী প্রত্যাহার;
• হরমুজ প্রণালীতে একটি নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল প্রতিষ্ঠা, যা সম্মত প্রোটোকল অনুযায়ী ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত করে;
• ইরানের হিসাব অনুযায়ী সব ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিশোধ;
• সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা এবং গভর্নিং বোর্ড ও নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন প্রত্যাহার;
• ইরানের সব ব্লক করা সম্পদ ও বিদেশি সম্পত্তি মুক্ত করা;
• এবং সবশেষে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক রেজুলেশনের মাধ্যমে এসব আইটেম অনুমোদন।
উল্লেখ্য, এই রেজুলেশন অনুমোদন করলে সব চুক্তি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত হবে এবং ইরানি জাতির জন্য এক বড় কূটনৈতিক বিজয় সৃষ্টি করবে।
পাকিস্তানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন ইরানকে জানিয়েছেন যে, মার্কিন পক্ষ তার সব আপাত হুমকি সত্ত্বেও এই নীতিগুলোকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মেনে নিয়েছে এবং ইরানি জাতির ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
এর ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ইরান কঠোরভাবে এই নীতির ভিত্তিতেই ইসলামাবাদে দুই সপ্তাহ মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে।
এটি জোর দিয়ে বলা প্রয়োজন যে, এর অর্থ যুদ্ধের সমাপ্তি নয়। ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি তখনই মেনে নেবে, যখন ১০ দফা পরিকল্পনায় বর্ণিত নীতিগুলো গ্রহণের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত বিষয়গুলো আলোচনায় চূড়ান্ত হবে।
এই আলোচনা শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ইসলামাবাদে শুরু হবে—মার্কিন পক্ষের প্রতি সম্পূর্ণ অনাস্থা নিয়ে।
ইরান এই আলোচনার জন্য দুই সপ্তাহ বরাদ্দ করছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়কাল বাড়ানো যেতে পারে।
এই সময়কালে সম্পূর্ণ জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং বিজয় উৎসব শক্তিশালীভাবে চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য।
বর্তমান আলোচনা জাতীয় আলোচনা এবং যুদ্ধক্ষেত্রেরই ধারাবাহিকতা। সব জনগণ, অভিজাত ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে এই প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা ও সমর্থন দিতে হবে—যা নেতা ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরের তত্ত্বাবধানে চলছে—এবং যেকোনো বিভেদমূলক মন্তব্য কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে হবে।
যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর আত্মসমর্পণ যদি আলোচনায় এক সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অর্জনে রূপ নেয়, তাহলে আমরা একসঙ্গে এই মহান ঐতিহাসিক বিজয় উদযাপন করব।
অন্যথায়, ইরানি জাতির সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।
আমাদের হাত ট্রিগারে রাখা আছে। শত্রু সামান্য ভুল করলেই তাকে পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
আপনার কমেন্ট