সোমবার ৮ জুন ২০২৬ - ১২:৫৪
দুনিয়ার নশ্বরতার স্মরণ মানুষকে অতিরিক্ত আসক্তি থেকে মুক্ত করে

দুনিয়ার মোহ, সম্পদ ও ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষকে তার চূড়ান্ত পরিণতির কথা ভুলিয়ে দেয়। অথচ মৃত্যু, বিনাশ ও পরিবর্তনই পার্থিব জীবনের অবশ্যম্ভাবী বাস্তবতা। এই সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করলে মানুষ তার জীবন, কর্ম ও আকাঙ্ক্ষাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে সক্ষম হয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক নৈতিক হাদিসের ব্যাখ্যায় এ বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন শহীদ বিপ্লবী নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনেয়ী (কুদ্দিসা নাফসুহুয্ যাকিয়্যাহ)।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন

ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে:

فِي الْكَافِي عَنِ الْبَاقِرِ (عَلَيْهِ السَّلَامُ): يُنَادِي مُنَادٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ: يَا ابْنَ آدَمَ، لِدْ لِلْمَوْتِ وَاجْمَعْ لِلْفَنَاءِ وَابْنِ لِلْخَرَابِ

অর্থাৎ: “হে আদমসন্তান! জন্মগ্রহণ করো মৃত্যুর জন্য, সঞ্চয় করো বিনাশের জন্য এবং নির্মাণ করো ধ্বংসের জন্য।”

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় শহীদ নেতা বলেন, এটি এমন এক সুস্পষ্ট সত্য যার প্রতি মানুষের মন ও বিবেক প্রায়ই উদাসীন হয়ে পড়ে। মানুষ জন্মগ্রহণ করে, বেড়ে ওঠে এবং জীবনকে স্থায়ী মনে করে; অথচ প্রতিটি জন্মের চূড়ান্ত পরিণতি মৃত্যু।

হাদিসের «لِدْ لِلْمَوْتِ» (মৃত্যুর জন্য জন্মগ্রহণ করো) অংশের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, মানুষের জন্ম নিজেই তার শেষ পরিণতির (মৃত্যুর) দিকে যাত্রার সূচনা।

তিনি «وَاجْمَعْ لِلْفَنَاءِ» (বিনাশের জন্য সঞ্চয় করো) বাক্যাংশের ব্যাখ্যায় বলেন, মানুষ অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা, জ্ঞান, বস্তুগত উপকরণ এবং পার্থিব জীবনের নানা উপকরণ অর্জনের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসবই ক্ষয়প্রাপ্ত ও বিলীন হয়ে যায়। আমরা যা কিছু সঞ্চয় করি, তা একদিন না একদিন আমাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেই। কখনও আমরা সেগুলোর মালিক বলে মনে করি, আবার কখনও সেগুলোই আমাদের জীবনকে ঘিরে রাখে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছুই ধ্বংস ও বিলয়ের পথে অগ্রসর হয়।

হাদিসের «وَابْنِ لِلْخَرَابِ» (ধ্বংসের জন্য নির্মাণ করো) অংশের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এ জগতের প্রকৃত স্বভাবই হলো পরিবর্তন, ক্ষয় ও নশ্বরতা (অস্থায়িত্ব)। মানুষ যত কিছু নির্মাণ করুক না কেন, একদিন তা ভেঙে পড়বে বা বিলীন হয়ে যাবে। দুনিয়ার কোনো বস্তুই স্থায়ী নয়; সবকিছুই আগমন ও প্রস্থানের নিয়মের অধীন।

তিনি আরও বলেন, এই বাস্তবতা মানুষকে প্রতিটি কাজের শুরুতেই তার পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য ও কর্মফলের কথা মনে রাখা মানুষের জন্য এক বড় শিক্ষা ও উপদেশ। এ উপলব্ধি পার্থিব বস্তু, সম্পদ ও মর্যাদার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমিয়ে দেয় এবং একই সঙ্গে নিজের অহং, কামনা-বাসনা ও আত্মকেন্দ্রিকতার প্রতিও মোহ হ্রাস করে।

শহীদ নেতা বলেন, দুনিয়ার নশ্বরতা (অস্থায়িত্ব) সম্পর্কিত এই উপলব্ধি মানুষকে সংযমী, দায়িত্বশীল এবং আখিরাতমুখী জীবন গঠনে সহায়তা করে।

সূত্র: আল-কাফি; উদ্ধৃত: আশ-শাফি, পৃষ্ঠা ৮৭৬

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha