হাওজা নিউজ এজেন্সি: ‘আদর্শ সমাজের দিকে’ শিরোনামে ইমাম মাহদী (আ.ফা.)–সম্পর্কিত শিক্ষা ও উপলব্ধি প্রচারের লক্ষ্যে এই ধারাবাহিক আলোচনা উপস্থাপন করা হচ্ছে:
ইমাম মাহদী (আ.ফা.)–সম্পর্কিত অন্যতম এক অনুধাবনযোগ্য (কিন্তু তুলনামূলক কম আলোচিত) দিক হলো—মানবজাতির প্রতি তাঁর গভীর মমতা ও ভালোবাসা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অতীত থেকে এমন প্রবণতা দেখা গেছে যে তাঁকে কেবল তলোয়ার, রক্তপাত, কড়াকড়ি, প্রতিশোধ—এমন এক শুষ্ক ও কঠোর চেহারায় তুলে ধরা হয়েছে; অথচ ইমাম (আ.ফা.) হলেন আল্লাহর অসীম রহমতের প্রতিচ্ছবি—উম্মতের জন্য এক স্নেহময় পিতা, মানুষের দুঃখের সময়ে এক সহানুভূতিশীল সঙ্গী এবং কল্যাণকামী পথপ্রদর্শক।
শেষ ইমামকে কেন্দ্র করে বর্ণিত একটি হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে:
وَ أُکملُ ذَلِکَ بِابنِهِ م ح م د رَحْمَةً لِلْعَالَمِین.
এবং আমি [ইমামদের] সেই ধারাকে তাঁর পুত্র (মুহাম্মদ) দ্বারা পূর্ণ করব—যিনি সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত। [আল-কাফি, খণ্ড ১, পৃ. ৫২৮]
এবং ইমাম (আ.)–এর নিজের বাণীতে এসেছে:
أَنَّ رَحْمَةَ رَبِّکُمْ وَسِعَتْ کُلَّ شَیءٍ وَ أَنَا تِلْکَ الرَّحْمَة.তোমাদের প্রতিপালকের রহমত সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করেছে; আর আমি সেই অসীম রহমত। [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৫৩, পৃ. ১১]
আর মাসুমগণের বর্ণনায় মানুষের প্রতি ইমামের এই দয়ার কথা এভাবে এসেছে:
وَ أَشْفَقَ عَلَیهِمْ مِنْ آبَائِهِمْ وَ أُمَّهَاتِهِم.
ইমাম (মানুষদের প্রতি) তাদের পিতা-মাতার চেয়েও বেশি দয়ালু। [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ২৫, পৃ. ১১৭]
ইমাম মাহদী (আ.ফা.) হলেন মহান প্রশিক্ষক, দয়ার সঙ্গে মানুষের শিক্ষক এবং জনগণের জন্য স্নেহময় পিতা। তিনি সব সময় ও প্রতিটি মুহূর্তে তাদের কল্যাণ ও সংশোধনের প্রতি লক্ষ্য রাখেন। তিনি মানুষের ওপর মুখাপেক্ষী নন—তবুও তাদের প্রতি তিনি সর্বাধিক অনুগ্রহ ও যত্ন বর্ষণ করেন। যেমন তিনি নিজেই বলেছেন:
لَوْ لَا مَا عِنْدَنَا مِنْ مَحَبَّةِ صَلَاحِکُمْ وَ رَحْمَتِکُمْ وَ الْإِشْفَاقِ عَلَیکُمْ لَکُنَّا عَنْ مُخَاطَبَتِکُمْ فِی شُغُل.
যদি আমাদের কাছে তোমাদের সংশোধনের প্রতি ভালোবাসা, তোমাদের প্রতি রহমত এবং তোমাদের ব্যাপারে সহানুভূতি না থাকত, তবে তোমাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে আমাদের মনোযোগ থাকত না [বরং আমরা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতাম]। [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৫৩, পৃ. ১৭৯]
তাই ইমাম মাহদী (আ.ফা.) যদিও পর্দার আড়ালে, কিন্তু তিনি এমন এক বরকতময় রহমতের মেঘ, যা থেমে যায় না; মানুষের হৃদয়ের মরুভূমিকে সজীব করে এবং তাদের মধ্যে জীবনচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনে। আর প্রকৃত বঞ্চিত সেই ব্যক্তি—যে এই মহা-দয়ার কেন্দ্র থেকে নিজের ভাগ নেয় না, ইমামের মহব্বত ও করুণা অনুধাবন করে না।
শেষে আমরা দো‘আয়ে নুদবাতে প্রার্থনা করি:
اللهم هَبْ لَنَا رَأْفَتَهُ وَ رَحْمَتَهُ وَ دُعَاءَهُ وَ خَیرَه.
হে আল্লাহ! আমাদেরকে তাঁর দয়া, তাঁর রহমত, তাঁর দোয়া এবং তাঁর কল্যাণ দান করুন।
এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে…
উৎস: ‘নেগিনে অফারিনেশ’ থেকে (সামান্য সম্পাদনাসহ) গৃহীত।
আপনার কমেন্ট