হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইমাম মাহদী (আ.ফা.)’র আবির্ভাব ও শাসনব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা ও অবস্থান বিষয়ক আলোচনার প্রথম পর্বে যেমন বলা হয়েছে, পুরুষ ও নারী উভয়েই আল্লাহর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমানভাবে অংশীদার। এই সাধারণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে তাকওয়া, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ এবং আত্মশুদ্ধি। নারীর ক্ষেত্রে এই আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ হলো লজ্জাশীলতা, পর্দা ও পবিত্রতা রক্ষা।
তবে বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ইসলামি সমাজে এবং বিশেষত ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাবের প্রেক্ষাপট তৈরিতে নারীদের রয়েছে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এই ভূমিকাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সন্তান লালন-পালন বা অন্যভাবে বলা যায় “প্রতীক্ষিত গঠন”।
যদিও সন্তান লালনে পিতা-মাতা উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে, তবুও মাতার ভূমিকা তুলনাহীন ও অসাধারণ। এই ভূমিকা যথাযথভাবে পালন না করা হলে সন্তানের ব্যক্তিত্ব কাঙ্ক্ষিত রূপে গড়ে উঠবে না, যা ঐশী দায়িত্ব পালনের জন্য অপরিহার্য।
ইমাম খোমেনী (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেন,
المرأة إنسان، بل إنسان عظيم. المرأة مربية المجتمع. من حضن المرأة تنشأ الإنسانية. سعادة البلاد وشقاؤها تعتمد على وجود المرأة.
“নারী একজন মানুষ, বরং একজন মহান মানুষ। নারী সমাজের শিক্ষিকা। নারীর কোল থেকেই মানবতা গড়ে ওঠে। দেশগুলোর সুখ ও দুঃখ নারীর অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল।”
(সাহিফা-ই ইমাম, খণ্ড ৭, পৃ. ২৩৯)
এছাড়া ইমাম আলী (আ.) বলেন,
اَلْوَلَدُ مَطْبُوعٌ عَلَى حُبِّ أُمِّهِ.
“সন্তান তার মায়ের ভালোবাসার উপর স্বভাবগতভাবে গঠিত।”
(গুরারুল হিকাম ওয়া দুরারুল কালিম, খণ্ড ১, পৃ. ১০০)
মা ও সন্তানের মধ্যে আল্লাহ তা’আলা যে গভীর ও স্বাভাবিক ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন, তা অন্য কোনো সম্পর্কের সাথে তুলনীয় নয়। এই অনন্য মাতৃস্নেহের মাধ্যমেই মা সন্তানের হৃদয় ও আত্মাকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক গুণে গড়ে তুলতে পারেন এবং তাকে ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আগমনের উপযোগী আদর্শ প্রজন্ম হিসেবে প্রস্তুত করতে সক্ষম হন।
অতএব, সাধারণ ও বিশেষ—উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই বলা যায় যে, ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাবের প্রেক্ষাপট তৈরিতে এবং তাঁর ঐশী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যা কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।
উল্লিখিত বিষয়গুলো ছিল এই আলোচনার সারসংক্ষেপ। তবে এ বিষয়ে আরও কিছু বিষয় বাকি রয়েছে; যেমন—ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর ৩১৩ জন বিশেষ সঙ্গীর মধ্যে নারীদের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি, এবং আবির্ভাবকালে ও পরবর্তী সময়ে নারীদের “রজ‘আত” (পুনরুত্থান) ইত্যাদি।
এসব বিষয় পরবর্তী পর্বে আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
এই আলোচনা এখানেই শেষ নয়; এটি পরবর্তী সংখ্যায় অব্যাহত থাকবে।
আপনার কমেন্ট