হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩৬টি গণসংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে। তারা মনে করে, সরকারের উচিত তাদের উপনিবেশবিরোধী অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা।
প্রতিবাদকারীরা অবিলম্বে ‘পিস বোর্ড’ (BOP) নামক একটি সংস্থা থেকে সরকারের বেরিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি জাতীয় কূটনীতির গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
‘পিস বোর্ড’ হলো আন্তর্জাতিক একটি প্রতারণামূলক সংস্থা, যা আপাতদৃষ্টিতে বিশ্ব শান্তি এবং যুদ্ধবিরতির পর গাজা পুনর্গঠনের এজেন্ডা প্রচার করছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি অপরাধসমূহকে বৈধতা দেওয়ার লক্ষ্যে এটি চালু করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬-এ ডাভোস সম্মেলনের সাইডলাইনে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার এই অংশগ্রহণ সম্প্রতি অভ্যন্তরীণভাবে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সমাবেশের সমন্বয়ক সালেহ ইসমাইল মুকাদার জোর দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং বিশ্ব মানবিক পরিস্থিতির উদ্বেগ থেকে নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশে বলেন, এটি একটি মানবিক কর্মসূচি। আমরা স্বাধীন জাতিগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী।
সংবিধান রক্ষক জোটের মতে, ইন্দোনেশিয়ার উচিত নয় কোনো পরাশক্তির বলয়ে নিজেকে আবদ্ধ করা। তারা সরকারকে তাদের সংবিধান এবং এশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনের চেতনা অনুযায়ী ‘সক্রিয় ও জোটনিরপেক্ষ’ (Active and Non-aligned) পররাষ্ট্রনীতি পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইন্দোনেশিয়ার উচিত নয় কোনো পরাশক্তির স্বার্থের কাছে মাথা নত করা। পররাষ্ট্রনীতি অবশ্যই সংবিধানের নির্দেশ অনুযায়ী স্বাধীন, সক্রিয় এবং যেকোনো উপনিবেশবাদের বিরোধী হতে হবে।
প্রতিবাদকারীরা ফিলিস্তিন, বিশেষ করে গাজার মানবিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে আরও স্পষ্ট ও সক্রিয় কূটনৈতিক অবস্থান প্রয়োজন। এই জোটের মতে, নিপীড়িত জাতিগুলোর সংগ্রামের সম্মুখসারিতে থাকার ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়িত্ব ইন্দোনেশিয়ার রয়েছে।
সালেহ জোর দিয়ে বলেন, যদি ইন্দোনেশিয়া নীরব থাকে, তবে তা আমাদের জাতির সংগ্রামের ইতিহাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।
সমাবেশ চলাকালে প্রতিবাদকারীরা উপনিবেশবাদবিরোধী, মানবিক সংহতি এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যে বক্তারা বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশের শেষে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে যেকোনো ধরনের উপনিবেশবাদ ও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি পাঠ করেন। তারা স্লোগান দেন, বিশ্বজুড়ে উপনিবেশবাদের অবসান হোক। ইন্দোনেশিয়ার সক্রিয় ও জোটনিরপেক্ষ নীতি ফিরিয়ে আনুন। নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ান।
সূত্র: আহলুল বাইত ইন্দোনেশিয়া
আপনার কমেন্ট