হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে ইরান আরও একবার তাদের কৌশলগত দক্ষতার প্রমাণ রেখেছে। এক ইহুদিবাদী বিশ্লেষক স্বীকার করেছেন, তেহরান বিভিন্ন ফ্রন্টকে একীভূত করতে সফল হয়েছে এবং লেবাননের যুদ্ধবিরতিকেও ইরানের যুদ্ধবিরতির শর্তের সাথে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়ুম’-এর সামরিক বিশ্লেষক ইয়োআভ লিমোর সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে বলেন, ইরান ফ্রন্টগুলোকে একীভূত করতে পুরোপুরি সফল হয়েছে। তারা এখন দাবি করছে, ইরানে যেকোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি শুধু তাদের জন্যই প্রযোজ্য হবে না, বরং সেই চুক্তিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ড্রোন ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা
লিমোর আরও উল্লেখ করেন, ড্রোন ইস্যুতে কৌশলগত ব্যর্থতার পাশাপাশি ইসরাইল একটি বড় রণকৌশলগত ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে। তার মতে, এই ব্যর্থতার মূল কারণ হলো অহংবোধ এবং ‘হিজবুল্লাহ সমস্যা’ সামরিক শক্তি ও হুমকির মাধ্যমেই সমাধান হয়ে যাবে-এমন ভ্রান্ত ধারণা।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান মাঠের বাস্তবতা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। এটা সেনাবাহিনীর ওপর চাপানো নিষেধাজ্ঞার কারণে নয়, বরং ইরান তাদের ফ্রন্টগুলোর একীকরণ এতটাই মজবুত করেছে যে এখন লেবানন ছাড়া ইরানে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।
হিজবুল্লাহর ড্রোন নিয়ে উদ্বেগ
এর আগে এক প্রতিবেদনে হিব্রু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কাছে হাজার হাজার আত্মঘাতী ড্রোন রয়েছে, যা যেকোনো সংঘাতে ইসরাইলের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশলগত সাফল্য পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আর যুদ্ধবিরতির শর্ত নির্ধারণে এখন ইরান ও লেবাননকে একসঙ্গে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে-যা ইসরাইলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
আপনার কমেন্ট