সোমবার ১৫ জুন ২০২৬ - ১৩:১২
পাকিস্তানের সংস্কৃতির সঙ্গে ফারসি ভাষার গভীর সম্পর্ক রয়েছে

পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ওরঙ্গজেব খান কেহিচি উল্লেখ করেছেন যে, ফারসি ভাষা প্রায় ৮০০ বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের সরকারি ভাষা ছিল। তিনি বলেন, উজ্জ্বল ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কারণে পাকিস্তানের সংস্কৃতির সঙ্গে ইরানের জনগণের ভাষা ফারসির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামী সংস্কৃতি ও যোগাযোগ সংস্থার জনসংযোগ বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে ইরান ও পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ওরঙ্গজেব খান কেহিচি পাকিস্তানে ফারসি ভাষার দীর্ঘ ইতিহাস সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, ফারসি ভাষা ৮০০ বছর ধরে উপমহাদেশ ও পাকিস্তানের সরকারি ভাষা ছিল এবং এ অঞ্চলে এর একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ফারসি ভাষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো মানুষের জীবন থেকে এই ভাষাকে সরিয়ে দিয়ে তাদের ইতিহাস ও অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও দুর্বল করে দিয়েছে।

পাকিস্তানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি-মুকাদ্দাম দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক সম্পর্কের শিকড়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের মুসলিম ও দেশপ্রেমিক জনগণ অনেক দেশের তুলনায় বেশি দৃঢ়ভাবে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং তাদের সংহতি প্রকাশ করেছিল। তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানও সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের আরেকটি উজ্জ্বল প্রতিফলন।

ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর মাজিদ মেশকি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য একাডেমির কাঠামো, দায়িত্ব এবং সম্মানসূচক ও স্থায়ী সদস্য নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য একাডেমিতে পাকিস্তানের চারজন সম্মানসূচক সদস্য রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী দেশটির একটি বিশেষ অবস্থান নির্দেশ করে।

তিনি বলেন, এটি ফারসি ভাষার উন্নয়নে পাকিস্তানি চিন্তাবিদদের মূল্যবান অবদানের স্বীকৃতি এবং দুই দেশের গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন।

ফারসি ভাষার গবেষক প্রফেসর আরিফ নওশাহী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গত ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফারসি ভাষার জন্য তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সম্মানসূচক সদস্যপদ প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এটি ইরানের কৃতজ্ঞতাবোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিশিষ্ট ফারসি ভাষা গবেষক প্রফেসর আরিফ নওশাহী-কে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য একাডেমির সম্মানসূচক সদস্যপদের সনদ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ইরান-পাকিস্তান ফারসি গবেষণা কেন্দ্র এবং গঞ্জবখশ গ্রন্থাগার-এর উদ্যোগে তাঁর রচনাবলির একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha