হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের আপসহীন অবস্থান এবং নতুন নেতৃত্বের মনোভাব সম্পর্কে সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে এমন মন্তব্য করেন জন কেরি। তিনি ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে যে যুগান্তকারী পারমাণবিক চুক্তি (জেপিওএ) সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্ভাবনার কথা বলেন।
কেরি বলেন, আমার পূর্বাভাস হলো, আমরা শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। ঠিক কখন বা কীভাবে, তা আমি এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। তবে এটাও মনে করি, নতুন চুক্তিটি আমরা আগে যা করেছি, তার থেকে অনেকটাই আলাদা হবে না।
ইরানের প্রতি চাপ প্রয়োগের নীতি ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন এই সাবেক আমেরিকান শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে তারা বহিরাগত চাপের মুখে কখনো মাথানত করবে না। বরং দেশটির নতুন নেতারা, যারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত, তারা প্রতিরোধ কৌশলে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
কেরির ভাষ্যমতে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিও শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলেই গিয়ে ঠেকবে। আর সেই আলোচনার ফলাফল হবে ২০১৫ সালের চুক্তির মতোই একটি কাঠামো-যেখানে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু সীমাবদ্ধতা মেনে নেবে এবং বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ইরানের ক্রমশ সমৃদ্ধ পারমাণবিক সক্ষমতা প্রমাণ করে যে, আলোচনাই সম্ভাব্য উত্তরণের পথ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
জন কেরির এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন ভিয়েনায় পরোক্ষ আলোচনা জোরদার হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের নতুন নেতৃত্বের পদক্ষেপগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখছে।
আপনার কমেন্ট