মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ - ১৩:৪৫
হিজবুল্লাহ: ইরান আজ আঞ্চলিক পরাশক্তি

হিজবুল্লাহ: ইরান আজ আঞ্চলিক পরাশক্তি

লেবানন সরকারকে বিভ্রম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

হিজবুল্লাহর একজন প্রতিনিধি ইরানের প্রশংসা করে বলেছেন, আজ ইরান একটি আঞ্চলিক পরাশক্তি এবং তারা নতুন আঞ্চলিক শৃঙ্খলা গড়ে তুলছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার পর লেবানন ও অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, লেবানিজ পার্লামেন্টে 'লয়্যালটি টু রেজিস্ট্যান্স' ব্লকের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হাসান ইজ্জুদ্দিন আজ এক বক্তব্যে অঞ্চলে ইরানের সমীকরণ প্রতিষ্ঠার সফলতার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, লেবানন সরকারকে অবশ্যই এই বিভ্রম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে যে, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের সহায়তার কথা ভাবছে এবং ইসরায়েলকে তাদের আগ্রাসন বন্ধে চাপ দিচ্ছে।

লেবানন সরকার যেন বিভ্রম ত্যাগ করে জনগণের পাশে দাঁড়ায়

হাসান ইজ্জুদ্দিন যোগ করেন: "ইসরায়েলি শাসনের ওপর প্রকৃত চাপ এসেছিল ইসলামাবাদ আলোচনার মাধ্যমে, যা এই শাসকগোষ্ঠীকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করেছে, যদিও তারা এখনো কিছু এলাকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তিনি আরও বলেন, "আমরা লেবানন সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, জনগণের প্রতি এবং তাদের পছন্দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন; যে জনগণ যুদ্ধক্ষেত্রে দৃঢ় অটল ছিল এবং শত্রুকে হতবিহ্বল ও অসহায় করে তুলেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রতিরোধ এবং জনগণের দৃঢ়তাই শত্রুকে অধিকৃত অঞ্চল থেকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন তারা তাদের রাজনৈতিক পথ এবং জনগণের একটি বিশাল অংশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সংশোধন করে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অংশের মধ্যে জাতীয় সমঝোতার পথ বেছে নেয়, যা নিরাপত্তা ও নাগরিক শান্তির নিশ্চয়তা দেয়।

হিজবুল্লাহর এই প্রতিনিধি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-জায়নবাদী যুদ্ধ এবং ইসলামাবাদ আলোচনার ফলাফল থেকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, ইরানের জনগণ তাদের নেতৃত্বের চারপাশে ঐক্যবদ্ধ থাকার ফলে একটি স্পষ্ট কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে।

ইরান আজ অঞ্চলের পরাশক্তি

হাসান ইজ্জুদ্দিন স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানের এই ঐক্য শত্রু পক্ষকে তাদের উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ করেছে-যেখানে তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানকে মার্কিন আধিপত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করানো, তেহরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা এবং এর ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। ফলস্বরূপ, ইরান আজ একটি বড় আঞ্চলিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং আঞ্চলিক দেশ ও জনগণের পাশে থেকে নতুন আঞ্চলিক শৃঙ্খলার ভবিষ্যৎ রূপ দিচ্ছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় পরাজিত ব্যক্তি হলো জায়নবাদী শাসনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো অঞ্চল পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখতেন। আজ নেতানিয়াহু নিজেকে বড় ধরনের সংকটে দেখছেন এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গোলকধাঁধা এবং যে চরম পরাজয়ের মুখোমুখি তিনি হয়েছেন, তা থেকে মুক্ত হতে অক্ষম।

হিজবুল্লাহর এই জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি আরও বলেন, তৃতীয় বিষয়টি হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের পরাজয়ের শিকার হয়েছেন; তিনি তার কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি এবং কোনো প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করতে পারেননি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে, যা যুদ্ধের আগেও মুক্ত ছিল।

হাসান ইজ্জুদ্দিন পরিশেষে বলেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে আজ পর্যন্ত লেবানন ও এর জনগণের প্রতি তাদের নীতি, অবস্থান, সমর্থন, সাহায্য ও আত্মত্যাগের জন্য আমরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আমরা সমস্ত ইরানিদের তাদের আনুগত্য, সততা এবং আন্তরিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha