হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্মেনিয়ায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোহাম্মদ আসাদি-মোভাহেদ এবং ইয়েরেভান আন্তর্জাতিক বইমেলার পরিচালক আনি কাজারিয়ান এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে উভয় পক্ষ ইরান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আসন্ন ইয়েরেভান আন্তর্জাতিক বইমেলায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেন।
কাজারিয়ান গতবারের বইমেলায় ইরানি প্রকাশক, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, ইরানের উপস্থিতি এই গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আসন্ন আয়োজনে ইরানের অংশগ্রহণ প্রকাশক, লেখক এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচির দিক থেকে আরও বিস্তৃত ও দৃশ্যমান হবে।
১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বইমেলা
কাজারিয়ান জানান, এ বছরের ইয়েরেভান আন্তর্জাতিক বইমেলা ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে ১৫টিরও বেশি দেশের প্রকাশক, লেখক, অনুবাদক ও বই-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তাঁর মতে, এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য হবে “ভাষা ও অনুবাদ”। কর্মসূচির একটি বড় অংশ অনুবাদ সাহিত্য, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নে অনুবাদের ভূমিকা নিয়ে নিবেদিত থাকবে।
প্রকাশনা খাতের জন্য বিশেষ বৈঠক
তিনি আরও জানান, বইমেলার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা এবং প্রকাশনা শিল্পের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি B2B (বিজনেস-টু-বিজনেস) বৈঠকের আয়োজন করা হবে।
এই কর্মসূচিগুলোর উদ্দেশ্য হলো অভিজ্ঞতা বিনিময়, পেশাগত যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন দেশের প্রকাশক, অনুবাদক ও লেখকদের সক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে পারস্পরিক পরিচিতি বৃদ্ধি করা। এর ফলে প্রকাশনা, অনুবাদ এবং কপিরাইট বিনিময়ের ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
আর্মেনীয় ভাষায় ইরানি লেখকের বই অনুবাদের প্রস্তাব
কাজারিয়ান জানান, বইমেলার সচিবালয় ইরানি প্রকাশকদের জন্য তিনটি স্টল বরাদ্দ করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি একজন ইরানি লেখককে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁর সাহিত্যকর্ম উপস্থাপন এবং বিভিন্ন আলোচনা ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি প্রস্তাব করেন যে যৌথ সাংস্কৃতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে কোনো একজন ইরানি লেখকের একটি বই আর্মেনীয় ভাষায় অনুবাদ করে বইমেলার সময় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ ও উন্মোচন করা যেতে পারে।
তাঁর মতে, এই উদ্যোগ দুই দেশের পাঠকদের একে অপরের সমকালীন সাহিত্য সম্পর্কে আরও পরিচিত করতে এবং সাহিত্যিক বিনিময় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাংস্কৃতিক কূটনীতির গুরুত্ব
বৈঠকে মোহাম্মদ আসাদি-মোভাহেদ বলেন, এ ধরনের বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সাংস্কৃতিক কূটনীতি শক্তিশালী করা এবং জাতিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, বইমেলা বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিক ও শিল্প-সাংস্কৃতিক সক্ষমতা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রকাশক, লেখক, অনুবাদক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে।
আসাদি-মোভাহেদ জানান, ইরানের সাংস্কৃতিক দপ্তর এই বইমেলায় ইরানি প্রকাশক ও লেখকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি বিশেষভাবে সমকালীন ইরানি সাহিত্য, অনুবাদ সাহিত্য এবং শিশু-কিশোর সাহিত্যের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
তেহরান আন্তর্জাতিক বইমেলায় আমন্ত্রণ
তিনি আর্মেনিয়ার প্রকাশনা ও বই-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের Tehran International Book Fair-এ অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান এবং এটিকে দুই দেশের প্রকাশনা শিল্পের মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক সম্প্রসারণের একটি মূল্যবান সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এছাড়া তিনি প্রস্তাব দেন যে সাহিত্যিক কর্মসূচির পাশাপাশি শিল্প ও সাংস্কৃতিক দলগুলোকেও দুই দেশের যৌথ অনুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে ইরান-আর্মেনিয়া সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক আরও বিস্তৃত হয়।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ বই, প্রকাশনা, অনুবাদ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সংক্রান্ত যৌথ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আপনার কমেন্ট