বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২৬ - ১২:০৭
একদিনে ইসরাইলি সেনাদের ওপর ৩৭ বার হামলা, দাবি হিজবুল্লাহর

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহতের প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ একদিনেই ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে ৩৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনের জবাবে সংগঠনটি তাৎক্ষণিক এ পদক্ষেপ নেয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, এর আগে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এসব হামলায় আরও প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন।

দৈনিক ইনকিলাবের এ খবর নিয়ে কিছু কথা:

আসলে লেবাননে কোনো সিজ ফায়ার ই কার্যকর ও বলবৎ হয় নি। সংঘর্ষ চলছেই। আগে হিজবুল্লাহ এক তরফা সিজ ফায়ার মেনে চলত ও পালন করত এবং ইসরাইল তা লঙ্ঘন করেই যেত। কিন্তু এবার সেটা হচ্ছে না। ইসরাইল সিজ ফায়ার লঙ্ঘন করলে হিজবুল্লাহ তাৎক্ষণিক জবাব দিচ্ছে।

একদিনে ইসরাইলি সেনাদের ওপর ৩৭ বার হামলা, দাবি হিজবুল্লাহর

গতকাল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ৩১ জনকে হত্যা ও ৪০ জনকে আহত করেছে যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এর পাল্টাপাল্টি হিজবুল্লাহ হানাদার দখলদার ইসরাইলী সেনাদের ওপর ৩৭ বার হামলা চালিয়েছে। আর ঠিক এটাই করা উচিত। কারণ সিজ ফায়ার উপেক্ষা ও লঙ্ঘন করে হামলা হচ্ছে আগ্রাসী ইসরাইলের জন্য চড়ুইভাতি তুল্য।

এগুলো করে ইসরাইল প্রতিপক্ষের জনগণের মনে ভীতির সঞ্চার করে থাকে। তাই তথাকথিত সিজ ফায়ার চলাকালীন সময়ে সিজ ফায়ার লঙ্ঘনের সমুচিত জবাব দেওয়াই হচ্ছে সঠিক পদক্ষেপ। আক্রমণের মুখে এক তরফা সিজ ফায়ার মেনে চলার মানে হয় না।

বিশ্ববাসী এবং লেবাননের মার্কিন-সৌদি পন্থী দুর্বল প্রেসিডেন্ট ও সরকার ইসরাইলের এ সব আগ্রাসন ও সিজ ফায়ার লঙ্ঘনের ব্যাপারে একদম নির্বিকার বরং এই ধামাধরা লেবাননী সরকার ও প্রশাসন আগ্রাসী ইসরাইলের ব্যাপারে প্রতিরোধ করা এবং সোচ্চার ও প্রতিবাদ মুখর হওয়া তো দূরের কথা উল্টে এই আগ্রাসী যুদ্ধবাজ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সরাসরি আলোচনায় লিপ্ত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে ও প্ররোচনায় ইসরাইলী আগ্রাসন ও জবরদখলের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সংগ্রামকারী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের দাবি তুলছে!!!!

ডিভাইড এন্ড রুল নীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন লেবাননে প্রয়োগ করছে!সরকার,প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে এ নীতি প্রয়োগ করে প্রতিরোধ কারী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার পাঁয়তারা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।

হিজবুল্লাহর সাথে সরাসরি যুদ্ধ করে যা ইসরাইল অর্জন করতে পারে নি বা পারছে না তা এই ডিভাইড এন্ড রুল নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে লেবাননের খ্রিস্টান প্রেসিডেন্ট জেনারেল জোযেফ আউন ও সুন্নী প্রধান মন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সরকারকে কব্জা করে তাদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে!!!! আর নিজেদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো ধরনের অন্যায়, অপরাধ,অপকর্ম ও দুষ্কর্ম যেমন: নারী ও শিশু হত্যা করতে মোটেও দ্বিধা বোধ করে না। বরং এগুলোকে ওরা বৈধ বলেই বিবেচনা করে।

তাই এ ধরনের অপরাধী যালেম শত্রুর মোকাবেলায় সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম ছাড়া আর কোনো পথ নেই।এ ধরনের ভয়ানক গাদ্দার শত্রুর সাথে আলোচনা মোটেও ফলপ্রসূ হবার নয়। প্রত্যক্ষ প্রতিরোধ সংগ্রাম‌ ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে পরাস্ত করতে সক্ষম।

কিন্তু এই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মোক্ষম অস্ত্র হচ্ছে ওদের দেশীয় এজেন্ট ও  দালালরা যাদের দিয়ে ওরা (সাম্রাজ্যবাদী শক্তিরা) বিভিন্ন দেশে নিজেদের ষড়যন্ত্র মূলক নীল নকশা বাস্তবায়ন ও জাতিসমূহের ওপর আধিপত্য কায়েম করে থাকে। মুসলিম উম্মাহর উচিত ইসরাইল ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অভ্যন্তরীণ দেশীয় চর, এজেন্ট ও দালালদের সঠিক ভাবে চেনা।

ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha