হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননের সরকার ও জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার মধ্যে ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনা এবং এই শাসনব্যবস্থার লেবাননের ভূখণ্ডে অব্যাহত হামলা প্রসঙ্গে বলেছেন: এই প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি ওয়াশিংটন আলোচনা শুরুর আগের সময়ে ফিরে যেতে চাই। অর্থাৎ যখন ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এবং তেহরান জোর দিয়েছিল যে যুদ্ধবিরতি অবশ্যই লেবাননসহ প্রতিরোধের সকল ফ্রন্টকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ যে টুইট করেছিলেন তা দেখিয়েছিল যে লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ, এবং এর মাধ্যমে তিনি ইরানের অবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন। এই টুইটের পরেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার মধ্যে কিছু বিভেদ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
লেবানন ও পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাপ্রবাহ বিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন: জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রতিরোধের বিভিন্ন ফ্রন্টের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন এবং এই শাসনব্যবস্থার লেবাননের সংঘাতকে প্রতিরোধ অক্ষর অন্যান্য সদস্যদের থেকে আলাদা করতে চেয়েছিলেন। তিনি প্রথমে হিজবুল্লাহর সাথে একটি সংঘর্ষ চালাতে চেয়েছিলেন এবং তারপর ইরানের বিরুদ্ধ যুদ্ধে নামতে চেয়েছিলেন। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যা চেয়েছিলেন তা হলো, ইরানের সাথে আলোচনার দাবিগুলো তিনি তেহরানের কাছ থেকে দানা দানা আদায় করতে সক্ষম হবেন।
আমরা হরমুজ প্রণালী সম্পর্কে কথা বলি, ট্রাম্প চেষ্টা করছিলেন নৌ অবরোধ এবং তথাকথিত হরমুজ প্রণালীর স্বাধীনতা অভানের মাধ্যমে ইরানের কাছ থেকে এই লিভারেজ (কৌশলগত সুবিধা) কেড়ে নিতে। ইরানের অবর সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে, রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র "পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ তীরের আরব দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান" আলোচনার মাধ্যমে ইরানের এই দাবিকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছে।
প্রশ্নের জবাবে যে "কিভাবে জায়নবাদী শাসনব্যবস্থারানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার টেবিল থেকে লেবানন সংক্রান্ত ইরানের শর্তটি সরিয়েিতে পারে?" তিনি বলেছেন: এই শাসনব্যবস্থার গৃহীত একটি উপায় হলো বৈরুতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের বিষটি। এই লক্ষ্যে লেবানন ও ইসরাইল শাসনব্যবস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যে চার দফা আলোচনা ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এর আগে উভয় পক্ষের সামরিক প্রতিনিধিদের মধ্যে এক দফা আলোচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রকৃতপে, জায়নবাদী শাসনবস্থা বৈরুতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের মাধ্যমে এমনভাবে দেখাতোয় যে লেবানন ইরান-মার্কিন আলোচনা থেকে একটি পৃথক বিষয়।
লেবাননের ঘটনাপ্রবাহের এই বিশ্লেষক, উল্লেখ করে যে নেতানিয়াহু লেবাননে নতুন-করে তীব্র হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেতে সক্ষম হয়েছেন, বলেন: এই হামলাগুলি লিতানি নদীর বাইরেও চালানো হয়েছে এবং এখন তা সমগ্র দক্ষিণ লেবানন জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকদিনে জায়নবাদী সেনারা দক্ষিণের কিছু এলাকা অতিক্রম করে এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখান থেকে তারা দক্ষিণ লেবানন এবং বেকা উপত্যকার মধ্যবর্তী এলাকা দখল করতে পারে এবং হিজুল্লাহর কৌশলগত গভীরতায় পৌঁছাতে পারে।
তিনি আরও বলেন: আমরা যদি এই ঘটনাগুলোকে একসাথে বিবেচনা করি, তাহলে একটি সামগ্রিক চিত্র ফুটে ওঠে যেখানে শক্তির অবস্থান থেকে বৈরুত সরকার সাথে শান্তি এবং একই সাথে শক্ত অবস্থান থেকে হিজবুল্লাহর বিরে যুদ্ধ চলছে। আমার মতে, এই দুটি বিষয়ে নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের মধ্যে একটি সাধারণ অভিন্ন লক্ষ্য এবং একটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
এই সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি দু'পক্ষের মধ্যে একটি সামগ্রিক কাজ ভাগাভাগির উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই ভিত্তিতে, ট্রাম্প আলোচনার টেবিলে এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে লেবাননে ইরানের ভূমিকা ও অবস্থানকে অবৈধ ঘোষণা করার কাজটি এগিয়ে নিয়ে যান।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু মাঠ পর্যায়ে এবং সামরিক ক্ষেত্রে হিজবুল্লাহকে লেবাননের নিরাপত্তা-রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল এবং শেষ পর্যন্ত বৈরুতের শাসক সরকারের সমন্বয়ে লেবানন থেকে ইরানকে বিতাড়িত করার কাজটি এগিয়ে নিয়ে যান। তাই প্রতিরোধ অক্ষের উচিত এই কাজ ভাগাভাগির মোকাবিলায় একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা।
পীরমোহাম্মদী অঞ্চলের ঘটনাপবাহের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলেন: ট্রাম্পের মানসিক মডেলে যুদ্ধবিরতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরির অর্থ ও ধারণা থেকে ভিন্ন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি হলো টেকসই শান্তি অর্জনের একটি ভূমিকা, অথচ ট্রাম্পের মানসিক মেলে যুদ্ধবিরতি একটি অস্থিতীল এবং ভঙ্গুর অবস্থা। এর অর্থ হলো, বিপক্ষ পক্ষ যখনই ইচ্ছা করবে অথবা মাঠ ও রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন দেখতে পাবে, তখনই যুদ্ধ শুরু করে নিজের কাজ সম্পন্ন করবে।
ভঙ্গুর ও অস্থিতিশীল যুদ্ধবিরতির মোকাবিলায় প্রতিরোধ অক্ষের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন: প্রতিরোধ অক্ষের জন্য কৌশলগত স্তরে যা আছে তা হলো ময়দানের একতার কৌশল। অর্থাৎ, এই একতা ও সমন্বয় শুধু মাঠ পর্যায়ে থাকা উচিত নয়, বরং আলোচনার ক্ষেত্রেও এই একতা থাকা উচিত। যদি ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে যুদ্ধবিরতি অবশ্যই সামরিক ময়দান এবং কূটনীতির ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ময়দানগুলিকে আলাদা করতে দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ, গাজা থেকে শুরু হয়ে লেবানন এবং ইরাক পর্যন্ত যেতে হবে।
শেষে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ময়দানগুলির একীকরণের উপর জোর দিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন: সাম্প্রতিক কিছু সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর বিষয়ে একটি ভাল সমন্বয় (সম্মিলিত ঐক্য) তৈরি হয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি অব্যাহত রাখা উচিত এবং তেহরানের উচিত লেবানন সম্পর্কে নিজস্ব নীতির ওপর জোর দেওয়া। কারণ, এই ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কোনো পশ্চাদপসরণ হলে নিশ্চিতভাবেই বিপক্ষ পক্ষ এক ধাপ এগিয়ে আসবে।
আপনার কমেন্ট