হাওজা নিউজ এজেন্সি: খোররামশাহর মুক্তি ও ‘অপারেশন বাইতুল মুকাদ্দাস’-এর স্মরণে আয়োজিত ‘তৃতীয় খোরদাদের মহাকাব্য’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন।
জেনারেল জাহানশাহী বলেন, ১৯৭৯ সালের গৌরবময় ইসলামী বিপ্লবের বিজয় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইসলামী ইরান বারবার প্রমাণ করেছে যে, কোনো শত্রুই এ দেশের সামনে টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে না।
তিনি বলেন, “তৃতীয় খোরদাদ তথা খোররামশাহর মুক্তি ছিল ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও বীর জাতির দৃঢ়তা, আত্মত্যাগ এবং অটল মনোবলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব এবং ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ আলী খামেনেয়ীর দিকনির্দেশনায় এই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়েছিল। তাঁদের নাম ও স্মৃতি আজও বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতাকামী মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত হয়ে আছে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আজ পুরো বিশ্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার জায়নবাদী শাসনের অপমান ও ব্যর্থতা প্রত্যক্ষ করছে।”
তিনি আরও বলেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাবে শত্রুকে কঠোর ও অনুতাপজনক প্রতিক্রিয়া জানাতে সম্পূর্ণ সক্ষম।
জেনারেল জাহানশাহী বলেন, “বীর ইরানি জাতির ঐক্য ও সংহতির শক্তিতে বলীয়ান ইরান সর্বদা ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করবে।” তিনি যোগ করেন, “বিশ্বের দাম্ভিক শক্তিগুলো যদি ইরানে তাদের অশুভ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে তার মূল কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ জাতীয় ঐক্য ও সংহতি।”
তিনি বলেন, ইরাকের চাপিয়ে দেওয়া আট বছরের যুদ্ধের সময় সম্মিলিত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে খোররামশাহর মুক্ত করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আজ যদি শত্রুরা আবারও কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), প্রতিরোধী ইরানি জাতির ঐক্য ও সংহতির সহায়তায় অতীতের তুলনায় আরও কঠোর জবাব দেবে।”
শেষে তিনি বলেন, দেশের সীমান্তসমূহকে বহিঃশত্রুর হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে ইরানের স্থলবাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও উচ্চ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অবস্থানে রয়েছে।
আপনার কমেন্ট