হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন: কোমের ইসলামি শিক্ষাপীঠের উচ্চস্তর ও খারিজ পর্যায়ের অধ্যাপক সংগঠনের সম্মেলনে ‘ইসলামি শিক্ষাপীঠ, উত্থিত উম্মাহ, বেয়ালায়াতের সাথে বাই’আত’ শীর্ষক মহান আয়াতুল্লাহ নুরি হামাদানি প্রদত্ত বার্তার পূর্ণ বিবরণ নিম্নরূপ:
بسم الله الرحمن الرحیم
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِینَ، وَ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلَی سَیِّدِنَا وَ نَبِیِّنَا أَبِی الْقَاسِمِ الْمُصْطَفَی مُحَمَّدٍ، وَ عَلَی أَهْلِ بَیْتِهِ الطَّیِّبِینَ الطَّاهِرِینَ، سِیَّمَا بَقِیَّةِ اللَّهِ فِی الْأَرَضِینَ، وَ لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَی أَعْدَائِهِمْ أَجْمَعِینَ إِلَی یَوْمِ الدِّینِ.
قُلْ إِنَّما أَعِظُکُمْ بِواحِدَة أَنْ تَقُومُوا لِلّهِ مَثْنی وَ فُرادی
আমাদের প্রভু ইমাম বাকিরুল উলুম (আ.)-এর শাহাদাত বরকত স্মরণে প্রথমে শোক জ্ঞাপন করছি এবং এই মহিমান্বিত সম্মেলনে আপনাদের সম্মানিত অধ্যাপক ও মর্যাদাবান ফাজিলদের প্রতি সালাম ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। খাঁটি মুহাম্মদি ইসলামের পথে জিহাদের জন্য আপনাদের এই সমাবেশ ও একত্রিত হওয়াকে আমি মূল্যায়ন করছি।
পবিত্র কোরআনে ঐক্য ও আল্লাহর উদ্দেশে দণ্ডায়মান হওয়ার বিষয়টি ‘ওয়া’তাসিমু’ (সকলেই আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ করো), ‘তা’আওয়ানু’ (পারস্পরিক সহযোগিতা করো), ‘আসলিহু’ (সংশোধন করো), ‘আল্লাফা বাইনাহুম’ (তাদের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করেছেন), ‘উম্মাতুং ওয়াহিদাহ্’ (এক উম্মাহ), ‘উম্মাতে ওয়াসাতা’ (মধ্যমপন্থী উম্মাহ), ‘হিযবুল্লাহ’ (আল্লাহর দল), ‘জুনদুল্লাহ’ (আল্লাহর সৈন্যবাহিনী) এবং ‘উখুওয়াহ’ (ভ্রাতৃত্ব)-এর মতো ধারণার মাধ্যমে জোরালোভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সমাবেশ এ সকল বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ইসলামি রাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি ঐক্য সৃষ্টি করেছে।
ইসলামি রাষ্ট্রকে তার লক্ষ্য ও কার্যক্রম বাস্তবায়নে সফল করে তোলে ওলায়াতে ফকীহের চারপাশে এই একতা, সংহতি ও সমন্বয়ই।
আজ জনগণ জেগে উঠেছে এবং ইসলামি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এক অভূতপূর্ব ঐক্য ও সংহতির সাথে এবং ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা মহান আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মুজতবা হোসেইনি খামেনেয়ি (রহ.)-এর অনুসরণে শক্তির শীর্ষে পৌঁছানোর দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। আপনাদের এই সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের সমাবেশ এই আন্দোলনকে শক্তিশালী ও মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আমি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আপনাদের (প্রিয় অধ্যাপকদের) জিহাদের প্রশংসা করছি এবং ধর্মের জ্ঞান প্রচার, সচেতনতা বৃদ্ধি ও এই সংকটপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্তে পবিত্র জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ়করণে আপনাদের কার্যকর ভূমিকার ওপর জোর দিচ্ছি। দেশের আজকের বিশেষ পরিস্থিতিতে আমি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির ওপর দ্বিগুণ জোর দেওয়া প্রয়োজন মনে করি।
একটি বিশ্বাসী, ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও মজবুত সমাজ গঠনে ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসরণ করা, দেশ ও বিশ্বের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এবং বিপ্লবী আলেম পিঠার (হাওজায়ে ইলমিয়ায়ে এংকেলাবি) আলোচনার বিকাশ ঘটাতে ব্যাপক ও আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো -এগুলো হলো সেই সকল কাজ যেগুলো কোমের ইসলামি শিক্ষাপীঠের অধ্যাপক সংগঠন হিসেবে আপনাদের মিশন। নিষ্কলুষ ইমামগণ (আল্লাহর দরুদ তাদের ওপর) ও মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করে আপনাদের এর বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে।
আজ আপনাদের জনগণের মাঝে উপস্থিত থাকা, তাদের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং তাদের মাঝে সাহসিকতা ও আশার সঞ্চার করাই আপনাদের এই সম্মানিত সংগঠনের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমি মহান আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে আপনাদের সাফল্য কামনা করছি।
এখানে আমি ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার (রহ.) সকল নির্দেশনা অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া আবশ্যক মনে করছি, বিশেষ করে ইরানের জনগণের দাবি পূরণের লক্ষ্যে চলমান আলোচনাগুলোতে তাঁর দ্বারা বর্ণিত লাল রেখাগুলো মেনে চলার ব্যাপারটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
শেষ পর্যন্ত, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় নেতা, সম্মানিত ইরানি জাতি, আপনাদের সম্মানিত অধ্যাপকদের সাফল্য এবং আত্মত্যাগী যোদ্ধাদের চূড়ান্ত বিজয় প্রার্থনা করছি। এই সম্মানিত পরিষদের সকল আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই এবং মহান আল্লাহর কাছে সবার সাফল্য কামনা করছি।
পবিত্র জিলহজ মাসের ৭ তারিখ, ১৪৪৭ হিজরি
৩রা খুরদাদ, ১৪০৫ হিজরি সৌর
হোসেইন নুরে হামাদানি
আপনার কমেন্ট