হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনকে ইসরায়েলের জন্য সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেছিল তেল আবিব। কিন্তু সাম্প্রতিক ইরান-ট্রাম্প সমঝোতা যে ধারায় মোড় নিয়েছে, তাতে পুরো কৌশলগত হিসেব ওলটপালট হয়ে গেছে। হিব্রু ভাষার প্রভাবশালী সংবাদপত্র 'মা'আরিভ'-এর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এই সমঝোতা ইসরায়েলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
এক ব্যক্তির ওপর নয়, সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত স্বার্থ
তাসনিম নিউজ এজেন্সির হিব্রু বিভাগের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মা'আরিভ স্পষ্ট ভাষায় লিখেছে, তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ ও শক্তিশালী হোক, ইসরায়েলকে এই শিক্ষা নিতে হবে যে কেবলমাত্র একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে সামনের পথ চলা যায় না। একক রাজনৈতিক স্রোতের মধ্যে আবদ্ধ থেকেও কোনো লাভ নেই।
গণমাধ্যমটি আরও যোগ করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের নীতি-নির্ধারকরা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকে সামরিক ও কূটনৈতিক স্বাধীনতার প্রসার ঘটানোর মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখেছিলেন। রিপাবলিকান প্রশাসন তাদের যে 'কার্যক্ষেত্রের বিস্তৃতি' দেবে-এই অনুমানেই তারা বড় অঙ্কের বাজি ধরেছিল।
প্রথমে সফল, শেষে বিপর্যয়
প্রাথমিকভাবে এই বাজি সঠিকই প্রমাণিত হচ্ছিল। ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রায় নিখুঁত সমন্বয় ছিল-যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ দেখা যায় ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় (যাকে অনেকে আগ্রাসন বলছে)।
কিন্তু মা'আরিভ মনে করিয়ে দিচ্ছে, বৈদেশিক নীতি কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের ফসল নয়; এটি পরিচালিত হয় নির্দিষ্ট স্বার্থ দ্বারা। যখন স্বার্থে দ্বন্দ্ব বাধে, তখন ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব যত শক্তই হোক, তা কখনো অবস্থানের সামঞ্জস্যের নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
বিশ্লেষকরা যা বলছেন
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের সাথে ট্রাম্পের এই সমঝোতা ইসরায়েলের জন্য এক ধরনের 'কূটনৈতিক আঘাত'। ইসরায়েল যেখানে ট্রাম্পকে ইরান-বিরোধী আন্দোলনের 'সবচেয়ে বড় মেরুদণ্ড' হিসেবে দেখত, সেখানে তিনি এখন আলোচনার টেবিলে ফিরে এসেছেন-যা তেল আবিবের কৌশলগত ধারণাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছে।
মা'আরিভের প্রতিবেদন শেষ অংশে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, এখন থেকে ইসরায়েলকে বুঝতে হবে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের টেকসই ভিত্তি হতে পারে শুধু পারস্পরিক স্বার্থ-ব্যক্তি বা দল নয়।"
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও একই সুর
শুধু মা'আরিভ নয়, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-ও সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে লিখেছে যে ইরানের মুখোমুখি ট্রাম্প 'কৌশলগত পশ্চাদপসরণে' বাধ্য হয়েছেন। দুই পাশের এই বিশ্লেষণই ইঙ্গিত দেয়, মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে নতুন এক অধ্যায় শুরু হয়েছে-যেখানে ইসরায়েলের পুরোনো হিসেব আর কাজ করছে না।
ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের সমঝোতা ইসরায়েলের জন্য এক বড় কূটনৈতিক ধাক্কা। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর অতিভরসা করে রাখা সেই 'ট্রাম্প-বাজি' এখন ইসরায়েলকে শেখাচ্ছে-আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নির্ভরতা নয়, স্বার্থই শেষ কথা।
আপনার কমেন্ট