হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় ইরানের দুটি প্রধান জলাধার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত
এ খবর নিয়ে কিছু প্রাসঙ্গিক কথা:
খবীস অমানুষ নরপশু শিমার ও ইয়াযীদদের যোগ্য উত্তরসূরি মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) পারে জলাধারের মতো বেসামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে যাতে সাধারণ জনগণ পানির মত অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে বঞ্চিত হয়ে কষ্ট পায় এবং এ ধরনের দুরাবস্থার শিকার হয়ে যেন তারা ইরান সরকারকে চাপ দেয় মাযুরার সাথে যুদ্ধ বন্ধের অসম চুক্তি করতে যা মাযুরার অন্যায় আব্দার ও স্বার্থ পূরণ করবে।
মার্কিন হামলায় ইরানের দুটি প্রধান জলাধার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত
বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত না হেনে মাযুরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী ও বিশেষ করে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌশক্তির অধিকারী হয়ে কেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে হোরমুয প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে পারছে না যা ইরান বিগত ১০২ দিন ধরে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। যদি যুদ্ধ করে হোরমুয প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে পারত মাযুরা তাহলে তো সবাই মাযুরাকে বাহবা দিত এবং মনে করত যে মাযুরা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। অথচ হোরমুয প্রণালী থেকে মাত্র কয়েক শো কিলোমিটার দূরেই বাহরাইনে রয়েছে মাযুরার ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তর ও নৌঘাঁটি এবং হোরমুষ প্রণালী থেকে মাত্র ৮০-১০০ কিলোমিটারের মধ্যে আরব আমিরাতের ফুজাইরায় রয়েছে মাযুরার আরেকটি বড় নৌঘাঁটি!!!
এ ছাড়া হোর্মুয প্রণালী থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন। আর আরব সাগর ও ওমান সাগরেও বিচরণ করছে মাযুরার আরো ৩০-৪০ টিরও বেশি যুদ্ধ জাহাজ এবং ইউএসএস ত্রিপোলি। ঠিক একই সময় পারস্য উপসাগরের ভিতরেও কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত, সৌদি আরবের বন্দর সমূহে এবং এগুলোর কাছে মাযুরার আরো বেশ কিছু যুদ্ধ জাহাজ রয়েছে।
মাযুরা দাবি করেছে যে ৪০ দিনের যুদ্ধে নাকি মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনী এবং সামরিক শক্তির ৮০-৯০ ভাগ ধ্বংস করে দিয়েছে এবং ইরানী সশস্ত্র বাহিনী নাকি এখন খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাহলে এত বিশাল বিশাল অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ,নৌ ও বিমান শক্তি নিয়ে ইরানের ধ্বংস প্রাপ্ত নৌবাহিনী এবং দুর্বল হয়ে যাওয়া সামরিক শক্তির হাত থেকে হোর্মুয প্রণালী কেন মুক্ত করতে পারছে না যা ১০২ দিন ধরে ইরান নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে?!!
এখন প্রশ্ন: ইরান কিভাবে হোর্মুয প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে? ভুত-প্রেত বাহিনী ও জ্বিন-পরি দিয়ে নাকি ধ্বংস প্রাপ্ত নৌবাহিনী, অকেজো হয়ে যাওয়া বিমান বাহিনী ও দুর্বল হয়ে পড়া স্থল বাহিনী দিয়ে?!! এটা সুস্পষ্ট যে হোর্মুয প্রণালী নিয়ন্ত্রণ এবং এর আশেপাশের সমুদ্র ও জলসীমা নিয়ন্ত্রণ ও দেখভাল অবশ্যই নৌশক্তির মাধ্যমেই মূলতঃ করছে ইরান এবং শুধু স্থল ও বিমান বাহিনী দিয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাহলে পারস্য উপসাগর ও উপসাগরীয় দেশগুলোয়
মাযুরা এত বিশাল নৌশক্তি ও বিমান বাহিনী মোতায়েন করে কি ঘাস কাটছে ও ভেরেণ্ডা ভাজছে?!!!ইরান কিভাবে যুদ্ধ শুরুর দিন থেকে এখন পর্যন্ত এই ১০২ দিন ধরে হোরমুয প্রণালী পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এক প্রকার বাধ্য হয়ে মাযুরা সহ গোটা বিশ্বকে জ্বালানি সংকট ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য সংকট সহ অর্থনৈতিক মন্দা ও দূরাবস্থায় ফেলে দিতে সক্ষম হল? (ইরান এ সংকট ইচ্ছা করে সৃষ্টি করে নি। বরং এ সংকট সৃষ্টির জন্য ইরান নয় মূলত মাযুরা ও ইতরাইলই দায়ী।মাযুরা ও ইতরাইলের অন্যায় যুদ্ধ, আক্রমণ ও আগ্রাসনের কারণেই ইরান হোরমুয প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে বাধ্য হয়েছে।আর জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভৌগলিক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক অবস্থানগত কারণেও এ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের অধিকার ইরানের আছে।)
এ অবস্থা তো ইরানের বিরুদ্ধে মাযুরা ও ইতরাইলের (ইসরাইল) আগ্রাসন ও চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের আগে ছিল না।মাযুরা ও ইতরাইল এ যুদ্ধে ইরানের শাসনব্যবস্থা ও সরকারের পতন ঘটাতে অথবা ইরানকে নি:শর্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে তো পারেই নি বরং ইরান উল্টে বিশ্ব অর্থনীতির চোক পয়েন্ট হোর্মুয প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে যা এ অন্যায় যুদ্ধের আগে মুক্ত ছিল।আর ইরান বীরবিক্রমে আক্রমণ চালিয়ে অত্র অঞ্চলের দেশগুলোতে বিদ্যমান ২৮ টিরও অধিক মাযুরার সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস বা মারাত্মক ক্ষতিসাধন করেছে যার ফলে ঐ সব ঘাঁটি ব্যবহারের অনোপযোগী হয়ে গেছে।
তাহলে তো মাযুরা ও ইতরাইল (ইসরাইল) ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিততে পারে নি বরং ব্যর্থ ও বিফল হয়েছে যার প্রমাণ হচ্ছে যে হোর্মুয প্রণালী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরই ইরান ১০২ দিন ধরে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং মাযুরা এই দীর্ঘ ১০২ দিন ধরে বহু চেষ্টা তদ্বির করে ও আক্রমণ চালিয়ে হোর্মুয প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে পারছে না যার সর্বশেষ প্রচেষ্টায় আজ (১০ জুন বুধবার ২০২৬) ভোর রাতে আক্রমণ চালিয়ে কাপুরুষের মতো দক্ষিণ ইরানের এক শহরের দুটো
প্রধান জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যা নি:সন্দেহে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে
অপরাধ।আর ইরান মাযুরার বর্বর অপরাধমূলক এই আগ্রাসনের জবাবে কুয়েত,বাহরাইন ও জর্দানে বিদ্যমান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সমূহে সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে মাযুরার প্রভুত সামরিক ক্ষতি সাধন করেছে।
আর এ থেকে প্রমাণিত হয় যে মাযুরা,ইতরাইল তথা গোটা পাশ্চাত্য (অতি অল্প কিছু ব্যতীত) অসভ্য,বর্বর ও পথভ্রষ্ট যারা হিংস্র পশু ও জানোয়ারের চাইতেও অধম ও হীন নীচ।
ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট