হাওজা নিউজ এজেন্সি: তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত ব্যাপক পরিসরের খুতবায় হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মদ জাওয়াদ হাজ্ব আলী আকবারি বলেন, ইরান আজ এমন এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে। তিনি নতুন নেতার বার্তাগুলোর ভিত্তিতে দেশের প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলোও তুলে ধরেন।
ইরানের প্রয়াত নেতার শাহাদতের ৬২তম দিনে তিনি আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সম্পূর্ণ যুদ্ধাবস্থার মতো পরিস্থিতিতে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। ব্যক্তিগত শোক—পিতা, স্ত্রী ও আরও কয়েকজনের শাহাদত সত্ত্বেও—নতুন নেতা বিদ্বৎপূর্ণ, ফিকহভিত্তিক এবং সাহসী দিকনির্দেশনার মাধ্যমে জাতির সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খুতবার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশে হুজ্জাতুল ইসলাম আকবারি ঘোষণা করেন যে পারমাণবিক ইস্যু এখন বন্ধ অধ্যায়। “যথেষ্ট পরিমাণ আলোচনা হয়ে গেছে,” তিনি বলেন। শত্রুপক্ষের অতিরিক্ত দাবিকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির নেতৃত্বাধীন আলোচক দলের প্রশংসা করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যদি ভবিষ্যতে আলোচনার প্রয়োজন হয়, ইরান দৃঢ় অবস্থান থেকেই আলোচনায় ফিরবে—আর যদি না হয়, তবে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি উত্তর দেবেন।
তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীসহ ইরানের অসাধারণ ভূ-রাজনৈতিক শক্তি আর আলোচনার বিষয় নয়। তিনি ঘোষণা করেন, ইরান এবং তার সহযোগী ওমান মিলে প্রণালীর জন্য নতুন একটি আইনি কাঠামো তৈরি করছে।
হুজ্জাতুল ইসলাম হাজ্ব আলী আকবারি শহিদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার ইরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, জেনারেল কাসেম সোলাইমানির রক্তের প্রতিশোধ এখনো বাকি। তিনি আরও দাবি করেন যে শত্রুপক্ষকে ইরানি জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া ক্ষতির পূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
খুতবার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব, যাকে তিনি নির্দিষ্ট ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইউনিটসহ সেনাবাহিনী, আইআরজিসি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বসিজ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষায়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিদিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং যেকোনো আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত।
আপনার কমেন্ট