হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের আগেই ইমাম খোমেনি (রহ.) অত্যন্ত গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বিশেষ করে লেবাননের ঘটনাপ্রবাহ অনুসরণ করতেন। ১৩৫৫ সালের ২ বহমান (২২ জানুয়ারি ১৯৭৭) এবং ১৩৫৭ সালের ২ ফারভারদিন (২২ মার্চ ১৯৭৮) প্রকাশিত তাঁর বার্তাগুলোতে তিনি লেবাননের যুদ্ধ, মানবিক সংকট, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং মুসলিম ও শিয়া জনগণের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি নিরস্ত্র ও অসহায় লেবাননিদের জরুরি সহায়তার ওপর জোর দেন।
ইমাম খোমেনির মতে, লেবাননের এই সংকট ছিল এমন একটি যুদ্ধ, যা “মানবতার শত্রুদের গোপন হাত উপনিবেশবাদ ও ইসরায়েলের স্বার্থে” সৃষ্টি করেছিল এবং দেশটিকে “এক ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপে” পরিণত করেছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, মুসলিম ভাইদের ওপর নেমে আসা বিপর্যয় ভাষায় প্রকাশের অতীত এবং শীতের মৌসুমে হাজারো আশ্রয়হীন ও অভিভাবকহীন পরিবার অকথ্য দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছিল।
জনগণের সহায়তা, বিশেষত ইরান থেকে পাঠানো সাহায্যের প্রশংসা করলেও তিনি সেগুলোকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করতেন। তিনি মুসলমানদের, বিশেষ করে ধনী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা ইসলামের সন্তান ও শহীদদের পরিবারগুলোর প্রতি তাদের ধর্মীয় ও মানবিক দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এ উদ্দেশ্যে শরিয়তসম্মত তহবিল (সাহমে ইমাম) ব্যবহারেরও অনুমতি দেন এবং সবাইকে কল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিপ্লবের পরও লেবাননের পাশে
ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের পরও ইমাম খোমেনি লেবাননের প্রতি তাঁর সমর্থন অব্যাহত রাখেন। ১৩৫৮ সালের ১৯ খোরদাদ লেবাননের শিয়া সাংবাদিক ও লেবানন প্রকাশক সমিতির সভাপতি রিয়াদ তাহা-এর সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি লেবাননের শিয়াদের উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন।
এই বার্তায় তিনি “আমাদের ভাইয়েরা” সম্বোধন ব্যবহার করে গভীর সহমর্মিতা ও ঐক্যের প্রকাশ ঘটান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইহুদিবাদী শক্তিগুলোর মুসলমানদের, বিশেষত লেবাননের জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত অমানবিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান এবং গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন:
“আমরা আপনাদের পাশে থেকে ইসরায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছি এবং আশা করি সত্যের বাহিনী তাগুতি ও শয়তানি শক্তির ওপর বিজয়ী হবে।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, মুসলমানদের ওপর এই ধরনের নির্যাতন নতুন কিছু নয়; ইতিহাসজুড়ে তাগুতি শক্তিগুলো ইসলামের বিরোধিতা করেছে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়েছে।
শেষে তিনি আল্লাহর কাছে লেবাননের জনগণ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় ও সফলতা কামনা করেন।
এই বার্তা প্রমাণ করে যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরও ইমাম খোমেনি লেবাননের নিপীড়িত মুসলমানদের সমর্থন এবং ইসরায়েল ও বৈশ্বিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের নীতিতে অটল ছিলেন।
বার্তার মূল অংশ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আমাদের ভাইয়েরা!
সালাম ও শুভেচ্ছার পর, আমরা লেবাননের পরিস্থিতি এবং আমাদের ভাইদের ওপর নেমে আসা দুর্ভোগের প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য রাখছি। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইহুদিবাদীদের পক্ষ থেকে মুসলিম ভূখণ্ড, বিশেষত লেবাননের জনগণ ও আমাদের ভাইদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অমানবিক কর্মকাণ্ডে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত।
আমরা আশা করি, মহান আল্লাহ-যিনি নিপীড়িত ও বঞ্চিতদের সহায়-এই কঠিন সময়ে আপনাদের এবং আমাদের সকল ভাইকে তাঁর সাহায্য দ্বারা সমর্থন করবেন।
আমরা আপনাদের পাশে থেকে ইসরায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছি এবং আশা করি সত্যের বাহিনী তাগুতি ও শয়তানি শক্তির ওপর বিজয়ী হবে।
আপনাদের এই দুঃখ-কষ্ট ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য নতুন কিছু নয়। সব সময় তাগুতি শক্তিগুলো ইসলামের বিরোধিতা করেছে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।
আমি আপনাদের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় ও সফলতা কামনা করছি।
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
রুহুল্লাহ আল-মুসাভি আল-খোমেনি।
আপনার কমেন্ট