হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, কুরআনি দৃষ্টিভঙ্গি ও পবিত্র ইমামগণের (আ.) দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে গাদিরের ঘটনাকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উর্ধ্বে বিবেচনা করে উম্মাহর বেলায়েতের পথে দৃঢ় আনুগত্যের সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করা উচিত। কেননা আমাদের শহীদ ইমাম ও রাহবর, হজরত আয়াতুল্লাহিল উজমা ইমাম খামেনেয়ীও গাদিরকে ইসলামের রাজনৈতিক শাসনের ধারাবাহিকতা বলে মনে করেছেন এবং এর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
পবিত্র ঈদে গাদিরে খুম-এর প্রাক্কালে, যাকে "ঈদুল্লাহিল আকবার" (মহান আল্লাহর ঈদ) বলা হয়, আমরা আমাদের শহীদ রাহবরের কিছু বাণীর দিকে সংক্ষিপ্ত দৃষ্টি দিয়েছি, যেখানে গাদিরের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব এবং দীন ও মাযহাবের শিক্ষায় বেলায়েতের মর্যাদা ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
শহীদ ইমাম খামেনেয়ী এই বলে জোর দিয়েছেন যে, পথপ্রদর্শন ও শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে ইসলামি উম্মাহর কর্তব্য গাদিরের ঘটনায় নির্ধারিত হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন: "গাদিরের ঘটনা ও ওয়াকিয়া ইসলামের মাহাত্ম্য ও ব্যাপকতার নিদর্শন... গাদির নির্ধারণের বিষয়টি হলো মানদণ্ড ও নীতি নির্ধারণের বিষয়। ইসলামে একটি নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; মহানবী (সা.) তাঁর জীবনের শেষ মাসগুলোতে ইমামত ও বেলায়েতের নীতি স্থাপন করে গিয়েছিলেন।
অন্যত্র তিনি বলেন, মানুষ নানা ধরনের শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও, ইসলাম এসব শাসনব্যবস্থা, শক্তিমত্তা ও ক্ষমতাকেন্দ্রিকতাকে গ্রহণ করে না; বরং এটি ইমামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং এই ইসলামি নীতি গাদিরে ঘোষিত হয়েছে। তিনি আরও প্রকাশ করেন: গাদিরের গুরুত্ব কেবল এই নয় যে আমিরুল মুমিনীন (আ.)-কে নির্ধারণ করা হয়েছে; এটিও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে ইসলামি সমাজে রাজতান্ত্রিক শাসনের কোনো অর্থ নেই, ব্যক্তিগত শাসনের কোনো অর্থ নেই, অর্থ ও শক্তির শাসনের কোনো অর্থ নেই, অভিজাততান্ত্রিক শাসনের কোনো অর্থ নেই, জনগণের ওপর অহংকারের শাসনের কোনো অর্থ নেই, সুবিধাভোগ ও লালসা পূরণের শাসনের কোনো অর্থ নেই। ইসলামে এভাবে নির্ধারিত হয়েছে। এই নীতি গাদিরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যখন এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন ‘يَئِسَ الَّذينَ كَفَروا مِن دينِكُم’ (যারা কুফরি করে তারা তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেল)। এরপর শত্রুরা এই দ্বীনের পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে বলে নিরাশ হয়ে যায়; কারণ দ্বীনের পথ তখনই পরিবর্তিত হয় যখন সেই মূল বিন্দুটি, সেই মূল কেন্দ্রটি পরিবর্তিত হয়; অর্থাৎ ক্ষমতার কেন্দ্র, পরিচালনার কেন্দ্র, নেতৃত্বের কেন্দ্র; যদি তা পরিবর্তিত হয় তবে সবকিছুই পরিবর্তিত হয়।
শহীদ ইমাম তাঁর আরেকটি ভাষণে, ঈদে গাদির উপলক্ষ্যে স্পষ্ট করে বলেন: ইসলামের ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রথম যুগের ইসলামের ঘটনাবলির ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে গাদিরের বিষয়টি এমন একটি প্রয়োজনীয়তা ছিল যা যদি সেই পরিকল্পনা মতো বাস্তবায়িত হতো, তবে নিঃসন্দেহে মানবজাতির ইতিহাসের গতিপথ বদলে যেত। এবং তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন: গাদিরের বিষয়টি একটি সূচক, মানদণ্ড ও পরিমাপক তৈরির বিষয়। কেয়ামত পর্যন্ত মুসলমানরা এই সূচক ও মানদণ্ডকে সামনে রেখে উম্মাহর সাধারণ পথের কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারবে।
আমাদের শহীদ ইমামের নির্দেশনাগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যে তাঁর দৃষ্টিকোণ থেকে, আজও বিশেষ করে ইসলামি সমাজ ও আমাদের জনগণের গাদির এবং বেলায়েতের বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব সহকারে মনোযোগ দেওয়া উচিত; এই মনোযোগ ও যত্ন তাদের সঠিক পথ চলা থেকে বিচ্যুত হতে বাঁচাতে সাহায্য করে।
তিনি ইসলামি উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি রক্ষার বিষয়টির ওপর খুব জোর দিয়েছেন এবং একই সাথে বলেছেন: আমরা যদি ‘ইসলামি ঐক্য’ বলি এবং তার ওপর অটল থাকি, তাহলে ধারণা করা উচিত নয় যে আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ, উন্নত, মৌলিক ও মুক্তিদায়ক ইসলামি ধারণা, অর্থাৎ বেলায়েত ও গাদিরের ধারণাটি ভুলে যাব। গাদিরের বিষয়টি ভুলে যাওয়া যাবে না।
শহীদ রাহবরের গাদির উদযাপন ও এর সংস্কৃতিকে সম্মানিত করার বিষয়টির এত জোর দেওয়ার কারণ সম্ভবত তাঁর এই উক্তির মধ্যে খুঁজতে হবে: যারা ইসলামকে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় থেকে সরিয়ে রাখার এবং তা ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও প্রাইভেট জীবনের বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করেছে, অর্থাৎ যারা ইসলাম সম্পর্কে সেকুলার দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছে, তাদের উত্তর হলো গাদিরের বিষয়টি।
আপনার কমেন্ট