হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আহলে সুন্নতের অন্যতম বিশিষ্ট ও প্রভাবশালী আলেম শামসুদ্দিন জাহাবী তাঁর তারিখুল ইসলাম গ্রন্থে লিখেছেন:
وقال الإمام أحمد في مسنده ثنا محمد بن عبيد ثنا شرحبيل بن مدرك عن عبد الله بن نجي عن أبيه أنه سار مع علي وكان صاحب مطهرته فلما حاذي نينوي وهو سائر إلي صفين فنادي اصبر أبا عبد الله بشط الفرات قلت وما ذاك قال دخلت علي النبي صلي الله عليه وسلم وعيناه تفيضان فقال قام من عندي جبريل فحدثني أن الحسين يقتل بشط الفرات وقال هل لك أن أشمك من تربته قلت نعم فقبض قبضة من تراب فأعطانيها فلم أملك عيني أن فاضتا وروي نحوه ابن سعد عن المدائني عن يحيي بن زكريا عن رجل عن الشعبي أن علياً قال وهو بشط الفرات صبراً أبا عبد الله وذكر الحديث
وقال عمارة بن زاذان ثنا ثابت عن أنس قال استأذن ملك القطر علي النبي صلي الله عليه وسلم في يوم أم سلمة فقال يا أم سلمة احفظي علينا الباب لا يدخل علينا أحد فبينا هي علي الباب إذ جاء الحسين فاقتحم الباب ودخل فجعل يتوثب علي ظهر النبي صلي الله عليه وسلم فجعل النبي صلي الله عليه وسلم يلثمه فقال الملك أتحبه قال نعم قال فإن أمتك ستقتله إن شئت أريتك المكان الذي يقتل فيه قال نعم فجاءه بسهلة أو تراب أحمرقال ثابت فكنا نقول إنها كربلاء
عمارة صالح الحديث رواه الناس عن شيبان عنه
وقال علي بن الحسين بن واقد حدثني أبي ثنا أبو غالب عن أبي أمامة قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم لنسائه لا تبكوا هذا الصبي يعني حسيناً فكان يوم أم سلمة فنزل جبريل فقال رسول الله صلي الله عليه وسلم لأم سلمة لا تدعي أحداً يدخل فجاء حسين فبكي فخلته أم سلمة يدخل فدخل حتي جلس في حجر رسول الله صلي الله عليه وسلم فقال جبريل إن أمتك ستقتله قال يقتلونه وهم مؤمنون قال نعم وأراه تربته رواه الطبراني
وقال إبراهيم بن طهمان عن عباد بن إسحاق وقال خالد بن مخلد واللفظ له ثنا موسي بن يعقوب الزمعي كلاهما عن هاشم بن هاشم الزهري عن عبد الله بن زمعة قال أخبرتني أم سلمة أن رسول الله صلي الله عليه وسلم اضطجع ذات يوم فاستيقظ وهو خاثر ثم اضطجع ثم استيقظ وهو خاثر دون المرة الأولي ثم رقد ثم استيقظ وفي يده تربة حمراء وهو يقبلها فقلت ما هذه التربة قال أخبرني جبريل أن الحسين يقتل بأرض العراق وهذه تربتها
وقال وكيع ثنا عبد الله بن سعيد عن أبيه عن عائشة أو أم سلمة شك عبد الله أن النبي صلي الله عليه وسلم قال لها دخل علي البيت ملك لم يدخل علي قبلها فقال لي إن ابنك هذا حسيناً مقتول وإن شئت أريتك من تربة الأرض التي يقتل بها
رواه عبد الرزاق عن عبد الله بن سعيد بن أبي هند مثله إلا أنه قال أم سلمة ولم يشك
وإسناده صحيح رواه أحمد والناس
وروي عن شهر بن حوشب وأبي وائل كلاهما عن أم سلمة نحوه
(তারিখুল ইসলাম, জাহাবী, খণ্ড ৫ পৃষ্টা ১০২)
আহমদ ইবন হাম্বল তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে,... তিনি আলীর সঙ্গে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর পানির পাত্র বহন করছিলেন। যখন তিনি নাইনাওয়া অঞ্চলে পৌঁছালেন-তখন তিনি সিফফিনের যুদ্ধের দিকে যাচ্ছিলেন-তখন তিনি উচ্চস্বরে বললেন, হে আবা আব্দিল্লাহ! ফুরাত নদীর তীরে ধৈর্য ধারণ করো। আমি বললাম, এর অর্থ কী? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর দুই চোখ অশ্রুতে টইটম্বুর ছিল, যেন ঝরনা প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আমাকে বললেন, কিছুক্ষণ আগে জিবরাইল আমার কাছে এসেছিলেন এবং বলেছিলেন যে হুসাইন ফুরাত নদীর তীরে শহীদ হবেন। এরপর তিনি বললেন, তুমি কি তাঁর মাটির সুগন্ধ অনুভব করতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি এক মুঠো মাটি নিয়ে আমাকে দিলেন। এরপর আমি আমার চোখের অশ্রু সংবরণ করতে পারলাম না।
... আনাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উম্মে সালমার দিনে (যেদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ঘরে অবস্থান করছিলেন) বৃষ্টির ফেরেশতা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তখন তিনি বললেন, হে উম্মে সালমা, দরজার দিকে খেয়াল রেখো, যেন কেউ আমাদের কাছে প্রবেশ না করে। এমন সময় হুসাইন (আ.) এসে জোরাজুরি করে ঘরে প্রবেশ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পিঠে লাফিয়ে উঠলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে চুম্বন করলেন। তখন বৃষ্টির ফেরেশতা বললেন, ‘আপনি কি তাঁকে ভালোবাসেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ ফেরেশতা বললেন, নিশ্চয়ই আপনার উম্মত আপনার পরে তাঁকে হত্যা করবে। আপনি চাইলে আমি তাঁর শাহাদাতের স্থান আপনাকে দেখাতে পারি।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) সম্মতি দিলেন। তখন ফেরেশতা তাঁকে একটি টিলার পাশে অথবা লাল রঙের মাটিযুক্ত একটি স্থানে নিয়ে গেলেন এবং সেই স্থান দেখালেন।
সাবিত বলেছেন: আমরা ওই স্থানকে কারবালা বলে ডাকতাম। আমারাহর বর্ণনাগুলো উত্তম ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীদের বলেছিলেন, এই শিশুটিকে-হুসাইনকে-কাঁদিয়ো না। একদিন উম্মে সালমার পালা ছিল। তখন জিবরাইল (আ.) অবতীর্ণ হলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মে সালমাকে বললেন, কাউকে যেন ঘরে প্রবেশ করতে দিও না। এমন সময় হুসাইন (আ.) এসে কান্না শুরু করলেন। তখন উম্মে সালমা তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। তিনি ঘরে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোলে বসলেন। তখন জিবরাইল (আ.) বললেন, আপনার উম্মত তাঁকে হত্যা করবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, তারা কি তাঁকে হত্যা করবে, অথচ তারা নিজেদের মুমিন বলে দাবি করে?! জিবরাইল (আ.) বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি তাঁর (হুসাইনের) শাহাদাতের স্থানের মাটি (তুরবত) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দেখালেন।
উম্মে সালমা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি উদ্বিগ্ন ও বিষণ্ন অবস্থায় জেগে উঠলেন। এরপর আবার বিশ্রাম নিলেন এবং পুনরায় জেগে উঠলেন, তবে এবার তাঁর উদ্বেগ কিছুটা কম ছিল। তারপর আবার ঘুমালেন এবং জেগে উঠলেন। তখন তাঁর হাতে লাল রঙের কিছু মাটি ছিল, যা তিনি চুম্বন করছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এই মাটি কী? তিনি বললেন, জিবরাইল (আ.) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হুসাইন ইরাকে শহীদ হবেন। আর এটি তাঁর শাহাদাতস্থানের মাটি। ...
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বললেন, একজন ফেরেশতা আমার কাছে এসেছিলেন, যিনি এর আগে কখনও আমার কাছে আসেননি। তিনি বললেন, আপনার পুত্র হুসাইন নিহত হবেন। আপনি চাইলে আমি আপনাকে সেই ভূমির মাটি দেখাতে পারি, যেখানে তিনি নিহত হবেন।
... এর সনদ সহীহ। ইমাম আহমদ এবং আরও কয়েকজন মুহাদ্দিস এ রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করেছেন।
আপনার কমেন্ট