হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের এই শূন্যতা প্রমাণ করে যে, নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন যেকোনো প্রথা ভেঙে কঠোর অবস্থানে যেতে প্রস্তুত।
এ খবর সংক্রান্ত কিছু কথা:
যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করা বা মেয়াদ শেষ হবার বেশ আগে বাধ্যতামূলক ভাবে অবসর প্রদান এবং যুদ্ধে সেনাপ্রধানের নিহত হওয়ার মধ্যে কার্যতঃ তফাৎ নেই। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই সেনাবাহিনী বরখাস্তকৃত বা বাধ্যতামূলক ভাবে অবসরপ্রাপ্ত সেনা প্রধান, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও কম্যান্ডারদের থেকে আর উপকৃত হতে পারে না।
বরখাস্ত হলেন মার্কিন সেনাপ্রধান রয়ান্ডি ও অ্যাটর্নি জেনারেল বন্ডি
ইরানের কোনো উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা ও জেনারেলকে বরখাস্ত করা বা অবসরে পাঠানো হয় নি। তবে বেশ কয়েকজন ইরানী জেনারেল ও সামরিক কর্মকর্তা মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও ইতরাইলের (ইসরাইল) গুপ্ত সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হয়েছেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যাপক মতপার্থক্যের কারণেই যেমন: ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং সামরিক কৌশল গত মত পার্থক্যের জন্য মার্কিন সেনা প্রধানকে ট্রাম্প প্রশাসন বরখাস্ত করে অবসরে পাঠিয়ে প্রমাণ করেছে যে ট্রাম্প সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সংক্রান্ত ব্যাপক তীব্র মতভেদ রয়েছে এবং এ থেকে প্রমাণিত হয় যে যুদ্ধে মাযুরা সেনাবাহিনী বেশ কিছু চোরাগোপ্তা নাশকতামূলক সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ড এবং সাধারণ বেসামরিক গণহত্যা ও ধ্বংস যজ্ঞ সাধন ব্যতীত আর কোনো কাঙ্ক্ষিত সামরিক সাফল্য ও বিজয় আনতে পারে নি!!!
বরখাস্ত কৃত সেনা প্রধান জেনারেল র্যান্ডি অ্যালান জর্জ উল্টে মন্তব্য করে বলেছে:"একজন উন্মাদ ব্যক্তি (ট্রাম্প) যুক্তরাষ্ট্রের মহান সেনাবাহিনীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।"
বরখাস্ত কৃত মাযুরা সেনাপ্রধানের এ উক্তি থেকে মাযুরার ট্রাম্প প্রশাসন ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যকার তীব্র মতভেদ, বিরোধ ও দ্বন্দ্ব যেমন স্পষ্ট হয়ে যায় ঠিক তেমনি ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে মাযুরা সেনাবাহিনীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছে!!!তার মানে হচ্ছে যে মাযুরার সেনাবাহিনী এখন হারুয়া ধ্বংস প্রাপ্ত সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে মাত্র ৪০ দিনের যুদ্ধে!!!!
কিন্তু সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরে প্রেরণের এ ধরনের ঘটনা ইরানের ক্ষেত্রে ঘটলে পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম সমূহ জোর ও প্রবল প্রচারণা চালাত ইরানের বিরুদ্ধে। কিন্তু এরা ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপারে এ নিয়ে কোনো প্রচারণাই চালাচ্ছে না!!!!
আর এ ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে ট্রাম্প ও তার তথাকথিত গণতান্ত্রিক বেসামরিক (সিভিল) প্রশাসন মাযুরার সেনাবাহিনীর চাইতেও বেশি যুদ্ধংদেহী ও যুদ্ধবাজ। আসলে তথাকথিত গণতান্ত্রিক পাশ্চাত্য ঠিক এমনই।এরা সামরিক ডিক্টেটরদের চাইতেও অধিক রক্তপিপাসু, রক্তপাতকারী, গণহত্যাকারী, যুদ্ধংদেহী ও যুদ্ধবাজ যা ইতিহাস ও সমসাময়িক-সমকালীন ঘটনা ও যুদ্ধবিগ্রহ সমূহ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত সত্য।
ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট