হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, কেরমানশাহ প্রদেশের সারপোলে জাহাব শহরের জুমার ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম সাদাতি মহররম মাসের দ্বিতীয় রাতের বক্তৃতায়, আহমদ ইবনে ইসহাক কুম্মি (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি ইসলামের শত্রু ও বিপ্লববিরোধীদের বিরুদ্ধে ইরানি জাতির অব্যাহত দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সমাজে আশুরার আন্দোলনের শিক্ষাগুলোকে কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, মহররমুল হারাম ইসলামী সমাজের জন্য অনেক বড় শিক্ষা বহন করে। ইমাম খোমেনি (রহ.) ইসলামী বিপ্লবকে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে করতেন; এমন একটি আন্দোলন, যার লক্ষ্য ছিল ইসলাম, কুরআন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ সংরক্ষণ করা। ইসলামী বিপ্লবও একই উদ্দেশ্য নিয়ে বিজয় অর্জন করেছিল।
সারপোলে জাহাবের জুমার ইমাম বলেন, আশুরার প্রথম শিক্ষা হলো জুলুম ও অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো। তিনি উল্লেখ করেন, ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর নীতি, শহীদদের পথ অনুসরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ-সবই এই মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। ইসলামী বিপ্লবও গড়ে উঠেছিল অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, তা বিদেশি শক্তির পক্ষ থেকে হোক বা অভ্যন্তরীণ অত্যাচারীদের পক্ষ থেকে।
হুজ্জাতুল ইসলাম সাদাতি বলেন, কারবালার দ্বিতীয় বার্তা হলো সামাজিক সংহতির শক্তি। তিনি বলেন, কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সঙ্গীর সংখ্যা কম হলেও তাদের ঐক্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা সেই আন্দোলনকে চিরস্থায়ী করেছে। আজও ইরানি জাতির ঐক্য ও সংহতির কারণেই শত্রুরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতীক ও সমষ্টিগত স্মৃতির গুরুত্বও আশুরার অন্যতম শিক্ষা। মহররমের শোকানুষ্ঠান, মিছিল, মাতম এবং বিভিন্ন সমাবেশ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ঐতিহাসিক স্মৃতি তৈরি করে। এই স্মৃতি পরবর্তী প্রজন্মকে জানায় যে, এ দেশের মানুষ তাদের আদর্শ ও বিপ্লব রক্ষার জন্য দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল এবং শত্রুদের সামনে মাথা নত করেনি।
সাদাতি জোর দিয়ে বলেন, এ বছরের মহররম অতীতের বছরগুলোর তুলনায় আলাদা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমাদের আরও বেশি করে সচেতনতা বৃদ্ধি, ইতিহাসের পুনরালোচনা এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলনের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে বর্তমান সামাজিক বাস্তবতার মিল খুঁজে দেখার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি নেতৃত্ব ও বিপ্লবের সমর্থনে জনগণের ঐক্য আরও সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেতে হবে।
তিনি হযরত জয়নাব (সা.), ইমাম সাজ্জাদ (আ.) এবং কারবালার অন্যান্য বন্দিদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, যেমন তারা আশুরার ঘটনার পর শহীদ ইমামের বার্তাকে জীবিত রেখেছিলেন, তেমনি আমরাও সেই পথ অনুসরণ করব এবং মহররম থেকে ইসলামের পূর্ণ বিজয়ের জন্য নতুন শিক্ষা গ্রহণ করব।
বক্তব্যের শেষে হুজ্জাতুল ইসলাম সাদাতি আশুরার আন্দোলনের নৈতিক লক্ষ্য ও সাধারণ সহিংসতার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা, সমাজ সংস্কার এবং ইসলামী মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ। আজও শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি হিজাবসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও সামাজিক অবক্ষয় দূরীকরণে কাজ করা প্রয়োজন।
আপনার কমেন্ট