হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, নিচের অংশটুকু শহীদ বিপ্লবী নেতার বক্তব্য থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে সামাজিক ক্ষতি মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই বক্তব্যে জিহাদি কাজ, সব সংস্থার ভূমিকা ও জনগণের সম্ভাবনা কাজে লাগানোকে এই ক্ষতি মোকাবিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এটা সত্য যে আমাদের দেশে অর্থনৈতিক সমস্যা প্রথম স্থানে এবং অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোও এসব অনৈতিকতার অন্যতম মূল কারণ হিসেবে আমাদের নজরে থাকে, কিন্তু আগের বৈঠকে যে ধরণের সামাজিক অনাচারের কথা বলা হয়েছে, তা এমন একটি রোগ, যা দিন দিন গভীরতর হয় এবং যত দিন যায়, এর প্রতিকার তত কঠিন হয়, যদি তা নিরাময় না করা হয়। তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। (১৩৯৫/১১/২ হিজরি সৌর)
সমাজবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রতিটি মানবসমাজেই সামাজিক ক্ষতির অস্তিত্ব স্বাভাবিক কিছু হতে পারে, কিন্তু এমন দেশের জন্য যা 'নতুন ইসলামি সভ্যতা গঠনের' আদর্শ বহন করে, তা সামান্য পরিমাণেও শোভনীয় নয়। তাই সামাজিক ক্ষতি মোকাবিলায় কিছু কাজ করা হলেও নিশ্চয়ই তা যথেষ্ট নয়। এটি সমাধানের জন্য রাত-দিন কাজ করতে হবে। প্রত্যাশা এর চেয়েও বেশি... কাজের গুরুত্ব, দায়িত্বের মাহাত্ম্য এবং এর থেকে উদ্ভূত ঝুঁকিগুলো মানুষ যদি উপলব্ধি করে, তাহলে বুঝতে পারবে এই ক্ষেত্রে কতটুকু প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং রাত-দিনের পার্থক্য ভুলে যেতে হবে। (১৩৯৫/১১/২) এমনকি স্বল্পমেয়াদে এই রাত-দিনের প্রচেষ্টার ফলাফল স্পষ্ট নাও হতে পারে, কিন্তু দায়িত্বশীলদের প্রচেষ্টা নিজেই জনগণের জন্য স্বস্তি ও আরামের কারণ। দীর্ঘমেয়াদি কাজগুলোর একটি সমস্যা হলো, সাধারণত বাস্তবায়নকারীরা যেসব কাজের ফল দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে, সেগুলোতে আগ্রহী নয়; এটা মানুষের স্বভাব... যেহেতু জনগণ এসব ক্ষতি তাদের জীবনে অনুভব করে... যখন তারা দেখে একটি সরকার এসব ক্ষতির প্রতিকারের পেছনে ছুটছে, তখন এই প্রচেষ্টা জনগণকে খুশি করে, সন্তুষ্ট করে এবং আশান্বিত করে। (১৩৯৫/১১/২)
এখন একজন দায়িত্বশীল বা বিশ্বাসী ও বিপ্লবী ব্যক্তি কীভাবে এই দীর্ঘমেয়াদি কাজ রাত-দিন ও সর্বান্তঃকরণে চালিয়ে যেতে পারে এবং ক্লান্ত না হতে পারে? যখন সে অনুভব করে যে, সে নিজেও সেই পরিবারেরই অংশ এবং জনগণের সমস্যাই তার সমস্যা। জনগণকে আমরা আমাদের নিজেদের পরিবার মনে করব। আমরা দেশের দায়িত্বশীলরা... এই জাতি, এই দেশ, এই সীমানা, এই জীবনযাপনের পরিধি আমাদের পরিবার। দেশের সামাজিক ক্ষতির সমস্যাকে এমনভাবে দেখা উচিত যেন এই ক্ষতি আমাদের নিজেদের পরিবারের মধ্যে ঘটলে কেমন করে দেখতাম। আমার যদি একটি মাদকাসক্ত সন্তান থাকে, তাহলে আমার কেমন লাগত? কারও ঘর থেকে কেউ পলাতকা মেয়ে থাকলে তার কেমন লাগে? তা কল্পনা করুন। এই মেয়েটি যদি অন্য কারও ঘর থেকেও পলায়ন করে, তাহলে আমাদের নিজেদেরও সেই একই অনুভূতি জাগ্রত করা উচিত, স্বাভাবিকভাবে না থাকলেও... আমাদের সমাজব্যাপী এই বিষয়ে সংবেদনশীল হতে হবে এবং প্রতিকারের চিন্তা করতে হবে... জনগণের অবস্থার প্রতি আমাদের যত্ন যেন নিজেদের পরিবারের প্রতি যত্নের মতোই হয়। (১৩৯৫/১১/২)
কিন্তু সামাজিক ক্ষতি মোকাবিলায় সংস্থাগুলোর স্বাভাবিক ও চলমান কাজকেই যথেষ্ট মনে করে, মাঝে মাঝে কর্তব্যবোধ থেকে প্রতিবেদন দিয়েই ক্ষান্ত হলে চলবে না। শহীদ বিপ্লবী নেতার বিভিন্ন বৈঠকে ধারাবাহিক জিহাদি কাজের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে: বর্তমান সমাবেশের প্রতি আমার প্রত্যাশা হলো অসাধারণ কাজ; কিছু কাজ আছে যা তোমাদের সংস্থার স্বাভাবিক কাজ এবং তোমাদের তা করতে হবে, সম্ভবত করেও থাকো, এরপরেও এই বৈঠক হোক বা না হোক করবে; এতে আমরা সন্তুষ্ট নই... একটি অস্বাভাবিক কাজ করা উচিত, একটি দ্বিগুণ প্রচেষ্টা করতে হবে। (১৩৯৫/১১/২) আর এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিতেও প্রতিরোধী অর্থনীতির মতো-যেখানে সবাইকে ময়দানে নামতে হবে-সব সংস্থাকে ভূমিকা রাখতে হবে; সরকারি সংস্থাগুলো-অর্থাৎ নির্বাহী বিভাগ-এবং নির্বাহী বহির্ভূত সংস্থাগুলো যেমন সংসদ, বিচার বিভাগ ও বিপ্লবী প্রতিষ্ঠানগুলো। সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে, তাদের ভূমিকা ও অংশ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে, বুঝতে হবে তা কী, এবং সেই অংশ যথাযথ গতি ও উত্তম পন্থায় সম্পাদন করতে হবে। (১৩৯৫/১১/২) এই কাজে প্রচারমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এখন পর্যন্ত কখনও কখনও তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ধরুন, প্রচার সংস্থা বা প্রচার অফিস এই বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টিভঙ্গি না থাকায় তারা এ ক্ষেত্রে কাজ করে না। অথচ আমাদের প্রচুর সক্ষমতা রয়েছে... তাদের অনুসরণ করতে হবে... রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থাকে প্রকৃত কাজের বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে হবে, যাতে তারা পরিকল্পনা করতে পারে; সম্প্রচার সংস্থা অনেক ভূমিকা রাখতে পারে। (১৩৯৫/১১/২)
এমন জিহাদি অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ গঠনের ক্ষেত্রে, বাধাদানকারী ও বিপরীতমুখী উপাদানগুলোকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না; যেমন: যখন আমাদের ফজর উৎসবে এমন চলচ্চিত্র দেখানো হয় যা জনগণকে সামাজিক অনাচারের দিকে টেনে নিয়ে যায়, আসলে আমরা তার বিপরীতে সংস্কৃতি গঠন করছি; সেদিকে নজর দিতে হবে। (১৩৯৫/১১/২) এবং শেষ পর্যন্ত যা দায়িত্বশীল এবং জনসাধারণের-বিশেষ করে বিশ্বাসী ও বিপ্লবী তরুণদের-জন্য দায়িত্ব তৈরি করে, তা হলো জনগণের সক্ষমতা ও শক্তিকে ময়দানে নামানো; জনগণের শক্তি অনেক সাহায্য করতে পারে এবং করেও; তবে পরিকল্পনা দরকার কীভাবে জনগণের শক্তিকে ব্যবহার করা যায়। জনগণের মন জয় করা এবং তাদের সাহায্য গ্রহণ করা-আর্থিক, বৌদ্ধিক ও শারীরিক সাহায্য-অনুশীলনের ব্যাপার তা খুবই কৌশলের ওপর নির্ভরশীল এবং তার জন্য পরিকল্পনা প্রয়োজন। (১৩৯৫/১১/২)
এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে-যার জন্য রাত দিনের বোধ থাকা উচিত নয়-জনগণের মুজিজাহস্তও, যা আল্লাহর অনুগ্রহের সঙ্গী, পথপ্রদর্শক হবে; ইসলামি বিপ্লবের অভিজ্ঞতা তা প্রমাণ করেছে; মূল বিষয় হলো, হিজবুল্লাহি শক্তিও এই ক্ষেত্রটিকে বিপ্লবী হওয়ার ও জিহাদের একটি রণক্ষেত্র হিসেবে গণ্য করবে, কারণ জিহাদ শুধু তলোয়ার হাতে নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করা নাম নয়; জিহাদের মধ্যে রয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ, আমলি জিহাদ, ব্যাখ্যামূলক ও প্রচারমূলক জিহাদ, এবং আর্থিক জিহাদ। (১৩৯৫/২৯/২ হিজরি সৌর)
আপনার কমেন্ট