হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, “যে কণ্ঠস্বর দেয়ালে পৌঁছেছিল” শীর্ষক একটি দ্বিভাষিক বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এতে জাপান ও ইরানের শিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্ম স্থান পাবে। বইটির মূল বিষয় “শিশু, যুদ্ধ ও শান্তি: দুই সভ্যতার দৃষ্টিভঙ্গি”। এটি ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব কার্যালয় এবং জাপান-ইরান আর্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সহযোগিতায় প্রস্তুত ও প্রকাশিত হবে।
জাপানে ইরানের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব কার্যালয়ের পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছর মিনাবের শাজারা তাইয়্যেবা স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং সেখানে শিক্ষার্থী শিশুদের শহীদ হওয়ার ঘটনা শুধু মানবিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ইরানের ন্যায়সংগত দাবির কণ্ঠস্বর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দেওয়ারও একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে টোকিওতে অবস্থিত ইরানের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব কার্যালয়, জনকূটনীতির দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে, শিল্পের মাধ্যমে এই ঘটনার বাস্তবতা বিশ্ববাসীর কাছে-বিশেষত জাপানি জনগণের কাছে-তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ প্রকল্পের আয়োজন করেছে।
হিরোশিমা ও নাগাসাকির স্মৃতি বহন করার কারণে জাপানের জনগণের সঙ্গে “যুদ্ধের মধ্যে শিশুর জীবন” বিষয়টির একটি গভীর আবেগিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সাংস্কৃতিক ও মানবিক মিল ইরান ও জাপানের মধ্যে শিল্পভিত্তিক সংলাপের একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করেছে। সেই কারণে এই প্রতিনিধিত্ব কার্যালয় উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি সুসংগঠিত যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
এই প্রকল্প মিনাবের ঘটনাকে শুধু সংবাদভিত্তিক আলোচনার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তঃসাংস্কৃতিক শিল্পভাষার পর্যায়ে উন্নীত করবে। জাপানি দর্শকরা একজন ইরানি শিল্পীর চিত্রকর্মের মাধ্যমে আবেগগত ও দৃশ্যগত সহমর্মিতার ভিত্তিতে এই ঘটনার সঙ্গে পরিচিত হবেন।
এটিই কার্যকর জনকূটনীতির মূল দর্শন, যা মানুষের অভিন্ন অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির ওপর গুরুত্ব দেয়।
অন্যদিকে, তেহরানে জাপানি শিল্পীদের শিল্পকর্ম প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরানের শিশুদের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের বার্তাও দেশীয় দর্শকদের কাছে পৌঁছাবে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানি পক্ষের উদ্যোগ ও সক্রিয় ভূমিকাও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে।
আপনার কমেন্ট