বুধবার ১০ জুন ২০২৬ - ১২:৪২
হারেৎজের দাবি: ‘ঐক্যবদ্ধ যুদ্ধক্ষেত্র’ সমীকরণ প্রতিষ্ঠায় সফল হচ্ছে ইরান

ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ দাবি করেছে, ইরান ধীরে ধীরে “ঐক্যবদ্ধ যুদ্ধক্ষেত্র” (Unity of Fronts) নামে একটি নতুন কৌশলগত সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করছে, যার ফলে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েলের স্বাধীন সামরিক পদক্ষেপের সক্ষমতা সীমিত হতে পারে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, এই নীতি সফল হলে দেশটির প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন বাস্তবতা তৈরি হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ দাবি করেছে, ইরান ধীরে ধীরে “ঐক্যবদ্ধ যুদ্ধক্ষেত্র” (Unity of Fronts) নামে একটি নতুন কৌশলগত সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সামরিক স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে।

পত্রিকাটি ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানায়, দেশটির সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলের প্রতিরোধক্ষমতা (Deterrence) ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে এবং বিভিন্ন ফ্রন্টে দ্রুত ও স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ইরান একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে সফল হয়েছে। এখন লেবাননে সংঘটিত যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে একটি বৃহত্তর ও অভিন্ন সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন আঞ্চলিক ফ্রন্ট-বিশেষ করে লেবাননসহ অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ এলাকাকে একটি সমন্বিত যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এর ফলে কোনো একটি ফ্রন্টে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ অন্য ফ্রন্টগুলোর প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যদি ইরান এই নীতিকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়, তাহলে লেবানন এবং অন্যান্য অঞ্চলে স্বাধীন ও দ্রুত সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মূল্যায়ন ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রতিফলন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রার ইঙ্গিত বহন করে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha