বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল ২০২৬ - ১৩:৫৪
মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য: ইরানের পাশে দাঁড়ানো

ইসলামী বিশ্ব আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যখন প্রতিটি মুসলমানের বিবেককে জাগ্রত হওয়ার সময় এসেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

ইসলামী বিশ্ব আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যখন প্রতিটি মুসলমানের বিবেককে জাগ্রত হওয়ার সময় এসেছে। ইরান-যে দেশটি ইসলামী বিপ্লবের আদর্শে বিশ্বময় মজলুম ও নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে-আজ পশ্চিমা জায়নবাদী শক্তির নানামুখী আগ্রাসন, নিষেধাজ্ঞা, গুপ্তহত্যা ও মিডিয়া যুদ্ধের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকা, দূর থেকে তামাশা দেখা বা ‘আমার দেশ নয়, আমার কী’-এসব মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ।

মাওলানা আখতার আলী বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: “মু’মিনরা পরস্পর ভাই-ভাই; সুতরাং তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও” (সূরা আল-হুজুরাত, ১০)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: “মুসলমানরা একটি দেহের মতো; যখন দেহের একটি অঙ্গ কষ্ট পায়, তখন গোটা দেহ জ্বরে ও নিদ্রাহীনতায় আক্রান্ত হয়”।

তিনি বলেন, ইরান আজ কষ্ট পাচ্ছে। শুধু ইরান নয়-ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাকের প্রতিরোধ শক্তিও ইরানের ওপর নির্ভরশীল। তাই ইরানের পাশে দাঁড়ানো মানে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা।

আমি, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা আখতার আলী, স্পষ্ট ভাষায় বলছি:

১. নীরবতা জালেমের পক্ষে: যে মুসলিম আজ ইরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে অংশ নেয়, বা নীরব থাকে, সে প্রকৃতপক্ষে মুসলিম রক্তের বিনিময়ে বিশ্ব পুঁজিবাদ ও জায়নবাদের লেনদেনে শরীক হচ্ছে।

২. ইরানের পাশে দাঁড়ানোর পথ:

· সর্বপ্রথম, মানসিক ও জনমতগতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা।

· মুসলিম দেশগুলোর সরকারগুলো প্রতি আহ্বান-কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করো; নিষেধাজ্ঞা মানো না; আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের পক্ষে কণ্ঠ দাও।

· জনসাধারণের জন্য বিশেষ দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত ও ইরানের বিজয়ের জন্য প্রার্থনা আবশ্যক।

· শিয়া-সুন্নি সকল মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে; ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা মূলত ইসলামী জাগরণকে নিশ্চিহ্ন করার শয়তানি পরিকল্পনা।

৩. সতর্ক বার্তা: কোনো মুসলিম দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক বা গুপ্তচরবৃত্তিতে সহায়তা করলে, সেই দেশের শাসক ও জনগণ কিয়ামতের দিন জবাবদিহি করবে। ইরানের সাফল্য মুসলিম বিশ্বের সাফল্য; ইরানের পরাজয় আমাদের সবার পরাজয়।

৪. চূড়ান্ত আবেদন: আসুন, আমরা আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করি-ইরানের প্রতি ভালোবাসা, সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মসজিদের মিম্বার, স্কুল-কলেজ, বাজার-মহল্লা-সর্বত্র ইরানের ন্যায় সংগ্রামের কাহিনী ছড়িয়ে দেব।

আল্লাহ তাআলা আমাদের উম্মাহর এই দায়িত্ব পালনের তাওফিক দিন। আমিন।

ওয়াল্লাহু আইলামু বিস সাওয়াব।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha